মেসির চোখে ফুটবলে ভবিষ্যতের ১০ তারকা
· Prothom Alo

একদিন তিনিও ছিলেন বিস্ময়বালক। আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে বার্সেলোনায় এসে ফুটবল–বিশ্বকে চমকে দিয়েছিলেন এক কিশোর। বাঁ পায়ে জাদু ছিল। কিন্তু সেই জাদু একদিন তাঁকে কোথায় নিয়ে যাবে, কে জানত!
Visit mwafrika.life for more information.
তারপর কত বসন্ত পেরিয়ে গেল। কত ইতিহাস লেখা হলো। সেই কিশোর একদিন বিশ্বকাপ জিতলেন। ফুটবলের প্রায় সব মুকুটই উঠল তাঁর মাথায়। লিওনেল মেসি হয়ে গেলেন একটা প্রজন্মের স্বপ্ন, আরেকটা প্রজন্মের আদর্শ।
সেই মেসি এবার খুঁজে বের করেছেন ভবিষ্যতের ১০ ফুটবল তারকাকে, যাঁদের পায়ে আগামী দিনের ফুটবল নতুন গল্প লিখতে পারে।
ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে বিশ্বের ১০ প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফুটবলারকে বেছে নিয়েছেন সম্প্রতি আর্জেন্টিনাকে বিদায় বলা বিশ্বকাপজয়ী সাবেক অধিনায়ক। তাঁদের মধ্যে সাতজন ছেলে ও তিনজন মেয়ে।
a legacy to build on . the next chapter starts here.
— adidas Football (@adidasfootball) October 11, 2026
meet the rising stars of Messi +10, season 3. pic.twitter.com/8DVfmTPaXW
রোববার এই প্রচারণার ভিডিও প্রকাশ করেছে অ্যাডিডাস। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘অ্যাডিডাস ফুটবল’ অ্যাকাউন্ট থেকে ভিডিওটি প্রকাশ করে লেখা হয়েছে, ‘এগিয়ে নেওয়ার মতো এক উত্তরাধিকার। এখান থেকেই শুরু পরবর্তী অধ্যায়। পরিচিত হোন মেসি +১০-এর তৃতীয় মৌসুমের উদীয়মান তারকাদের সঙ্গে। ১০টি অধ্যায়, যা নতুন করে লিখবে ফুটবলের ভবিষ্যৎ। এ এমন এক গল্প, যার কেবল শুরু।’
কিন্তু কারা সেই ১০ জন?
তালিকায় সবচেয়ে পরিচিত নাম সম্ভবত আর্সেনালের ১৬ বছর বয়সী ইংলিশ বিস্ময়বালক ম্যাক্স ডাউম্যান। ইংলিশ ফুটবলে যাঁকে ঘিরে ইতিমধ্যে তৈরি হয়েছে বিপুল প্রত্যাশা। অল্প বয়সেই আর্সেনালের মতো ক্লাবের হয়ে নিজের প্রতিভার জানান দেওয়া ডাউম্যান এবার জায়গা পেলেন মেসির পছন্দের তালিকায়।
আছেন মেক্সিকোর গিলবার্তো মোরা। তিহুয়ানার এই তরুণকে নিয়ে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের খবর শোনা যাচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তাঁকে পাওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল ‘মেসি +১০’ প্রচারণা।তবে আর্জেন্টাইনদের কাছে এই তালিকার সবচেয়ে আবেগের নাম সম্ভবত তোমাস আরান্দা। বোকা জুনিয়র্সের তরুণ প্লেমেকার। বল পায়ে সৃষ্টিশীলতা, টেকনিক্যাল দক্ষতা আর খেলার গতিপথ বদলে দেওয়ার সামর্থ্য দিয়ে এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন। আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনির চোখও এড়ায়নি তাঁর প্রতিভা। বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের সফরের দলেও আরান্দাকে রেখেছিলেন স্কালোনি।
যদিও আপাতত তাঁর লড়াইটা মাঠের বাইরে। ডান পায়ের ফিবুলা হাড় ভেঙে যাওয়ায় চোট থেকে সেরে ওঠার চেষ্টা করছেন তিনি। আবার কবে মাঠে ফিরবেন, কবে বল পায়ে নিজের গল্পটা নতুন করে লিখবেন, সেই অপেক্ষা।
তালিকায় আছেন তুরস্কের জান উজুন। খেলেন জার্মানির আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টে। স্পেনের হেসুস রদ্রিগেজ খেলেন ইতালির কোমোয়। নেদারল্যান্ডসের কেস স্মিত আছেন এজেড আলকমারে। যুক্তরাষ্ট্রের জেভিয়ার গুজো খেলেন ইংল্যান্ডের ক্রিস্টাল প্যালেসে।
মেসির চোখে সেরা দশে আছেন মেয়েদের ফুটবলের তিন উদীয়মান প্রতিভাও। ইংল্যান্ডের ক্লোয়ি সারয় খেলেন চেলসিতে, ব্রাজিলের জিওভান্না ওয়াকসমান ফ্রান্সের অলিম্পিক লিওঁতে এবং জার্মানির লোটা ফ্রিডে হামবুর্গে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয়েছিল ‘মেসি +১০’ প্রচারণা। প্রথম মৌসুমে ১০ উদীয়মান ফুটবলারকে বেছে নিয়েছিলেন মেসি। তাঁদের মধ্যে ছিলেন বার্সেলোনার লামিনে ইয়ামাল। প্রচারণার দ্বিতীয় মৌসুম এসেছিল ২০২৫ সালের অক্টোবরে। সেবার নির্বাচিত তরুণদের মধ্যে ছিলেন নিকো পাজ, রিও এনগুমোহা ও আন্দ্রে সান্তোসের মতো প্রতিভাবান ফুটবলাররা। এবার তৃতীয় মৌসুম। নতুন ১০ মুখ, নতুন ১০ স্বপ্ন।
অবশ্য মেসির তালিকায় জায়গা পাওয়া মানেই ভবিষ্যতের মহাতারকা হয়ে যাওয়া নয়। ফুটবলের ইতিহাসে কত বিস্ময়বালক এসেছেন, যাঁরা কৈশোরে আকাশ ছুঁয়েও পরে হারিয়ে গেছেন বিস্মৃতির অন্ধকারে। আবার কেউ কেউ প্রত্যাশার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে গেছেন।
এই ১০ জনের ভাগ্যে কী আছে, সময়ই বলবে।