কে প্রথম ব্লক করেছিলেন—দেব নাকি শুভশ্রী
· Prothom Alo
‘দেশু’ নামটি এসেছে দেবের ‘দে’ ও শুভশ্রীর ‘শু’ থেকে। সম্ভবত এই প্রথম টালিউডে কোনো হ্যাশট্যাগ ভাইরাল হওয়ার পর সেই নামে সিনেমা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রোমান্টিক-অ্যাকশন ধাঁচের এই সিনেমার প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’ মুক্তি পাওয়ার পর আবার ট্রেন্ডে উঠে আসে ‘হ্যাশট্যাগ দেশু’। লাদাখের পাহাড়ি রাস্তা, বরফঢাকা পাহাড় ও উপত্যকার ভেতর এই দুজনের রসায়ন দেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন—‘ঘর ভাঙছে দুজনেরই!’
Visit sportnewz.click for more information.
রাজ চক্রবর্তীর ‘চ্যালেঞ্জ’ সিনেমায় প্রথম জুটি হয়ে দেখা দেন দেব ও শুভশ্রীমান্না দে ও লতা মঙ্গেশকরের একটি জনপ্রিয় গান আছে। প্রথম চার লাইন এরকম, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি/ কে প্রথম চেয়ে দেখেছি/ কিছুতেই পাই না ভেবে/ কে প্রথম ভালোবেসেছি…’।
দেব অধিকারী ও শুভশ্রী গাঙ্গুলির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা যেন ‘কে প্রথম ব্লক করেছি?’
এই প্রশ্নের উত্তর দেব বা শুভশ্রীরও জানা নেই! ‘দেশু ৭’ সিনেমার প্রচারে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রশ্নের উত্তরে দেব যা বলেছেন, তার সারমর্ম হলো ‘এমনিতে কথা–কাটাকাটি হলে, মনোমালিন্য, মান-অভিমানের সঙ্গে সঙ্গে একে অন্যকে বল-আনব্লক চলত। সেটা আমরা এতবার করেছি যে কে প্রথম করেছি, এখন আর মনে নেই। তবে শুভশ্রীর সঙ্গে ওর বিয়ের আগপর্যন্ত আমার কথা হয়েছে। তারপর আমি ব্লক করেছি। আর ওটাই শেষ।’
শুরুর শুরু
২০০৯ সাল। রাজ চক্রবর্তীর ‘চ্যালেঞ্জ’ সিনেমায় প্রথম জুটি হয়ে দেখা দেন দেব ও শুভশ্রী। সেই জুটি দর্শকের এত বিপুল ভালোবাসা কুড়াল যে টালিউডে গুজব ছড়িয়ে পড়ল—এই দুজন একসঙ্গে সিনেমা করলেই তা সুপারহিট।
একে একে মুক্তি পেল এই জুটি অভিনীত ‘পরান যায় জ্বলিয়া রে’, ‘রোমিও’, ‘খোকাবাবু’, ‘খোকা ৪২০’… সবই সুপারহিট। অর্থাৎ যা রটেছিল, তা ঘটেছিলও বটে।
কেবল দর্শকের ধারণাই নয়; শোনা যায়, বাস্তবেও এই দুজন দুজনকে ভালোবেসেছিলেন। শুভশ্রী বিয়ে করে থিতু হতে চাইছিলেন, অন্যদিকে দেব চাইছিলেন ক্যারিয়ারে ডুব দিতে।
২০১৩ সালে ‘খোকা ৪২০’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকেই দুজনের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে থাকে। ২০১৪ সালে ‘ধূমকেতু’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় তা চরমে পৌঁছায়। এই দুজনের দ্বন্দ্বে প্রায় তিন বছর লাগিয়ে সিনেমার শুটিং শেষ হয়; কিন্তু দুজনের বিচ্ছেদের ভেতর সিনেমার মুক্তির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে যায়।
২০১৩ সালে ‘খোকা ৪২০’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় থেকেই দুজনের মধ্যে মতবিরোধ বাড়তে থাকেসেই বিষয় ইঙ্গিত করে দেব বলেন, ‘বিচ্ছেদের পর যে আমরা একটা স্বাভাবিক বন্ধুত্বপূর্ণ বা পেশাদার সম্পর্ক জারি রাখব, সেটি কীভাবে? ধরুন, কোথাও দেখা হলো। আমি ওকে গিয়ে হাগ করলাম বা হাসিমুখে কথা বললাম। তারপর? শত শত, হাজার হাজার, লাখো প্রশ্ন! রিলস ভাইরাল। তাই চাইলেও কোনো স্বাভাবিক সম্পর্ক রাখা যায়নি।’
