পাহাড়ি মেয়েদের জয়জয়কার চট্টগ্রামে

· Prothom Alo

খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামের ছয়টি দল নিয়ে ১২ ও ১৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা স্টেডিয়ামে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আলো-স্টার নিউজ নারী ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬-এর চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্ব। এতে অংশ নেওয়া ছয়টি দলের মধ্যে তিনটি এসেছিল খাগড়াছড়ি থেকে, দুটি এসেছিল রাঙামাটি থেকে, আর অবশিষ্ট দলটি চট্টগ্রাম জেলার।

Visit milkshakeslot.com for more information.

সমস্বরে জাতীয় সংগীত গাওয়ার পর বেলুন উড়িয়ে খেলার উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন ও জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক খেলোয়াড় নাসিরউদ্দিন চৌধুরী। এ সময় বক্তব্য দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী এবং মহাব্যবস্থাপক ও হেড অব মার্কেটিং আজওয়াজ খান।

উদ্বোধনী দিনে প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয় রাঙামাটির দল সুইহলামং ফুটবল একাডেমি বনাম খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমি। গোলশূন্য প্রথমার্ধের পর শুরুতে খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমি এগিয়ে গেলেও সমতায় ফিরতে খুব বেশি সময় নেয়নি সুইহলামং ফুটবল একাডেমি, ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করে জাতীয় দলের খেলোয়াড় উমেহ্লা মারমা সুইহলামং ফুটবল একাডেমিকে সমতায় ফেরান। অবশিষ্ট সময়ে দুই দলের আর কেউই গোলের দেখা না পাওয়ায় ম্যাচ গড়ায় ভাগ্য নির্ধারণী টাইব্রেকারে।

টাইব্রেকারে উভয় দলের শুরুটাই ছিল হতাশাচ্ছন্ন। উভয় দলই ব্যর্থ হয় বল জালে জড়াতে। তবে প্রাথমিক পাঁচ সুযোগের অবশিষ্ট চারটি উভয় দলই কাজে লাগাতে সমর্থ হওয়ায় এরপর খেলা গড়ায় সাডেন ডেথে। সাডেন ডেথেই কপাল পুড়ল খাগড়াছড়ি ফুটবল একাডেমির। দলকে সমতা ফেরাতে আসা দলটির গোলরক্ষক ইশিতা ত্রিপুরার শটটি থামিয়ে দিয়ে ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর টাইব্রেকারে দলের ৫-৪ গোলের জয় নিশ্চিত করেন সুইহলামং ফুটবল একাডেমির গোলরক্ষক কেমি মারমা। এর সুবাদে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও পান তিনি। সুইহলামং ফুটবল একাডেমিও নিশ্চিত করে আঞ্চলিক পর্বের সেমিফাইনালে নিজেদের অংশগ্রহণ।

দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ তথা দ্বিতীয় কোয়ার্টার ফাইনালে পঞ্চগড় থেকে এসে বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমিতে নাম লেখানো লাইসা আক্তার মণির জোড়া গোলে দলটি অনায়াসেই ৩-০ গোলের সহজ জয় তুলে নেয় খাগড়াছড়ি স্পোর্টস একাডেমির বিপক্ষে। জোড়া গোল করে দলের জয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় ম্যাচসেরা হন লাইসা আক্তার মণি।

খেলার একটি দৃশ্য

দ্বিতীয় দিনের প্রথম ম্যাচ তথা চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্বের প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয় দৈবচয়নের ভিত্তিতে সরাসরি বাই পেয়ে শেষ চার নিশ্চিত করা রাঙামাটি ডায়নামিক ফুটবল বনাম কোয়ার্টার বাধা টপকে শেষ চারে পৌঁছানো সুইহলামং ফুটবল একাডেমি। তবে টানা খেলার ধকল যেন এতটুকুও ছুঁতে পারল না সুইহলামং ফুটবল একাডেমিকে। শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফুটবল খেলতে থাকা দলটি ৪-০ গোলে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধের খেলা শেষ করবার পর শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়ে ৫-১ গোলের বড় জয় নিয়ে। রাঙামাটি ডার্বিতে রূপ নেওয়া এ ম্যাচে জোড়া গোল করেন তানিয়া আক্তার ফমি এবং উমেহ্লা মারমা। দলকে আঞ্চলিক পর্বের ফাইনালে পৌঁছে দেওয়ার পর ম্যাচসেরার পুরস্কারও নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করে নেন এই দুই সতীর্থ।

দিনের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দৈবচয়নের ভিত্তিতে সরাসরি বাই পেয়ে শেষ চার নিশ্চিত করা আরেক দল স্বপ্নবিলাস স্পোর্টস একাডেমি যেন রীতিমতো খড়কুটোর মতো উড়ে গেল সহজ জয় নিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করা বাংলাদেশ বয়েজ একাডেমি সামনে। খাগড়াছড়ির দলটি ন্যূনতম প্রতিদ্বন্দ্বিতাও জানাতে পারেনি চট্টগ্রামের স্থানীয় দলটিকে। ফলে কপালে জুটল তাদের ৫-০ গোলের লজ্জাজনক পরাজয়। এ জয়ের ফলে দ্বিতীয় দল হিসেবে আঞ্চলিক পর্বের ফাইনাল নিশ্চিত করে বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমি। ম্যাচে কেবল একবার বল জালে জড়াতে পারলেও সতীর্থদের দিয়ে আরও দুটি গোল করানোর পাশাপাশি এ ম্যাচে চমৎকার খেলায় ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি জিতে নেন বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমির উইঙ্গার নুরজাহান খাতুন।

