ব্যবসায়ী শিহাবকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে তাঁর প্রেমিকা হত্যা করেছে, দাবি পরিবারের

· Prothom Alo

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ব্যবসায়ী শিহাব উদ্দিনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তাঁর পরিবার। পরিবারের সদস্যদের দাবি, শিহাবকে পরিকল্পিতভাবে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলে হত্যা করেছে তাঁর প্রেমিকা। পরে হত্যার ঘটনাকে আত্মহত্যা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

আজ রোববার বেলা ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষ থেকে এই দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে শিহাবের বাবা যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী ব্যবসায়ী আবদুল মালেক, তাঁর ভাই সালাহউদ্দিন মালেক, শামীম এম এ মালেক ও সাইফুদ্দিন মালেকসহ স্বজনেরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে।

Visit palladian.co.za for more information.

গত ২০ আগস্ট বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার নিজের বাসা থেকে শিহাব উদ্দিন ওরফে সাগরের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ২৫ আগস্ট তাঁর বড় ভাই সাইফুদ্দিন মালেক বাদী হয়ে ঢাকার ভাটারা থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগ এনে মামলা করেন। মামলায় মাহজাবিন ইসলাম রিয়া নামে শিহাবের প্রেমিকাকে আসামি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে শিহাবের ভাই সালাহউদ্দিন মালেক বলেন, শিহাব ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে রেস্তোরাঁ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরে ঢাকায় এসে গাড়ি কেনাবেচার ব্যবসা শুরু করেন। এখানে শিহাবের সঙ্গে মাহজাবিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাঁকে ‘হানিট্র্যাপে’ ফেলা হয়। শিহাব মাহজাবিনকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সে তাতে রাজি ছিল না। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়।

সম্পর্কের অবনতি হলে শিহাব বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথাও বলেন বলে জানান সালাহউদ্দিন। তিনি বলেন, এরপর শিহাব চট্টগ্রামে ফিরে যান। ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে মাহজাবিনের আমন্ত্রণে ঢাকায় আসেন। পরদিন ছিল তাঁর জন্মদিন। ২১ আগস্ট চট্টগ্রামে ফেরার জন্য বিমানের টিকিটও করেন শিহাব। কিন্তু ফেরার আগেই ২০ আগস্ট সন্ধ্যায় বসুন্ধরার বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

ঘটনার দিনের বাসার সিসিটিভি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজের বরাত দিয়ে সাইফুদ্দিন মালেক দাবি করেন, সেদিন বাসায় মাহজাবিনকে বঁটি হাতে শিহাবকে হত্যার হুমকি দিতে দেখা গেছে। এ ছাড়া মরদেহ উদ্ধারের সময় ওই বাসায় তত্ত্বাবধায়ক মুসা ও এক অজ্ঞাত নারী উপস্থিত ছিলেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁরা সেখানে কী করছিলেন, এই প্রশ্ন রয়েছে তাঁদের মনে।

মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তরের দাবি জানান সাইফুদ্দিন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা, শারীরিক আঘাতের চিহ্ন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং ঘটনার আগে ও পরের ফোনকল ও খুদে বার্তার তথ্য খতিয়ে দেখার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী সাইফুদ্দিন মালেক অভিযোগ করেন, ঘটনার দুই মাস পেরোলেও মামলার প্রধান আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। উল্টো প্রধান আসামি জামিন পাওয়ায় তাঁরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।

মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিহাবের সঙ্গে মাহজাবিনের প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে টানাপোড়েন চলছিল। কয়েক দিন ধরেই তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছিল। এর জেরেই শিহাব আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে মনে হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনেও আত্মহত্যার কথা বলা হয়েছে। তবে তদন্ত এখনো শেষ হয়নি।

ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, আসামি মাহজাবিন ইসলাম আদালত থেকে জামিন নিয়েছেন। আত্মহত্যার প্ররোচনায় তাঁর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Read full story at source