অবস্থা এমন পর্যায়ে চলে যায় যে পেশাদার সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য বা সিনেমাটির প্রচারণা শেষ করে মুক্তি দেওয়ার জন্য হলেও দুজনকে এক জায়গায় আনা সম্ভব হয়নি। পরে পরিচালক ও প্রযোজক সিনেমা মুক্তির পরিকল্পনা বাদ দেন; আর ‘সঠিক সময়’–এর জন্য অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ‘সঠিক সময়’ আদৌ কোনো দিন আসবে কি না, সেটা নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা।
বিচ্ছেদের পর
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা থাকলেও দুজনের কেউই প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানাননি। শুভশ্রী ২০১৭ সালে ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’কে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন—কেন, কীভাবে বা কার জন্য সম্পর্কটি শেষ হয়েছিল, সেটি নিয়ে তিনি নিজেও আর ভাবেন না। শুভশ্রী বলেছিলেন, ‘আ ব্রেকআপ ইজ আ ব্রেকআপ, দেয়ার ইজ নো পয়েন্ট লুকিং ব্যাক’।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো শুভশ্রী তখন দেবকে নিয়ে নেতিবাচক কথা বলেননি। ওই সাক্ষাৎকারেই তিনি বলেছিলেন, সম্পর্কটি তাঁর জীবনের একটি সময় ছিল; আর সেই সময়ের ভালো স্মৃতিগুলোই তিনি ধরে রাখতে চান। এ–ও বলেন, ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণে তাঁর পরিচয় তৈরি হয়নি; তাঁর নিজের পরিশ্রমই তাঁকে আজকের জায়গায় এনেছে।
২০১৬ সালে রাজ চক্রবর্তী ও মিমি চক্রবর্তীরও বিচ্ছেদ হয়। সেই বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে বলা হচ্ছিল, রাজ বিয়ে করে থিতু হতে চাইছিলেন; কিন্তু মিমি ক্যারিয়ারে মনোযোগী ছিলেন।
বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নানা জল্পনা থাকলেও দুজনের কেউই প্রকাশ্যে কোনো নির্দিষ্ট কারণ জানাননিসেই বছরেই ‘অভিমান’ সিনেমার মাধ্যমে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে শুভশ্রীর। কেননা, এই দুজনই তাঁদের পুরোনো সম্পর্কে বিয়ে করে থিতু হতে চাইছিলেন! বলা হয়, দুজনের এই ‘কমন’ ব্যাপারই তাঁদের কাছাকাছি এনেছিল। এ ছাড়া দুজনই ছিলেন দুজনের ভাঙা হৃদয়ের দাওয়াই!
২০১৮ সালের মার্চে বিয়ে করেন এই দুজন। দুই সন্তানের মা-বাবাও হন। সঙ্গে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত ‘পরিণীতা’তে কিশোরী ও কল্লোল লাহিড়ী রচিত, দেবালয় ভট্টাচার্য পরিচালিত ‘ইন্দুবালা ভাতের হোটেল’-এ ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধার চরিত্রে অভিনয় করে সবার প্রশংসায় ভেসে যান শুভশ্রী। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন গুণী অভিনয়শিল্পী হিসেবে।
ওদিকে দেবও রুক্মিনী মৈত্রের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আনেন, এগিয়ে নেন নিজের ক্যারিয়ার। ২০১৭ সাল থেকে দেব ও রুক্মিনী সম্পর্কে আছেন। যদিও রুক্মিনী বলেন, আরও পাঁচ বছর আগে থেকে দেবের সঙ্গে তাঁর ভালো বন্ধুত্ব!
