শুধু প্রযুক্তি নয়, মানবিক দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ: প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির সেমিনারে বক্তারা

· Prothom Alo

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে বদলে যাচ্ছে শিক্ষা ও কর্মজগতের চাহিদা। এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উচ্চশিক্ষায় শুধু প্রযুক্তিগত জ্ঞান নয়, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিকতার সমন্বয় জরুরি বলে মনে করেন প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষকমণ্ডলী।

Visit newsbetting.club for more information.

‘কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স থেকে একাডেমিক এক্সিলেন্স’ শীর্ষক সেমিনারে এসব বিষয় উঠে আসে। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬) প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির হলরুমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল কবির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের ডিন ও আইকিউএসি সেলের পরিচালক অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম খান নাঈম।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন শহীদুল ইসলাম খান। পরে ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সদস্যদের প্রতি পরিচালনা পর্ষদের প্রত্যাশা’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল কবির। শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণের সম্ভাবনা ও দায়িত্ব নিয়ে ‘শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গড়ে তোলা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ব্যবসায় অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবুল কালাম।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ব্যবস্থাকে পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম। পরীক্ষাব্যবস্থায় মান ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. জাহেদুর রহমান।

ভর্তি ও নিবন্ধনের প্রক্রিয়ায় বিভাগগুলোর ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. সাকির হোসেন। একজন ভালো শিক্ষকের প্রয়োজনীয় গুণাবলি নিয়ে আলোচনা করেন ইংরেজি বিভাগের প্রধান নাজলা ফাতমি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও নীতিমালা নিয়ে বক্তব্য দেন মানবসম্পদ বিভাগের প্রধান এ কে এম জিয়াউল আমিন।

সেমিনারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্ব ছিল ‘পঞ্চম শিল্পবিপ্লব ও উচ্চশিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক আলোচনা। এতে পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রভাবে উচ্চশিক্ষায় সম্ভাব্য পরিবর্তন, নতুন ধরনের দক্ষতার চাহিদা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রস্তুতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম খান।

বক্তাদের আলোচনায় বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ও অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে কর্মক্ষেত্রের ধরন পরিবর্তিত হচ্ছে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শুধু প্রচলিত জ্ঞান ও সনদকেন্দ্রিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের উপযোগী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে প্রযুক্তির ব্যবহারকে মানবিক মূল্যবোধ, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।

সেমিনারে মান নিশ্চিতকরণকে শুধু মূল্যায়ন বা আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া হিসেবে না দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পর্যায়ে ধারাবাহিক উন্নয়নের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিক্ষা, পরীক্ষা, ভর্তি, প্রশাসন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে নিয়মিত মূল্যায়ন ও উন্নয়নের মাধ্যমে একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জনের বিষয়ে আলোচনা হয়।

সেমিনারের শেষ পর্বে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তারা অংশ নিয়ে একাডেমিক মানোন্নয়ন, শিক্ষকতার গুণগত বৈশিষ্ট্য, পরীক্ষা ও ভর্তি ব্যবস্থাপনা, মানবসম্পদ নীতি এবং পঞ্চম শিল্পবিপ্লবের প্রেক্ষাপটে উচ্চশিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত ও প্রশ্ন তুলে ধরেন।

Read full story at source