এমন ঘটনা ঘটেনি আর, একসঙ্গে সেদিন খেলেছিলেন তিন জোড়া ভাই

· Prothom Alo

ভাই…

Visit amunra-online.pl for more information.

কারও কারও রক্তের বন্ধনের বাইরে গিয়েও হয়তো প্রিয় বন্ধু। বহু স্মৃতি জমা একসঙ্গে। অনেক প্রথমের সাক্ষীও। একসঙ্গে বিকেলের ক্রিকেটও কি আপনার শুরু হয়েছিল ভাইয়ের সঙ্গে? পাড়ার দলে তাহলে একসঙ্গে খেলেছেনও নিশ্চয়ই!

এতটুকুতেই দুই ভাইয়ের ক্রিকেট থমকে গেলে একটু মন খারাপ হওয়ার কথা। বিশেষ করে টিভিতে যখন ভিনদেশি ভাইদের দেশের হয়ে খেলতে দেখেছেন তখন হয়তো মনে হয়েছে— আরে আমরাও তো…। এটুকুতেই আপাতত থামা যাক।

ক্রিকেটের অনেক বিখ্যাত ভাইদের কথা তো আপনার জানাই থাকার কথা। পাকিস্তানের মোহাম্মদ ভাইয়েরা একসঙ্গে জাতীয় দলে খেলেছেন, অস্ট্রেলিয়ার ওয়াহ কিংবা চ্যাপেল ভাইরাও দুনিয়াজুড়ে খ্যাতি কুড়িয়েছেন একসঙ্গে।

কিন্তু ভাইদের একসঙ্গে খেলার একটা বিরল কীর্তি আসলে জিম্বাবুয়ের। এক, দুজন নয়, ১৯৯৭ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে একসঙ্গে খেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের তিন জোড়া ভাই। ঘটনাটা ঘটেছিল আজকের এই দিন মানে ১৮ সেপ্টেম্বর। ক্রিকেটের প্রায় ১৫০ বছরের ইতিহাসের আগে কিংবা পরে আর এই ঘটনা ঘটেনি।

কী ঘটেছিল সেই ম্যাচে

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হয়ে ওপেনিং করেছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার আর গ্যাভিন রেনি। ২৩ রানে গ্যাভিন আউট হয়ে যাওয়ার পর গ্র্যান্ট জুটি বেঁধেছিলেন তাঁর ভাই অ্যান্ডির সঙ্গে। গ্যাভিনের ভাই জন রেনি ছিলেন বোলার।

জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের কিংবদন্তি হয়ে আছেন দুই ভাই অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (বাঁয়ে) ও গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার

এই দুই জোড়া ভাইয়ের সঙ্গে এই ম্যাচে খেলেছিলেন স্ট্র্যাং ভাইয়েরাও। ৭ নম্বরে ব্যাট করতে নেমেছিলেন পল স্ট্র্যাং, তাঁর ভাই বাঁহাতি পেসার ব্রায়ান স্ট্র্যাংও খেলেছিলেন ম্যাচটা। তিন জোড়া ভাইয়ের কথা পড়তে পড়তেই কি ক্লান্ত লাগছে? এই ম্যাচে চার নম্বরে ব্যাট করা গাই হুইটালের চাচাতো ভাই অ্যান্ডি হুইটাল ছিলেন দলের ১২তম সদস্য!

এতটুকু পড়ে আপনার নিশ্চয়ই তাদের পারফরম্যান্স কী ছিল তাও জানতে ইচ্ছে করছে? নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে হারারেতে টেস্টটা ড্র করেছিল জিম্বাবুয়ে। শেষদিনে ক্রিস কেয়ার্নসের অপরাজিত ৭১ রানই তাতে মুখ্য ভূমিকা রেখেছে।

ভাইদের মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছিলেন গ্র্যান্ট ফ্লাওয়ার। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ১০৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫১ রান এসেছিল তাঁর ব্যাট থেকে। তাঁর ভাই অ্যান্ডির যদিও ম্যাচটা ভালো যায়নি, দুই ইনিংসে যথাক্রমে তিনি করেছিলেন ৮ ও ২০ রান।

দ্বিতীয় ইনিংসে ফিফটি পেয়েছিলেন রেনি ভাইদের গ্যাভিন। তাঁর ভাই জন দুই ইনিংসে কোনো উইকেট পাননি, তবে ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে ২২ আর পরের ইনিংসে ১৬ রান করেন। এই ম্যাচের পর আর কখনোই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা হয়নি তাঁর।

স্ট্র্যাং ভাইরাও মন্দ করেননি—পল প্রথম ইনিংসে ৪২ রান করেছিলেন। দুই ভাই মিলে দুই ইনিংস মিলিয়ে বল হাতেও পেয়েছেন ৮ উইকেট।  