সম্প্রতি রাজ চক্রবর্তী দেব ও শুভশ্রীর সেই পুরোনো রসায়ন ও নতুন সিনেমা ‘দেশু ৭’ প্রসঙ্গে বলেন, ‘“দেশু”ভক্তদের মতো একসময় আমিও ভাবতাম, ওদের নিশ্চয়ই বিয়ে হবে। কিন্তু শুভশ্রীকে সৃষ্টিকর্তা আমার কপালেই রেখেছেন; আর আমি এ জন্য কৃতজ্ঞ। তবে অস্বীকার করতে পারব না, আমিও একজন “দেশু”ভক্ত। ওরা দুজনই আমার প্রিয় অভিনয়শিল্পী। আমি ওদের অনস্ক্রিনে আবারও হিট দেখতে চাই। ওদের ছবিটার জন্য শুভকামনা।’
অনেকে আবার এই মন্তব্যে টিপ্পনী কেটে বলেছেন, ‘তা তো শুভকামনা জানাবেনই, টাকা তো আপনার ঘরেই যাবে।’
বছর দশেক পর
দেব ও শুভশ্রীর সম্পর্কের অবনতির কারণে ‘ধূমকেতু’ সিনেমার মুক্তি পেছাতে পেছাতে একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। অবশেষে সিনেমা তৈরির ৯ বছর পর পরিচালক কৌশিক গাঙ্গুলি দেব ও শুভশ্রীকে নিয়ে মুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত করেন। প্রায় ১০ বছর পর ভক্তরা তাঁদের প্রিয় জুটিকে সিনেমার প্রচারণায় একসঙ্গে দেখে রীতিমতো ‘ক্রেজ’ প্রকাশ করে।
২০২৫ সালের ৪ আগস্ট কলকাতার নজরুল মঞ্চে ‘ধূমকেতু’র গ্র্যান্ড ট্রেলার লঞ্চ হয়। প্রায় ৯ বছর পর তাঁরা প্রকাশ্যে এক মঞ্চে পাশাপাশি আসেন। এটি টালিউডের ইতিহাসের অন্যতম জমকালো ট্রেলার লঞ্চের আয়োজন।
এই সিনেমার ট্রেলার প্রচারের পর টালিউডের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সিনেমার মুক্তির ঘোষণার পরবর্তী দুই ঘণ্টার মধ্যে সব হল ‘বুকড’ হয়ে যায়। পরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফায় বাড়ানো হয় হলের সংখ্যা।
সব মিলিয়ে দেব-শুভশ্রীর পুরোনো প্রেমের নস্টালজিয়াকে ‘ক্যাশ’ করে হোক, এই জুটির ফ্যানবেজকে কাজে লাগিয়ে ৯ বছরের পুরোনো একটি সিনেমা রীতিমতো ইতিহাস গড়ে বাণিজ্যিক সফলতা পায়।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, ৯ বছরে পৃথিবীর অনেক কিছুই বদলে গেছে। অভিনয়, ফ্যাশন, সিনেমায় গল্প বলার ধরন…কিন্তু ‘দেশু’ভক্তদের এই দুজনকে একসঙ্গে দেখতে চাওয়ার চাহিদা কমেনি, বরং বেড়েছে; আর সেটিই এই সিনেমার ইউএসপি (ইউনিক সেলিং পয়েন্ট)।
দেব ও শুভশ্রীর সম্পর্কের অবনতির কারণে ‘ধূমকেতু’ সিনেমার মুক্তি পেছাতে পেছাতে একসময় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে‘ধূমকেতু’ সিনেমার টিজার প্রকাশ অনুষ্ঠানে হাজারো দর্শকের সামনে শুভশ্রী দেবকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার বন্ধু হবে?’
দেব তখন পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেন?’
তখন উপস্থিত দর্শক চিৎকার করে বলেন, ‘এমনি এমনি!’
শুভশ্রীও দেবকে বলেন, ‘এমনি এমনি!’
এ ঘটনার পর ‘হ্যাশট্যাগ দেশু’র সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেন্ডে উঠে আসে ‘হ্যাশট্যাগ এমনি এমনি’!
দেব তাৎক্ষণিকভাবে শুভশ্রীকে ইনস্টাগ্রামে আনব্লক করে ‘ফলো’ করেন। শুভশ্রীও পাল্টা ফলো করেন; আর হাজারো দর্শকের সামনে তাঁরা প্রতিজ্ঞা করেন, তাঁদের জীবনে পরবর্তী সময়ে যা-ই ঘটুক না কেন, কেউ কাউকে আনফলো বা ব্লক করবেন না।
কেউ কেউ বলেন দীপিকা পাড়ুকোন-রণবীর কাপুর, সেলেনা গোমেজ-জাস্টিন বিবার বা দেব-শুভশ্রীর মতো ইতিহাসে কিছু অসম্পূর্ণ প্রেম আছে, যেসব ভক্তের মধ্যে তাঁদের একসঙ্গে দেখার তীব্র আকাঙ্ক্ষা হয়ে বেঁচে থাকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ। সেটিকে ভাঙিয়ে ‘বাঙালি ব্যবসা করে নিচ্ছে’ বলেও মন্তব্য করেছেন কেউ কেউ।
বিচ্ছেদের এক যুগ পরও রবার্ট প্যাটিনসন ও ক্রিস্টেন স্টুয়ার্টের প্রেম আনন্দ-বেদনার এক কাব্যকীভাবে জন্ম নিল ‘দেশু’
‘দেশু’ নামটি এসেছে দেবের ‘দে’ ও শুভশ্রীর ‘শু’ থেকেদেব ও শুভশ্রীর তিন বছরের সম্পর্কে যে একটা সময়ে দূরত্ব ও অভিমান তৈরি হয়েছিল, তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট; কিন্তু দুজনই এখন বলছেন, তাঁরা সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে এসেছেন। আর কেবল ভালো স্মৃতিগুলোই সঙ্গে রেখেছেন। এক সাক্ষাৎকারে শুভশ্রী এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘বেসিক্যালি আমার সিলেকটিভ মেমোরি, আমি যেটা মনে রাখতে চাই, সেটিই মনে থাকে।’ তাৎক্ষণিকভাবে মজা করতে ছাড়েননি দেব। বলেন, ‘ও আমি এখনো মনে আছি!’
