বাংলা কিউআরের মার্চেন্ট বেড়ে ৩৭ লাখ, শীর্ষে বিকাশ ও দ্বিতীয় পূবালী ব্যাংক
· Prothom Alo

মানুষের কেনাকাটার বিল সহজে পরিশোধের জন্য চালু হওয়া ‘বাংলা কিউআর’ কোডের ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। বাংলা কিউআর বাধ্যতামূলক করার পর গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশজুড়ে ৩৭ লাখের বেশি মার্চেন্ট কিউআর কোড স্থাপন করেছে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান। এখন প্রতিদিন গড়ে ১৩২ কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে কিউআর কোডে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
Visit goldparty.lat for more information.
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, গত জুলাইয়ে লেনদেনের ক্ষেত্রে বাংলা কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করা হয়। ফলে দেশের সব ব্যাংক ও এমএফএস বাধ্য হয়ে নিজস্ব কোডের পরিবর্তে পণ্য ও সেবা বিক্রেতাদের (মার্চেন্ট) কাছে বাংলা কিউআর কোড স্থাপন করছে।
এই মার্চেন্টদের এক ব্যাংক বা এমএফএস হিসাবের বিপরীতে বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস প্রতিষ্ঠান চার থেকে পাঁচটি পর্যন্ত বাংলা কিউআর কোড দিয়েছে। এতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মার্চেন্টরা নগদ অর্থ উত্তোলনের বিকল্প ব্যবস্থা হয়ে উঠেছে। গ্রামগঞ্জের দোকানদার থেকে শুরু করে বড় বড় সেবা ও পণ্য বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান এই মার্চেন্টের তালিকায় রয়েছে। ফলে বিপুলসংখ্যক মার্চেন্টের প্রভাবে ভেঙে পড়েছে এমএফএসে এজেন্ট ইকোসিস্টেম।
বাংলা কিউআরে শীর্ষে কারা
দেশজুড়ে স্থাপন করা ৩৭ লাখ ৫৩ হাজার বাংলা কিউআর মার্চেন্ট সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে অবস্থান করছে বিকাশ। বিকাশের বাংলা কিউআর মার্চেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৫ হাজার ৩৫৭। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পূবালী ব্যাংক, যাদের মার্চেন্ট সংখ্যা ৪ লাখ ২৭ হাজার ৬৬৩।
তালিকার তিন লাখের বেশি মার্চেন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি ৩ লাখ ১১ হাজার ৯৩৭ কোড স্থাপন করেছে। এ ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সোনালী ব্যাংক ২ লাখ ৭২ হাজার ৫০৭টি মার্চেন্ট নিয়ে চতুর্থ এবং অগ্রণী ব্যাংক ২ লাখ ৬৮ হাজার ৩টি মার্চেন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে অবস্থান করছে।
এদিকে ট্যালি পে বসিয়েছে ২ লাখ ৬ হাজার ১৮৯টি কোড। এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক বসিয়েছে ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩৫ কোড, রকেট বসিয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৬২৫ কোড, জনতা ব্যাংক বসিয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার ২০৯টি কোড, সেবা ফিনটেক লিমিটেড বসিয়েছে ১ লাখ ১৯ হাজার ৫৮টি ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১ লাখ ১১ হাজার ৮৩৯টি কোড।
অক্টোবরে আসছে বিশেষ সুবিধা
বাংলাদেশ ব্যাংক আগামী অক্টোবর থেকে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে অর্থ গ্রহণে বিক্রেতাদের খরচ শূন্য করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ফলে গ্রাহকের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ ও নগদে তা গ্রাহককে ফেরত দিতে কোনো মাশুল দিতে হবে না মার্চেন্টদের।
তার বিপরীতে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো এমএফএসের এজেন্ট থেকে ক্যাশ আউটে নির্দিষ্ট অঙ্কের ফি দিতে হবে। এই ফি বাবদ এমএফএস প্রতিষ্ঠানগুলো যে অর্থ পায়, তার মধ্যে প্রতি হাজারের জন্য সরকারকে রাজস্ব দেয় তিন টাকার বেশি। কিন্তু মার্চেন্টদের মাধ্যমে অর্থ তুললে কোনো খরচ নেই। আবার সরকারকে কোনো রাজস্ব দিতে হবে না মার্চেন্টদের। ফলে এই কিউআর কোড ব্যবহার করে মার্চেন্টদের কাছ থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন গ্রাহক ও মার্চেন্ট উভয়ের জন্য লাভজনক। সরকার ও এমএফএস প্রতিষ্ঠানের জন্য তা বড় ব্যবসায়িক প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
এদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সম্প্রতি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ধরনের কোম্পানির জন্য লেনদেনে বড় ছাড় দিয়েছে। সেই অনুযায়ী বছরে দুই কোটি টাকা পর্যন্ত লেনদেনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিকে কোনো টার্নওভার বা লেনদেন কর দিতে হবে না। এই সুবিধার কারণে কিউআর কোডে অর্থ স্থানান্তর করে নগদে তা গ্রাহককে পরিশোধে করের কোনো ঝামেলায়ও পড়তে হবে না অনেক মার্চেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে, এমনটি মনে করছেন এ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।