চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দেওয়া হতো
· Prothom Alo

হলিউডে স্যান্ড্রা বুলকের পরিচিতি তৈরি হয়েছিল মূলত রোমান্টিক কমেডি ও হালকা মেজাজের ছবির অভিনেত্রী হিসেবে। ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’, ‘টু উইকস নোটিশ’, ‘হোপ ফ্লোটস’ বা ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’—একসময় তাঁর নাম মানেই ছিল হাসি, রোমান্স আর বিনোদনের নিশ্চয়তা। কিন্তু ক্যারিয়ারের একটা পর্যায়ে এসে নিজেই সেই পরিচিত গণ্ডি থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কারণ, রোমান্টিক কমেডিতে অভিনয় করতে করতে সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন, আর অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে অন্যভাবে প্রমাণ করতে চাইছিলেন।
সম্প্রতি বন্ধু ও সহ-অভিনেত্রী জেনিফার অ্যানিস্টনের সঙ্গে এক আলাপচারিতায় ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের তিক্ত অভিজ্ঞতাও সামনে এনেছেন স্যান্ড্রা। জানিয়েছেন, অভিনয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে অডিশন দিতে গিয়ে তাঁকে এমন অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল, যা আজও মনে আছে তাঁর।
Visit sportbet.reviews for more information.
নিউইয়র্কে তখন তিনি ওয়েট্রেসের কাজ করতেন। পাশাপাশি অভিনয়ের জন্য অডিশন দিতেন। স্যান্ড্রার ভাষায়, সে সময় এমন অনেক পুরুষের সামনে অডিশন দিতে হয়েছে, যাঁরা তাঁকে চরিত্র পাওয়ার বিনিময়ে আপত্তিকর প্রস্তাব দিতেন। এমনকি কেউ কেউ তাঁকে সরাসরি ‘প্যান্ট খুলতে’ বলতেন।
সেসব প্রস্তাবের জবাবও নাকি স্পষ্ট ছিল তাঁর—‘না, এই চরিত্র আমার জন্য নয়।’ তবে কঠিন সেই সময়টাতেও হাল ছাড়েননি স্যান্ড্রা। তাঁর উপলব্ধি ছিল, একজন সংগ্রামী অভিনেতার সবচেয়ে বড় ভয়—আজকের পর হয়তো আর কোনো কাজ পাওয়া যাবে না। তাই যা পাওয়া যায়, সেটাই গ্রহণ করে নিজের মতো করে এগিয়ে যেতে হয়।
অ্যানিস্টনের সঙ্গে কথোপকথনে স্যান্ড্রা বলেন, অভিনয়জীবনের শুরুতে একজন কর্মরত অভিনেতার মনে সব সময়ই ভয় থাকে, ‘হয়তো আর কখনো কাজ পাব না।’ তাই সুযোগ যত ছোটই হোক, সেটাকে কাজে লাগাতে হয়।
ক্যারিয়ারে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর অবশ্য স্যান্ড্রা বুঝতে পারেন, শুধু পরিচিত ধারায় আটকে থাকলে চলবে না। বিশেষ করে রোমান্টিক কমেডির সাফল্যই একসময় তাঁর জন্য একধরনের ফাঁদ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
স্যান্ড্রা বুলক। রয়টার্স১৯৯৫ সালের ‘হোয়াইল ইউ ওয়ার স্লিপিং’ দিয়ে রোমান্টিক কমেডিতে স্যান্ড্রার জনপ্রিয়তা বাড়ে। এরপর ‘টু ইফ বাই সি’, ‘ফোর্সেস অব নেচার’ আর ‘টু উইকস নোটিশ’ ছবিতে তাঁকে দেখা যায়। ১৯৯৮ সালের ‘হোপ ফ্লটস’ ও ২০০০ সালের ‘মিস কনজেনিয়ালিটি’ও তাঁর তারকাখ্যাতি আরও বাড়িয়ে দেয়।
বিশেষ করে হিউ গ্র্যান্টের সঙ্গে ‘টু উইকস নোটিশ’ বক্স অফিসে সাফল্য পাওয়ার পর তাঁর সামনে রোমান্টিক কমেডির আরও অনেক সুযোগ আসতে পারত। কিন্তু তখনই স্যান্ড্রা উল্টো পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি উপলব্ধি করেন, দর্শক ও চলচ্চিত্রশিল্পের একটি বড় অংশ তাঁকে নির্দিষ্ট ধরনের চরিত্রের অভিনেত্রী হিসেবে দেখতে শুরু করেছে।
