শিশুকে দোকানে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ, সালিসে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা

· Prothom Alo

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তাঁর দোকানে জোর করে নিয়ে এক শিশুকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে সালিসে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার। পরে তারা ওই ব্যবসায়ীর নামে থানায় মামলা করে।

Visit michezonews.co.za for more information.

আসামি ইয়াসিন মিয়ার (৫০) স্থানীয় বাজারে আসবাব বিক্রির দোকান আছে। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক।

মামলার এজাহার ও শিশুর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের স্থানীয় বাজারে তেল কিনতে যায় ওই শিশু। বাজার থেকে ফেরার পথে ইয়াসিন মিয়া তাকে জোর করে তাঁর দোকানের ভেতরে নিয়ে যান এবং ধর্ষণ করেন। এ সময় তিনি শিশুটিকে মেরে ফেলার হুমকি এবং ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে তাকে দোকান থেকে বের করে দেন। বাড়িতে ফিরে শিশুটি মায়ের কাছে সব ঘটনা খুলে বলে।

শিশুর বাবা অভিযোগ করেন, সালিস–মীমাংসার নামে ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। গত শুক্রবার রাতে বাদৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলামের উপস্থিতিতে সালিস বসে। সেখানে ইয়াসিনকে শুধু ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি দফারফা করার চেষ্টা চলে। কিন্তু তিনি (শিশু বাবা) রাজি হননি। আইনের আশ্রয় নেওয়ার কথা জানালে ইয়াসিন ও বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। পরে শনিবার রাতে ইয়াসিনকে আসামি করে থানায় মামলা করেন।

এসব অভিযোগ সম্পর্কে বিএনপি নেতা রবিউল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি তাৎক্ষণিক জানার পর আমরা একত্রে বসেছিলাম। কিন্তু কোনো সালিস হয়নি। ধর্ষণের বিচার তো আর সালিসে হতে পারে না। শিশুর পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। আইন অনুযায়ী এর বিচার হবে।’

ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান ভূঁইয়া জানান, শিশুটিকে আজ সকালে হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসক তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। এরপর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

কসবা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, পুলিশ পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ঘটনার পর থেকে আসামি ইয়াসিন মিয়া পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Read full story at source