ক্রিকেটের আরও ভাইয়েরা

ক্রিকেটে ভাইদের একসঙ্গে খেলার গল্পটা কিন্তু একেবারে শুরু থেকেই। ১৮৭৭ সালে মেলবোর্নে খেলা প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক ছিলেন ডেভ গ্রেগরি, তাঁর ভাই নেডও খেলেছিলেন ওই ম্যাচে। দুই ভাইয়ের কারও ক্যারিয়ারই খুব দীর্ঘ ছিল না। তবে ডেভের ছেলে সিড ১৮৯০ থেকে ১৯১২ সালের মধ্যে ৫৮টি টেস্টে খেলেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।

গ্রেগ চ্যাপেল এবং ইয়ান চ্যাপেল—দুই ভাই

সেই যে শুরু, পরিবারের গল্পটা পরে এগিয়েছে সমান তালে। ভাইয়েরা উইকেটে একে অপরের সঙ্গী হয়েছেন, ছেলেরা হেঁটেছেন তাঁদের বাবার পদচিহ্ন ধরে, কখনো কখনো ভাইয়ের ছেলে কিংবা নাতিরা ক্রিকেট মাঠে উজ্জ্বল করেছেন পরিবারের নাম।

এ নিয়ে অদ্ভুত অনেক গল্পও আছে। ইংল্যান্ডের হিয়ার্ন পরিবারের ভাইদের কথাই ধরুন। অ্যালেক ও জ্যাক ইংল্যান্ডের হয়ে একসঙ্গে অভিষেক হয়, তাদের আরেক ভাই ফ্র্যাঙ্ক ওই ম্যাচেই আবার খেলছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে।

পাকিস্তানের মোহাম্মদ ভাইদের কথা তো সবারই শোনারই কথা। দুই, তিন, এমনকি চারজনও একসঙ্গে খেলেছেন তারা। ১৯৮৪ সালে ওয়াসিম রাজা ও রমিজ রাজাও পাকিস্তানের হয়ে খেলেছিলেন একসঙ্গে।
ভারতে এমন গল্পের শুরুটা হয়েছিল লালা অমর সিং ও লালা রামজিকে দিয়ে আর সবশেষে অমরনাথ পরিবারে— লাল অমরনাথের ছেলে মহিন্দর ও সুরিন্দরও খেলেছেন দেশের হয়ে।

শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে অর্জুনা রানাতুঙ্গা যখন দাপট দেখাচ্ছেন, তখন তাঁর কয়েকজন ভাইও জাতীয় দলের তালিকায় অল্প সময়ের জন্য ছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজে ছিলেন সম্প্রতি ব্রাভো ভাইয়েরাও খেলছেন।

নিউজিল্যান্ড থেকেও এসেছে কিছু প্রভাবশালী জুটি—কিংবদন্তি রিচার্ড হ্যাডলি ও তাঁর ভাই ডেল, এবং ক্রো পরিবারের মার্টিন ও জেফ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের হয়ে।

বিসিবির প্রধান নির্বাচক ও সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীন। তাঁর ভাই নুরুল আবেদীনও খেলেছেন বাংলাদেশের হয়ে

তবে অস্ট্রেলিয়ার ভাইদের গল্পটা একটু বেশি লম্বা। ক্রিকেট বিশ্বকে প্রতিভাবান ভাইদের উপহার দিয়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া। গ্রেগ ও ইয়ান চ্যাপেল বহু বছর ধরে দেশটির ক্রিকেটের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের ভাই ট্রেভরও খেলেছেন ৩ টেস্ট ও ২০ ওয়ানডেতে। স্টিভ ও মার্ক ওয়াহ ভাইয়েরাও পরে তাদের গল্প লিখেছেন নিজেদের মতো করে। ডেভিড আর মাইক হাসিও।

দক্ষিণ আফ্রিকার ভাইয়েরাও বিখ্যাত হয়েছেন বেশ। বর্ণবাদজনিত নির্বাসনের কারণে ক্যারিয়ার থমকে যাওয়ার আগে, ষাটের দশকে গ্রায়েম ও পিটার পোলক বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিলেন। পিটার ও গ্যারি কারস্টেন টেস্ট ম্যাচে একসঙ্গে ওপেনও করেছেন।

এমন একটা গল্প কিন্তু আছে বাংলাদেশেও—জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক মিনহাজুল আবেদীনকে চেনার কথা, পরে তিনি জাতীয় দলের প্রধান নির্বাচক ছিলেন, এখন বিসিবির পরিচালকও। তাঁর ভাই নুরুল আবেদীনও বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন।

হাসান নন, আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড় দিনুশা

Read full story at source