বরিশালে পত্রিকা কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ

· Prothom Alo

সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জি

বরিশাল নগরের একটি ভবন থেকে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে সুইসাইড নোটও উদ্ধার করা হয়েছে।

Visit chickenroad.qpon for more information.

আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় নগরের প্যারারা রোডের একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত দৈনিক সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পুলক চ্যাটার্জির লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের আঞ্চলিক কার্যালয় রয়েছে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মেহেদি হাসান বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে খবর পেয়ে তাঁরা প্যারারা রোডের ওই ভবনে যান। সেখানে সমকাল কার্যালয়ে রশি দিয়ে ফাঁস দেওয়া অবস্থায় পুলক চ্যাটার্জির লাশ পাওয়া যায়।

আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ, পুলিশ কমিশনার, বরিশাল মেট্রোপলিটনঘটনাস্থল থেকে কয়েক পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পুলিশ সবকিছু যাচাই-বাছাই করছে। সিআইডির একটি দলও কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

সহকর্মী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোপ্রধান ছিলেন। ২০২৩ সালের দিকে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। তাঁর স্ত্রী ও এক মেয়ে রয়েছে। জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী ও সাবেক ব্যুরোপ্রধান হিসেবে মাঝেমধ্যে তিনি সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয়ে এসে বসতেন এবং পত্রিকা পড়তেন।
পুলক চ্যাটার্জির স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি সাংবাদিকদের বলেন, চাকরি হারানোর পর থেকে তাঁর স্বামী হতাশায় ভুগছিলেন। তবে এ কারণে তিনি আত্মহত্যা করবেন, তা পরিবারের কেউ ভাবেননি। একই ভাষ্য পুলক চ্যাটার্জির ভাই ভূমি কর্মকর্তা দীপক চ্যাটার্জির।

সমকালের বর্তমান ব্যুরোপ্রধান সুমন চৌধুরীর দাবি, সাবেক ব্যুরোপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সংবাদকর্মী হিসেবে পুলক চ্যাটার্জির অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে কার্যালয়ে ঢোকার একটি চাবি তাঁকে দেওয়া হয়েছিল। আজ দিনের কোনো এক সময় ওই চাবি দিয়ে কার্যালয়ে ঢুকে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার সময় পিয়ন দীপকও অফিসে ছিলেন না, তিনি ছুটিতে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, পুলক চ্যাটার্জি শুক্রবার বেলা তিনটার দিকে নগরের শ্রীনাথ চ্যাটার্জী লেনের বাড়ি থেকে বের হন। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলেও ধরছিলেন না। বিষয়টি তাঁর স্ত্রী নীলোৎপলা মুখার্জি সুমন চৌধুরীকে ফোন করে জানান।
সুমন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, সন্ধ্যার সময় তিনি কার্যালয়ে এসে দেখেন, ভেতর থেকে দরজা আটকানো। পরে দরজার ফাঁক দিয়ে পুলক চ্যাটার্জিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে তিনি অন্য সংবাদপত্রের সহকর্মী ও পুলিশকে জানান। পুলিশ এসে দরজা ভেঙে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।

রাত ৯টার দিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ সমকাল কার্যালয়ে যান। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনাস্থল থেকে কয়েক পাতার সুইসাইড নোট উদ্ধার করা হয়েছে। পুলক চ্যাটার্জির লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে মনে হচ্ছে। তবে পুলিশ সবকিছু যাচাই-বাছাই করছে। সিআইডির একটি দলও কাজ করছে। ময়নাতদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুলক চ্যাটার্জি আলাদা কাগজে পাঁচটি সুইসাইড নোট লিখে গেছেন। একটিতে তিনি লিখেছেন, তাঁর এ মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়। অপর চারটি নোট লিখে গেছেন স্ত্রী, ভাই, সমকালের আঞ্চলিক কার্যালয়ের পিয়ন এবং বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ করে।

পুলক চ্যাটার্জির মৃত্যুতে বরিশালের সাংবাদিক ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন বলেন, পুলক চ্যাটার্জি শুধু সাংবাদিকতায় নয়, বরিশালের প্রতিটি সামাজিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনেও ছিলেন অগ্রভাগে। তিনি সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে যে শূন্যতা সৃষ্টি হলো, তা অপুরণীয়। কল্পনাও করা যায়নি তিনি এভাবে অকালে চলে যাবেন।

জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি শাহ সাজেদা বলেন, ‘অত্যন্ত হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত পুলক ছিল বরিশালের সাংবাদিকতা অঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ওর এই অসময়ে চলে যাওয়াটা মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।’

Read full story at source