করোনা চিকিৎসার নামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয় মামলা
· Prothom Alo

করোনা মহামারির সময় চিকিৎসা ও সুরক্ষা সামগ্রী কেনাকাটায় অনিয়মের মাধ্যমে ১২ কোটি ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ সোমবার দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান কমিশনের সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমান খান।
Visit betsport24.es for more information.
দুদকের অনুসন্ধানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যানডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস (ইআরপিপি)’ প্রকল্পের ছয়টি প্যাকেজে অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। পৃথক ছয়টি অনুসন্ধান প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা করার সুপারিশের পর কমিশন এসব মামলা অনুমোদন করে।
জাহিদ মালেক ছাড়া মামলাগুলোর আসামিরা হলেন কোভিড-১৯ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ডা. মো. ইকবাল কবির, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, সাবেক সহকারী পরিচালক ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত এবং মেডিকেল অফিসার ডা. অনির্বান সরকার।
এ ছাড়া জাদিদ অটোমোবাইলসের স্বত্বাধিকারী কাজী শামীমুজ্জামান, ই-মিউজিকের স্বত্বাধিকারী মো. হোসনী ইয়ামিন, ব্রেন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী রইসুল কবীর, ইনশা ট্রেড করপোরেশনের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, সিম করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা অংশীদার মো. মোস্তফা মনোয়ার এবং এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেডের স্বত্বাধিকারী মো. সাইফুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ক্ষমতার অপব্যবহার, অপরাধমূলক অসদাচরণ, বিশ্বাসভঙ্গ ও প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। মামলাগুলোতে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ১২০বি ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
ছয় প্যাকেজে অনিয়মের অভিযোগ
প্রথম মামলায় জাহিদ মালেকসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। ইআরপিপি প্রকল্পের প্যাকেজ জিডি-০১-এর আওতায় কেএন৯৫ ও এন৯৫ মাস্ক এবং হ্যান্ড গ্লাভস কেনায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলায় ছয়জনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-১৩-এর আওতায় পাঁচ ও তিন ফাংশনের বৈদ্যুতিক হাসপাতাল বেড কেনায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
তৃতীয় মামলায় জাহিদ মালেকসহ আটজনকে আসামি করা হয়েছে। প্যাকেজ জিডি-০৫-এর আওতায় করোনা মহামারিতে ব্যবহারের জন্য কেএন৯৫ মাস্ক কেনায় ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
চতুর্থ মামলায় চারজনকে আসামি করা হয়েছে। প্যাকেজ এসডি-০২-এর আওতায় জনসচেতনতা, শিক্ষা, ঝুঁকি যোগাযোগ ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে টিভিসি প্রচারের জন্য সেবা কেনার ক্ষেত্রে টিভিসি প্রচার না করেই ৬২ লাখ ৭৩ হাজার ৪৭০ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
পঞ্চম মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ জিডি-০৮-এর আওতায় হ্যান্ডহেল্ড থার্মোমিটার, কেএন৯৫ মাস্কসহ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল সামগ্রী কেনায় ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা ৫০ পয়সা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।
ষষ্ঠ মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে প্যাকেজ এসডি-০১-এর আওতায় ‘করোনাবিড মোবাইল অ্যাপ’ ও ‘ন্যাশনাল করোনা কেয়ার সিস্টেম সেন্ট্রাল ওয়েব-অ্যাপ্লিকেশন’ সেবা কেনার ক্ষেত্রে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে থাকায় কোভিড-১৯ মোকাবিলায় জরুরি পণ্য ও সেবা কেনার জন্য বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে ইআরপিপি প্রকল্প অনুমোদন করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ছয়টি প্যাকেজে বিভিন্ন চিকিৎসাসামগ্রী ও সেবা কেনা হয়।