২০২৬ সালের এক ফেসবুক লাইভে দেব বলেন, সময়ের সঙ্গে শুভশ্রী ও তাঁর ‘ম্যাচিউরিটি’ ও ‘আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ অনেক বেড়েছে। এমনকি ‘দেশু ৭’ সিনেমার প্রচারণার ওই সাক্ষাৎকারে দেব এ-ও বলেন, ‘আমাদের এই ম্যাচিউরিটি যদি আগে থাকত, তাহলে হয়তো আমরা কখনো আলাদাই হতাম না।’
এ সময় শুভশ্রী নিজের আবেগ সামলানোর জন্য খুব চেষ্টা করছিলেন। তখন দেব শুভশ্রীর দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘বেশি বলে ফেললাম? আবার কি কেস খেয়ে যাব আমরা?’
দেব জানান, ‘ধূমকেতু’ সিনেমার অভাবনীয় সাফল্যের পর তিনি তাঁদের জুটির জনপ্রিয়তা সম্পর্কে ধারণা পেয়ে আশ্চর্য হয়ে যান।
দেব বলেন, ‘আমি স্বার্থপরের মতো নিজেই কলকাতার একাধিক নামকরা পরিচালকের কাছে জানতে চাই, তাঁদের কাছে এই মুহূর্তে আমাদের কাস্ট করার মতো ভালো কোনো ছবি আছে কি না। তাঁরা যখন “না” করে, আমি নিজেই সিনেমা বানাতে লেগে যাই। কারণ, দর্শকেরা জানিয়ে দিয়েছেন, দুজনে জুটি বেঁধে সিনেমা করার এটাই সেরা সময়।’
‘দেশু’ নামটি এসেছে দেবের ‘দে’ ও শুভশ্রীর ‘শু’ থেকে। সম্ভবত এই প্রথম টালিউডে কোনো হ্যাশট্যাগ ভাইরাল হওয়ার পর সেই নামে সিনেমা হচ্ছে।
সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে রোমান্টিক-অ্যাকশন ধাঁচের এই সিনেমার প্রথম গান ‘তোর শুধু তোর’ মুক্তি পাওয়ার পর আবার ট্রেন্ডে উঠে আসে ‘হ্যাশট্যাগ দেশু’।
দেব আর শুভশ্রীর ‘এক হওয়া’ নিয়েও জল্পনা বেড়েছেলাদাখের পাহাড়ি রাস্তা, বরফঢাকা পাহাড় ও উপত্যকার ভেতর এই দুজনের রসায়ন দেখে অনেকেই ভবিষ্যদ্বাণী করছেন, ‘ঘর ভাঙছে দুজনেরই!’ একদিকে শুভশ্রী ও রাজের, অন্যদিকে দেব ও রুক্মিনীর!
দেব আর শুভশ্রীর ‘এক হওয়া’ নিয়েও জল্পনা বেড়েছে। এসবের ভেতরেই জোর কদমে চলছে সিনেমার প্রচারণা ও পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ; আর প্রচারণায় এই দুজন ইচ্ছা করেই নিজেদের পুরোনো ব্যক্তিগত সম্পর্কের নানা বিষয় তুলে আনছেন। কেননা, এই সিনেমাই তো দাঁড়িয়ে আছে এই দুজনের অতীত হয়ে যাওয়া এক প্রেমের ওপর, দর্শকের এই দুজনকে একসঙ্গে দেখতে চাওয়ার আকাঙ্ক্ষার ওপর।
১৬ অক্টোবর মুক্তির দিনটিকে সামনে রেখে তাই নস্টালজিয়াকে উসকে দেওয়াকেই এই সিনেমার অন্যতম ‘প্রমোশনাল স্ট্র্যাটেজি’ হিসেবে নিয়েছেন দেব-শুভশ্রী।
তারপরও প্রশ্ন আসছে, ‘ক্যামেরার সামনে দুজন যা করেছেন, সেটি কি কেবলই অভিনয়?’ ‘দেব বা শুভশ্রী দুজনের কেউই কি এতটা ন্যাচারাল, সত্যের কাছাকাছি অভিনয় জানেন?’
যেসব বিচ্ছেদ বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল