যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু: রিজভী
· Prothom Alo

যারা সন্ত্রাসী, যারা আগুন লাগাচ্ছে, যারা বোমাবাজি করছে, তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার শত্রু, গণতন্ত্রের শত্রু বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, এই যে পরিকল্পিত ঘটনা, আজকে পত্রিকায় এসেছে বিদেশি নম্বর থেকে নির্দেশনা আসছে। কে এই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের নির্দেশ দিচ্ছে? ফোন নম্বরটি হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশের। তাহলে বুঝুন, ষড়যন্ত্রের গভীরতা কত দূরে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসের’ মাধ্যমে দেশব্যাপী নৈরাজ্যের প্রতিবাদে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এ কথা বলেছেন রুহুল কবির রিজভী। বৃহস্পতিবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। পরে মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করে শাহবাগ জাতীয় জাদুঘরের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। এতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা–কর্মীরা অংশ নেন।
Visit freshyourfeel.org for more information.
সমাবেশে রুহুল কবির রিজভী ছাড়াও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বক্তব্য দেন।
সমাবেশে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কে জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে বক্তব্য রাখছেন এবং সেখানে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে প্রত্যাবাসনের কথা, জ্বালানিসংকট, গ্যাসের সংকট নিয়ে কথা বলা হচ্ছে। যদি গ্যাস সহজলভ্য হয়, যদি জ্বালানি তেলের জাহাজগুলো আসা শুরু করে, তাহলে আবারও মূল্য সমন্বয় করা হবে।
সমাবেশে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগের নৈরাজ্য দেখেছি, আমরা তাদের ফ্যাসিস্ট ভূমিকা দেখেছি। আজকে এই সংগঠন সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। তাদের দুর্নীতি-দুঃশাসন আমরা দেখেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছুদিন যাবৎ ওই নিষিদ্ধ সংগঠন আরেকটা ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বিভিন্নভাবে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ কায়েম করতে চায়। তারা পালিয়েছে ৫ আগস্ট। দেশের বাইরেও ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। দেশের ভিতরে থেকেও অনেকেই আরেকটা অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। দুইটা অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই-সংগ্রাম চলছে।’
বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন এই বিধ্বস্ত অর্থনীতিকে সচল করার জন্য, নতুন বাংলায় যাওয়ার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক তখনই এই আট মাসের সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য প্রতিষ্ঠিত একটি মহল এবং দেশের মধ্যে ঘাপটি মেরে থাকা একটি চক্র বাংলাদেশের উন্নয়নকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেশ কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় বাসে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। মানুষের স্বাভাবিক জীবনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে উন্নয়নকে ব্যাহত করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা যেভাবে ফ্যাসিস্টদের কোনো আস্তানা রাখতে দেব না, ঠিক একইভাবে আমরা আজকের থেকে প্রতিজ্ঞা করছি, যারা কালচারাল ফ্যাসিস্ট, যারা ছাত্রলীগ-যুবলীগের সন্ত্রাসীদের বাংলাদেশে পুনর্বাসন করতে চায়, তাদের আমরা সরাসরি প্রতিহত করব।’