বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি: ভুয়া নিয়োগ ও ভিসা স্পনসরশিপের ফাঁদ চিনবেন যেভাবে
· Prothom Alo

বিদেশে পড়াশোনা শেষে চাকরি খোঁজা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তবে প্রকৃত চাকরির সুযোগের পাশাপাশি ভুয়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, প্রতারক নিয়োগদাতা ও ভিসা স্পনসরশিপের নামে প্রতারণার ঝুঁকিও রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় চাকরির বিজ্ঞাপন কিংবা পেশাদার পরিচয়ের কোনো নিয়োগকারীর বার্তা পেলেই তা বিশ্বাস না করে যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
চাকরির বিজ্ঞাপন যাচাই করুন
Visit sportbet.rodeo for more information.
লিংকডইন, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ চাকরির সুযোগ খোঁজার কার্যকর মাধ্যম হলেও এসব প্ল্যাটফর্মে থাকা কোনো বিজ্ঞাপন নিজে থেকে চাকরিটির বৈধতার প্রমাণ নয়।
কোনো বিজ্ঞাপন দেখার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইট ও ক্যারিয়ার পেজে একই পদ রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পদের দায়িত্ব ও আবেদনের প্রক্রিয়াও মিলিয়ে দেখা জরুরি।
৫১তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি, পদ ৫০০০, সাধারণ বিসিএস কবেচাকরি পেতে টাকা চাইলে সতর্ক
চাকরি বা ভিসা স্পনসরশিপের বিনিময়ে অর্থ দাবি করা বড় সতর্কসংকেত। সাধারণ নিয়োগপ্রক্রিয়ায় নিয়োগকারীর পারিশ্রমিক দেয় প্রতিষ্ঠান, চাকরিপ্রার্থী নয়।
কোনো ফি চাওয়া হলে কেন নেওয়া হচ্ছে, কাকে দেওয়া হচ্ছে এবং সেটি প্রয়োজনীয় কি না, তা যাচাই করা উচিত। সন্দেহ থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যারিয়ার সার্ভিস বা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সহায়তা দলের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।
পড়াশোনার সঙ্গে কাজ, ইউরোপের যে ১০ দেশে আয় বেশি‘নিশ্চিত’ স্পনসরশিপের দাবি
‘১০০ শতাংশ নিশ্চিত ভিসা’, ‘গ্যারান্টিড স্পনসরশিপ’ বা ‘নিশ্চিত ওয়ার্ক ভিসা’—এ ধরনের প্রতিশ্রুতিতেও সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। ভিসা স্পনসরশিপ নির্ভর করে নিয়োগদাতা, চাকরির ধরন, প্রার্থীর যোগ্যতা ও সংশ্লিষ্ট দেশের অভিবাসন নীতির ওপর। অর্থের বিনিময়ে নিশ্চিত স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি তাই যাচাই ছাড়া বিশ্বাস করা ঝুঁকিপূর্ণ।
নিয়োগদাতার পরিচয় যাচাই
কোনো ব্যক্তি প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির হয়ে যোগাযোগ করলে তাঁর সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সম্পর্ক আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। জিমেইল বা আউটলুকের ঠিকানা ব্যবহার করাই প্রতারণার প্রমাণ নয়।
তবে কোম্পানির ওয়েবসাইট, অফিশিয়াল ই–মেইল ডোমেইন, লিংকডইন উপস্থিতি ও যোগাযোগের তথ্য মিলিয়ে দেখা উচিত।
সরকারিভাবে ব্রুনেইয়ে চাকরি, নেবে ২৭৯ জননিয়োগপ্রক্রিয়া ও ব্যক্তিগত তথ্য
প্রকৃত নিয়োগদাতাদের সাধারণত আবেদন, সাক্ষাৎকার, মূল্যায়ন বা এইচআরের সঙ্গে আলোচনার মতো ধাপ থাকে। কোনো ব্যক্তি বিস্তারিত আলোচনা বা মূল্যায়ন ছাড়াই এক–দুই দিনের মধ্যে চাকরি দেওয়ার প্রস্তাব দিলে সতর্ক হওয়া উচিত।
এ ছাড়া নিয়োগদাতার পরিচয় ও প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই না করে পাসপোর্টের কপি, ব্যাংক হিসাবের তথ্য বা অভিবাসনসংক্রান্ত নথি দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে চাপ দেওয়া, আগাম টাকা চাওয়া, নিশ্চিত স্পনসরশিপের প্রতিশ্রুতি দেওয়া কিংবা শুধু ব্যক্তিগত যোগাযোগের মাধ্যমে চাকরির প্রস্তাব এলে অতিরিক্ত যাচাই করা জরুরি। কয়েক মিনিটের যাচাই বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এড়াতে পারে।