যে দৌড় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য
· Prothom Alo

গুলশানের ভোরের সড়কে প্রায় ২০০ মানুষের দৌড়। ৫ কিলোমিটারের এই দৌড়ের লক্ষ্য শুধু ফিনিশ লাইনে পৌঁছানো নয়, বরং প্রতিটি পদক্ষেপের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানো। সেই ভাবনা থেকেই ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশান আয়োজন করে ‘রান ফর চ্যারিটি: মিনিংফুল ম্যারাথন ২.০’।
Visit grenadier.co.za for more information.
২৫ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টায় হোটেল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় এই চ্যারিটি দৌড়। আইএইচজি হোটেলস অ্যান্ড রিসোর্টসের ‘গিভিং ফর গুড মাস’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ আয়োজনে অংশ নেন হোটেলের সহকর্মী, করপোরেট অংশীদার, কমিউনিটির সদস্য ও দৌড়প্রেমীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি। তাঁর উপস্থিতি দৌড়বিদদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা জাগিয়েছে।
নির্ধারিত ৫ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে অংশগ্রহণকারীরা আবার ফিরে আসেন ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানে। তবে ফিনিশ লাইনে শেষ হয়নি আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। প্রত্যেক অংশগ্রহণকারীর নিবন্ধন ফি ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। পুরো অর্থ অদম্য বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন (মজার স্কুল)-এর মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় দেওয়া হবে। প্রায় ২০০ জনের অংশগ্রহণে এই আয়োজন থেকে সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ টাকা।
ক্রাউন প্লাজা ঢাকা গুলশানের জেনারেল ম্যানেজার কার্থি ভিকে বলেন, একটি অভিন্ন উদ্দেশ্যে মানুষ একসঙ্গে এগিয়ে এলে অর্থবহ পরিবর্তন সম্ভব। প্রথম আয়োজনের পর এবারও কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণ তাঁদের অনুপ্রাণিত করেছে। তাঁর মতে, দৌড়ের প্রতিটি কিলোমিটার একটি অর্থবহ অবদানে পরিণত হয়েছে।
অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতাকে আরও স্মরণীয় করে তুলতে ছিল বিশেষ টি-শার্ট, স্মারক মেডেল ও সার্টিফিকেট। দৌড় শেষে ছিল বুফে ব্রেকফাস্টের আয়োজন। পাশাপাশি দ্রুততম পাঁচজন ফিনিশারকে দেওয়া হয় বিশেষ সম্মাননা।
এই আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ছিল একাধিক প্রতিষ্ঠান। প্রাইম পার্টনার ছিল লেটেস্ট গার্মেন্টস ও গাড়িবাজার। জেডএক্সওয়াই ও সেভেনস্ট্রিমস অংশগ্রহণকারীদের টি-শার্টের দায়িত্ব নেয় এবং এয়ার অ্যাস্ট্রা ছিল অফিসিয়াল এয়ারলাইন পার্টনার। সানকুইক, এসএমসি ও পোলার আইসক্রিমও আয়োজনে সহযোগিতা করে।
লেটেস্ট গার্মেন্টস ও গাড়িবাজারের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে, এমন একটি উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে তারা গর্বিত। তাদের মতে, সম্মিলিত ছোট ছোট উদ্যোগও শিশু ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
জেডএক্সওয়াই ও সেভেনস্ট্রিমসের পক্ষ থেকেও বলা হয়, সক্রিয় ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের পাশাপাশি একটি সামাজিক উদ্যোগে অবদান রাখার সুযোগ তাদের জন্য আনন্দের। অন্যদিকে এয়ার অ্যাস্ট্রার চিফ কমার্শিয়াল অফিসার মেসবাহুল ইসলাম বলেন, সহানুভূতি, উদ্যোগ ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শক্তিশালী কমিউনিটি গড়ে ওঠে। এমন আয়োজন মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি প্রয়োজনের সময়ে আশার আলোও তৈরি করে।
গত বছরের ‘রান ফর চ্যারিটি: এ মিনিংফুল ম্যারাথন’-এর ধারাবাহিকতায় এবার দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হলো ‘মিনিংফুল ম্যারাথন ২.০’। কয়েক কিলোমিটারের একটি দৌড় শেষ হয়ে যায় অল্প সময়েই, কিন্তু এর প্রভাব থেকে যেতে পারে দীর্ঘ সময়। এই আয়োজন সেই কথাটিই মনে করিয়ে দিল—ফিনিশ লাইনে পৌঁছানোই সব নয়, কখনো কখনো অন্যের জীবনকে একটা লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়াটাও হয়ে ওঠে সবচেয়ে বড় অর্জন।
ছবি: ক্রাউন ঢাকা প্লাজা গুলশান