মাদক সেবনে নিষেধ করায় রিকশাচালককে মাদকসেবী বানিয়ে মব করে হত্যা
· Prothom Alo

কয়েকজন কিশোরের মাদক সেবন নিয়ে আপত্তি করেছিলেন রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহম্মদ (৪৩)। এ নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা হয় তাদের সঙ্গে। এর জের ধরে উল্টো রিকশাচালককে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে মব সৃষ্টি করে পিটিয়ে হত্যা করে কিশোরেরা। গত ১১ জুন রাতে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা ছিদ্দিকিয়া আলীয়া মাদ্রাসা এলাকার রাস্তায় সংঘঠিত এই হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয় ১০ থেকে ১২ জন কিশোর।
Visit newsbetting.club for more information.
ফয়েজ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই কিশোর আজ রোববার দুপুরে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের দেওয়া জবানবন্দিতে রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহম্মদকে মাদকসেবী সাজিয়ে হত্যার বিষয়টি উঠে আসে।
এর আগে গতকাল শনিবার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। তারা সোনাইমুড়ী উপজেলার শাকতলা গ্রামের বাসিন্দা। একজনের বয়স ১৬, অন্যজনের ১৭ বছর। নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আতিক উল্লাহর কাছে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দি প্রদান শেষে অভিযুক্ত দুই কিশোরকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ সন্ধ্যায় পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর হেফাজতে থাকা সন্দেহভাজন দুই কিশোর রিকশাচালক মো. ফয়েজ আহম্মদকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। আদালতে তারা জানায়, ঘটনার দিন মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ফয়েজের সঙ্গে তাদের তর্কাতর্কি হয়। এরপর সেই রাতে সড়কে তারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ফয়েজকে মাদকসেবী অপবাদ দিয়ে মব তৈরি করা হয়। এরপর লাঠিসোঁটা ও রড দিয়ে ১০ থেকে ১২ জন কিশোর এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তাঁকে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে সোনাইমুড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ফয়েজকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় গত ১২ জুন সোনাইমুড়ী থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলাটিতে ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের অভিযুক্ত করা হয়েছিল। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ উদ্দিন মামলাটি তদন্ত শুরু করেন। তদন্তের এক পর্যায়ে শনিবার দিবাগত রাত পৌনে তিনটার দিকে সোনাইমুড়ীর শাকতলা গ্রামে অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে দুই কিশোরকে হেফাজতে নেয় পিবিআই।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুই কিশোরই রাজমিস্ত্রির কাজ করে। এলাকায় তারা প্রায়ই মাদক সেবন করত। এ নিয়ে রিকশাচালক ফয়েজের সঙ্গে তাদের বিরোধ তৈরি হয়। পুলিশ সুপার আর এম ফয়জুর রহমান বলেন, মামলার অন্য আসামিদের সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।