তাই মধ্য ২০০০-এর দশকে রোমান্টিক কমেডি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
স্যান্ড্রা বুলক। আইএমডিবিঅ্যানিস্টনকে স্যান্ড্রা বলেন, ক্যারিয়ারে খুব সচেতনভাবে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর একটি ছিল—‘আমাকে এখন রোমান্টিক কমেডি থেকে বিরতি নিতে হবে।’ কারণ, ওই ছবিগুলোর জন্য তখন তিনি অনেক সমালোচনা শুনছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, অভিনয়ের অন্য দিকগুলোও দেখাতে।
সেই সিদ্ধান্তের পর আসে ‘ক্রাশ’। ২০০৪ সালের এই ছবিতে আগের পরিচিত স্যান্ড্রা বুলককে পাওয়া যায়নি। এটি ছিল অনেক বেশি নাটকীয় কাজ। ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দেখিয়ে দেন, শুধু রোমান্টিক কমেডির নায়িকা নন, গুরুতর চরিত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষমতা তাঁর আছে।
ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের শুটিংয়ে এখন থাকেন ‘বিশেষ’ একজন, কী তাঁর কাজস্যান্ড্রার এ সিদ্ধান্ত যে ঝুঁকিপূর্ণ ছিল, সেটিও তিনি জানতেন। অ্যানিস্টন তাঁকে বলেন, নিজের স্বাচ্ছন্দ্যের জায়গা কমেডি ছেড়ে নাটকের জগতে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করা যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে চলচ্চিত্রশিল্পে কমেডিকে অনেক সময় নাটকের তুলনায় কম গুরুত্ব দেওয়া হয়। অথচ ভালো কমেডি করা মোটেও সহজ নয়।
স্যান্ড্রার জবাব ছিল আরও চমকপ্রদ। তিনি জানান, এখন বরং তাঁর কমেডিই বেশি করতে ইচ্ছে করে। অর্থাৎ যে ঘরানা থেকে একসময় নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে সেটিই আবার তাঁর কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
‘ক্রাশ’ অবশ্য তাঁর সেই ঝুঁকির যথার্থ মূল্য দিয়েছিল। ছবিটি সেরা ছবির অস্কার জেতে এবং স্যান্ড্রা পান স্ক্রিন অ্যাক্টরস গিল্ড অ্যাওয়ার্ডে সেরা সম্মিলিত অভিনয়ের পুরস্কার। তবে সেখানেই তাঁর নাটকীয় অভিনয়ের যাত্রা থেমে থাকেনি।
২০০৯ সালে আবার রোমান্টিক কমেডিতে ফিরে আসেন স্যান্ড্রা। হিউ গ্র্যান্টের বদলে এবার তাঁর সঙ্গী ছিলেন রায়ান রেনল্ডস—ছবির নাম ‘দ্য প্রোপোজাল’। ছবিটি বড় বাণিজ্যিক সাফল্য পায়। একই বছর মুক্তি পাওয়া ‘অল অ্যাবাউট স্টিভ’ অবশ্য সেভাবে সফল হয়নি। বরং ওই ছবির জন্য স্যান্ড্রা পেয়েছিলেন গোল্ডেন রেজি অ্যাওয়ার্ডে বাজে অভিনেত্রীর পুরস্কার।
কিন্তু একই বছরে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ব্লাইন্ড সাইড’ তাঁর ক্যারিয়ারে আরও বড় মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। ছবিটির জন্য স্যান্ড্রা বুলক সেরা অভিনেত্রী হিসেবে অস্কার জেতেন। তবে এত সাফল্যের পরও রোমান্টিক কমেডির দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি তিনি। ২০২২ সালে চ্যানিং ট্যাটামের সঙ্গে ‘দ্য লস্ট সিটি’ ছবিতে অভিনয় করেন স্যান্ড্রা। মহামারির পর এটি বক্স অফিসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায় এবং বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৯২ মিলিয়ন ডলার আয় করে।
ভ্যারাইটি অবলম্বনে