সেলাই মেশিনের শব্দের ফাঁকে শরীফের স্বপ্ন
· Prothom Alo
এক হাতে বই, অন্য হাতে সেলাইয়ের কাজ। এভাবেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শরীফ আহমেদ। বয়স কম হলেও পরিবারের দায়িত্ব যেন তাকে অনেক আগেই বড় করে দিয়েছে। ভোলার দৌলতখান উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের মদনপুর আলোর পাঠশালার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র শরীফ। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে সে তৃতীয়। তার বাবা একজন কৃষক ও দিনমজুর। অন্যের জমিতে কাজ করে কিংবা দিনমজুরি করে যে সামান্য আয় হয়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। কিন্তু ছয় সদস্যের এই পরিবারের সব খরচ বাবার একার পক্ষে বহন করা প্রায় অসম্ভব। শরীফের বড় দুই ভাই বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ফলে সংসারের অভাব যেন প্রতিদিনই নতুন করে সামনে এসে দাঁড়ায়।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
এই বাস্তবতার মধ্যেও পড়াশোনা থামিয়ে দেয়নি শরীফ। বিদ্যালয়ের পড়াশোনার পাশাপাশি অন্যের দোকানে সেলাইয়ের কাজ করে সে। সেলাই করে যে সামান্য আয় হয় তা দিয়ে পরিবারের খরচে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজের পড়াশোনাটাও চালিয়ে যাচ্ছে সে। দিনের একটি অংশ কাটে বিদ্যালয়ে আর বাকিটা সেলাইয়ের দোকানে। ক্লান্ত শরীর নিয়েও বই খুলে বসে শরীফ। কারণ তার কাছে পড়াশোনা শুধু বিদ্যালয়ে যাওয়ার নাম নয়, এটি নিজের জীবন বদলে দেওয়ার এক দূরদর্শী স্বপ্ন।
উল্লেখ্য, মদনপুর ইউনিয়নটি দীর্ঘদিন ধরে নানা নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এখানকার দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অনেকটা স্বপ্নের মতো। অনেক শিশুকাল থেকেই অভাবের তাড়নায় কাজে নেমে পড়তে হয়। এমন বাস্তবতায় প্রথম আলো ট্রাস্ট পরিচালিত মদনপুর আলোর পাঠশালা এই শিশুদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে, যেখানে তারা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছে। অভাব পথ আটকে দিতে চাইলেও শরীফের মতো অদম্য শিশুরা থামতে রাজি নয়। সুযোগ ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে মদনপুরের এই শিশুরাও একদিন নিজেদের জীবন বদলে দিয়ে সাফল্যের নতুন গল্প তৈরি করতে পারবে।