অসুখ হলে নামাজ কীভাবে পড়বেন
· Prothom Alo

রোগব্যাধি মানুষের জীবনের একটি স্বাভাবিক অনুষঙ্গ। অসুস্থ অবস্থায় শরীর দুর্বল থাকে, স্বাভাবিক চলাফেরা করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ সময় অনেকেই মনে করেন, শরীর যেহেতু খারাপ, তাই সুস্থ হয়ে একবারে কাজা নামাজগুলো পড়ে নেবেন।
Visit arroznegro.club for more information.
কিন্তু ইসলামে অসুখ হলেই কি নামাজ ছেড়ে দেওয়া বা কাজা করার কোনো সুযোগ আছে? এর সহজ উত্তর হলো—না।
জ্ঞান বা চেতনা থাকা অবস্থায় কোনো অবস্থাতেই নামাজ মাফ নেই। তবে ইসলাম যেহেতু একটি সহজ ও মানবিক ধর্ম, তাই অসুস্থ ব্যক্তির জন্য নামাজ আদায়ের পদ্ধতিতে শিথিলতা দেওয়া হয়েছে।
সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১১৭দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তবে বসে পড়ো, আর যদি তা-ও না পারো তবে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করো।জ্ঞান থাকা পর্যন্ত নামাজ অপরিহার্য
ইমান আনার পর একজন মুসলিমের ওপর সবচেয়ে বড় ফরজ ইবাদত হলো পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ। সুস্থ হোক বা অসুস্থ—চেতনা থাকা পর্যন্ত নামাজ আদায় করতে হবে। মহান আল্লাহ কোরআনে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি কারও ওপর সাধ্যাতীত বোঝা চাপিয়ে দেন না।
আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ কারও ওপর তার সাধ্যাতীত কোনো কাজের ভার চাপিয়ে দেন না।’ (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৮৬)
এই আয়াতের মর্মার্থ হলো, মানুষ যতটুকু শারীরিক সক্ষমতা রাখে, ঠিক ততটুকুর মাধ্যমেই তাকে আল্লাহর ইবাদত করতে হবে। সামান্য জ্বর বা দুর্বলতার অজুহাতে নামাজ কাজা করা ইসলাম সমর্থন করে না।
কীভাবে দান করলে সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূর হবেশারীরিক সক্ষমতা অনুযায়ী শিথিলতা
অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ইসলাম নামাজ আদায়ের পদ্ধতি সহজ করে দিয়েছে। সাহাবি ইমরান ইবনে হুসাইন (রা.) অর্শ্বরোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি নবীজির কাছে নামাজ আদায়ের নিয়ম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ো, যদি না পারো তবে বসে পড়ো, আর যদি তা-ও না পারো তবে শুয়ে শুয়ে নামাজ আদায় করো।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১১১৭)
যদি কোনো রোগীর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে রোগ বেড়ে যাওয়ার বা সুস্থ হতে দেরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা থাকে, অথবা মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার ভয় থাকে, তবে তার জন্য বসে রুকু-সেজদা করে নামাজ আদায় করা সম্পূর্ণ বৈধ। (আল-মারগিনানি, আল-হিদায়া শারহুল বিদায়া, ১/৭৪, মাকতাবাতুল বুশরা, করাচি, ২০০৬)
অসুস্থ অবস্থায় পানি ব্যবহার করলে যদি রোগ বেড়ে যাওয়ার বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, তবে ইসলাম ওজু বা গোসলের পরিবর্তে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছে।
ইশারায় নামাজ আদায়ের বিধান
যদি রোগীর অবস্থা এমন হয় যে তিনি বসতেও পারছেন না, তখন তিনি পিঠের ওপর ভর দিয়ে বা একপাশে কাত হয়ে শুয়ে নামাজ পড়বেন। এ অবস্থায় মাথা নেড়ে ইশারায় রুকু ও সেজদা করবেন। সেজদার জন্য মাথার ইশারা রুকুর চেয়ে একটু বেশি নিচু করতে হবে।
কিন্তু যদি মাথা নেড়ে ইশারা করার শক্তিটুকুও না থাকে, তবে তাঁর আর ইশারা করার প্রয়োজন নেই। ইসলামি ফিকহের বিধান অনুযায়ী, চেতনা না থাকলে বা মাথার ইশারা করার শক্তি হারিয়ে ফেললে শুধু তখনই নামাজ স্থগিত থাকবে এবং সুস্থ হলে তা কাজা করে নিতে হবে।
অসুস্থ হলে মুমিন যেভাবে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেনওজুর বিকল্প হিসেবে তায়াম্মুম
অসুস্থ অবস্থায় পানি ব্যবহার করলে যদি রোগ বেড়ে যাওয়ার বা মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে, তবে ইসলাম ওজু বা গোসলের পরিবর্তে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করার অনুমতি দিয়েছে।
পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘আর যদি তোমরা অসুস্থ হও কিংবা সফরে থাকো... এবং পানি না পাও, তবে পবিত্র মাটি দিয়ে তায়াম্মুম করো; তা দিয়ে তোমাদের মুখমণ্ডল ও হাত মাসেহ করো।’ (সুরা নিসা, আয়াত: ৪৩)
অর্থাৎ, রোগীকে শুধু পানি ব্যবহারের ভয়ে নামাজ ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি, বরং পবিত্র হওয়ার বিকল্প পথ দেখিয়ে দেওয়া হয়েছে।
’সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪০যেকোনো মুসলিম যখন কোনো কষ্ট, রোগব্যাধি বা অন্য কোনো সমস্যায় ভোগে, তখন আল্লাহ এর মাধ্যমে তার পাপগুলো এমনভাবে ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।অসুস্থতা মূলত পাপ মাফের মাধ্যম
মুমিনের জন্য রোগব্যাধি কোনো শাস্তি নয়, বরং এটি পাপ মোচনের একটি বড় মাধ্যম। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো মুসলিম যখন কোনো কষ্ট, রোগব্যাধি বা অন্য কোনো সমস্যায় ভোগে, তখন আল্লাহ এর মাধ্যমে তার পাপগুলো এমনভাবে ঝরিয়ে দেন, যেমন গাছ থেকে পাতা ঝরে পড়ে।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৫৬৪০)
তাই অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট করে আল্লাহর বিধান পালন করলে তার আধ্যাত্মিক মর্যাদা ও সওয়াব বহুগুণে বেড়ে যায়।
সামান্য জ্বর, মাথাব্যথা বা শারীরিক দুর্বলতার কারণে নামাজ কাজা করা বা ছেড়ে দেওয়া অনুচিত। জ্ঞান থাকা অবস্থায় নামাজ মাফ হওয়ার কোনো বিধান ইসলামে নেই। তাই অসুস্থ হলে ইসলামপ্রদত্ত সহজ বিকল্প পদ্ধতিগুলো গ্রহণ করে নামাজ আদায় করাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
সবচেয়ে সুখী মানুষ হওয়ার শিক্ষা নবীদের জীবন থেকে