সবশেষে দিনের সর্বশেষ এবং চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্বের সমাপনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় সুইহলামং ফুটবল একাডেমি বনাম বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমি। খাতা-কলমে এবং প্রভাব বিবেচনা আক্ষরিক অর্থে এ দুটি দুলই ছিল চট্টগ্রাম পর্বের সবচেয়ে সেরা দল। বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমি দুই ম্যাচে দুই জয় নিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পথে প্রতিপক্ষের জালে আটবার বল পাঠালেও নিজেদের জাল রেখেছিল অক্ষত। পক্ষান্তরে সুইহলামং ফুটবল একাডেমি এক ড্র এবং এক জয় নিয়ে ফাইনালে ওঠার পথে ছয়টি গোল করলেও হজম করেছিল দুটি গোল। ফলে চমৎকার এবং প্রভাব বিস্তারকারী ফুটবল উভয় দল খেললেও বাজির দরে কিছুটা হলেও এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমি।

কিন্তু মাঠে খেলা গড়াতে না গড়াতেই পাল্টে গেল সমস্ত সমীকরণ। বল পায়ে দারুণ সুসংগঠিত থাকা সুইহলামং ফুটবল একাডেমি শুরু থেকেই বলের দখল নিজেদের কাছে রেখে আক্রমণ করে যাচ্ছিল প্রতিপক্ষ শিবিরে। বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমির গোলরক্ষক শিফা আক্তারের দৃঢ়তায় বেশ কয়েকবার হতাশ হতে হলো রাঙামাটির দলটিকে। এর মধ্যেই আচমকা এগিয়ে গেল বাংলাদেশ বয়েজ ফুটবল একাডেমি, সুইহলামং ফুটবল একাডেমির রক্ষণভাগের ভুলের সুযোগ নিয়ে খালি পোস্টে দূরপাল্লার শটে গোল করে এগিয়ে যায় তারা। কিন্তু এরপর যা হলো, তা দলটি ভুলে গেলেই যেন বাঁচে। আহত বাঘের এক অনন্য রূপ দেখল তারা। সুইহলামং ফুটবল একাডেমি পিছিয়ে গিয়েও মাঠে তুলল ঝড়। সেই ঝড়ের শেষটা হয় দলটির ৬-২ গোলের বিশাল জয় নিয়ে। উমেহ্লা মারমার হ্যাটট্রিক, সঙ্গে মামনি চাকমা আর দলপতি ক্রানুচিং মারমাদের দারুণ নৈপুণ্যবলে অর্জিত এ জয়ের ফলেই চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পর্বের বিজয়ী হয়ে চূড়ান্ত পর্বে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সুইহলামং ফুটবল একাডেমি।

পুরো আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রাম বন্ধুসভা।

প্রথম ম্যাচে দলের পক্ষে সমতাসূচক একমাত্র গোলটি করেন উমেহ্লা মারমা। সেমিফাইনালে করেন জোড়া গোল, আর ফাইনালে দর্শনীয় এক ফ্রি-কিকসহ হ্যাটট্রিক। এভাবে তিন ম্যাচে ৬ গোল করে বৃত্ত পূরণ করা উমেহ্লা নির্বাচিত হয়েছেন ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়। তাঁর হাতে ম্যাচসেরার পুরস্কার তুলে দেন প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী, টুর্নামেন্ট কমিটির সদস্য ও প্রথম আলোর ক্রীড়া বিভাগের বিশেষ প্রতিনিধি মাসুদ আলম এবং চট্টগ্রাম বন্ধুসভার উপদেষ্টা নাজিম উদ্দিন।

পুরো আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চট্টগ্রাম বন্ধুসভা। প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন সহসাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ রেজা ও কার্যনির্বাহী সদস্য মারুফ উল হক। দুই দিনব্যাপী এ কর্মযজ্ঞে আরও ছিলেন সহসভাপতি নুরুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক ইরফাতুর রহমান, সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয় চক্রবর্ত্তী, দুর্যোগ ও ত্রাণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন, মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক আফিফ ইব্রাহীম, কার্যনির্বাহী সদস্য শাওন রায়, তাজরিয়া রশিদ, বইমেলা সম্পাদক সামিয়া সুলতানা, দপ্তর সম্পাদক সাকিব জিশান, প্রশিক্ষণ সম্পাদক বহ্নি শিখা পর্ণা, বন্ধু কারিবুল হাসান, অদ্রিক রায়, রোকসানা জেয়াছমিন, খাদিজা আক্তার, গেহরিন নাসরিন, সামিয়া সরকার, আলভির হোসাইন, সাইয়েদ বিন সাগর, ওয়াসিম আকরামসহ অন্য বন্ধুরা।

মুক্তিযুদ্ধ ও গবেষণা সম্পাদক, চট্টগ্রাম বন্ধুসভা

Read full story at source