বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়: অধ্যাপক পদে ২৩ জনের পদোন্নতি, একজনের না হওয়ায় প্রশ্ন
· Prothom Alo

নানা জটিলতার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়েছেন ২৩ জন শিক্ষক। রোববার তাঁরা অধ্যাপক পদে যোগদানও করেছেন। তবে একই সঙ্গে পদোন্নতিপ্রত্যাশী মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আবদুল কাইয়ুমকে পদোন্নতি না দিয়ে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার সুপারিশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, আবদুল কাইয়ুমকে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ‘দোসর’ আখ্যায়িত করে পদোন্নতির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
Visit betsport.cv for more information.
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে অধ্যাপক পদে পদোন্নতির জন্য বোর্ড বসা শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) আপত্তির কারণে এ প্রক্রিয়া আটকে যায়। গত ২৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ২৪ শিক্ষকের অধ্যাপক পদে পদোন্নতির বিষয়টি উপস্থাপন করা হলে তাঁদের মধ্য থেকে ২৩ শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। ওই সভায় শিক্ষক আবদুল কাইয়ুমের বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত হয় বলে সিন্ডিকেটের দুজন সদস্য জানিয়েছেন।
অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পাওয়া ২৩ শিক্ষক হলেন কোস্টাল স্টাডিজ অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগের হাফিজ আশরাফুল হক, ইতিহাস বিভাগের আবদুল বাতেন চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তারেক মাহমুদ আবির, রসায়ন বিভাগের হালিমা বেগম, নাজমুল কায়েস, মাসুদ পারভেজ ও গাজী জহিরুল ইসলাম, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রবীর কুমার ভৌমিক, মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগের জামাল উদ্দিন, গণিত বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, বিজন কৃষ্ণ সাহা, হেনা রানী বিশ্বাস ও শফিউল আলম, কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের রাহাত হোসাইন ফয়সাল, লোকপ্রশাসন বিভাগের ইশরাত জাহান লিজা, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের ধীমান কুমার রায়, উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সুব্রত কুমার দাস, ব্যবস্থাপনা বিভাগের শাখাওয়াত হোসেন, আবদুল্লাহ আল মাসুদ, তাজিজুর রহমান ও সোহেল চৌধুরী, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সাদিকুর রহমান এবং ব্যবস্থাপনা বিভাগের আলমগীর মোল্লা।
পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সিন্ডিকেটের একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, ‘এর আগে সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় আমাদের মতামত ছিল, যাঁরা আগে অধ্যাপক হওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। তবে সভায় একজন সদস্য মত দিয়েছিলেন, যাঁরা ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া ঠিক হবে না। এরপর কী হয়েছে, তা বলতে পারব না।’ তিনি জানান, এ বিষয়ে পরবর্তী সভায় আলোচনা করবেন।
আবদুল কাইয়ুম, পদোন্নতি আটকে যাওয়া শিক্ষক কেন আমাকে পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, সেটা বুঝতে পারছি না। তবে আমার পদোন্নতির সব শর্ত পূরণ হয়েছে বহু আগেই। তারপরও কেন, কী কারণে এটা হয়নি, আমি জানি না। তবে এটা আমার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।এদিকে একজন শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ আখ্যা দিয়ে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করার ঘটনায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফেসবুকের ‘লিংকার্স ইন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়’ গ্রুপে শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে নানা মন্তব্য করছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনজন শিক্ষক প্রথম আলোকে বলেন, আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকায় শিক্ষক-কর্মকর্তাদের সরকারের নানা কর্মসূচিতে যোগ দিতে হয়েছে। এটা সবাই করেছেন। এ জন্য একজন যোগ্য শিক্ষককে ‘ফ্যাসিস্ট’ তকমা দিয়ে পদোন্নতি আটকে দেওয়া অন্যায়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকদের পদোন্নতির জটিলতা নিরসনের দাবিতে কমপ্লিট শাটডাউনমামুন অর রশিদ, উপাচার্য সিন্ডিকেট মনে করেছে তাঁর (কাউয়ুম) বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করা দরকার। তাই তাঁর পদোন্নতি হয়নি।এ বিষয়ে উপাচার্য মামুন অর রশিদ প্রথম আলোকে বলেন, সিন্ডিকেট মনে করেছে তাঁর (কাউয়ুম) বিষয়টি অধিকতর পর্যালোচনা করা দরকার। তাই তাঁর পদোন্নতি হয়নি। ‘ফ্যাসিস্টের দোসর’ হওয়ায় পদোন্নতি না হওয়ার অভিযোগের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, ‘না, এমন কোনো বিষয় নেই।’
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬০ শিক্ষকের পদোন্নতির দাবিতে গত ২১ এপ্রিল আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকেরা। একপর্যায়ে তাঁরা তৎকালীন উপাচার্য মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। ২৮ এপ্রিল অসহযোগ আন্দোলনের ঘোষণা দেন শিক্ষকেরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম কার্যত অচল হয়ে পড়ে। পরে মোহাম্মদ তৌফিক আলমকে অব্যাহতি দিয়ে মামুন অর রশিদকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর শিক্ষকেরা আন্দোলন স্থগিত করেন।
শিক্ষকদের আন্দোলনে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় অচলাবস্থা, সেশনজটের শঙ্কায় শিক্ষার্থীরা