শখের মোটরসাইকেল কেনার ২৭ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল তরুণের

· Prothom Alo

শাহাদাত হোসেন প্রধান

‘হাসিমুখে ছেলেটা বের হলো, ফিরল লাশ হয়ে। বিদেশে থাকায় ছেলের মুখটাও দেখতে পারল না বাপে।’ বিলাপ করতে করতে আজ শুক্রবার দুপুরের কথাগুলো বলছিলেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত শাহাদাত হোসেন প্রধানের (২৩) মা শাহানা বেগম।

শাহাদাত কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা ইব্রাহিম খলিল প্রধান লিবিয়াপ্রবাসী। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে শাহাদাত ছিলেন দ্বিতীয়। বড় ভাই আহাদ হোসেন প্রধান সংযুক্ত আরব আমিরাতপ্রবাসী। সবার ছোট বোন ইভা আক্তারের বিয়ে হয়ে গেছে।

Visit rouesnews.click for more information.

শাহাদাতের মা শাহানা বেগম বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে মোটরসাইকেল নিয়ে হাসিমুখে শাহাদাত ছোট খালা হেলেনা আক্তারের স্বামীর বাড়ি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট সদরের উদ্দেশে রওনা দেয়। যাওয়ার সময় তিনি ছেলেকে এগিয়েও দেন।

পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সকাল নয়টার দিকে বাড়ির কিছুটা দূরে ঢাকা-মতলব সড়কের দাউদকান্দি উপজেলার মাদলা গ্রামের কাছে পৌঁছালে মতলবগামী দ্রুতগতির একটি প্রাইভেট কারের সঙ্গে শাহাদাতের মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। তাঁকে প্রথমে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনার প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁরা দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছান। পরে শাহাদাতকে রাজধানীর কাকরাইলে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

ছেলেকে হারিয়ে কিছুতেই আহাজারি থামছে না শাহানা বেগমের। দৌলতপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা। ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শাহাদাত দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেলটি চালাতে গিয়ে গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে অতিক্রম করতে গিয়ে প্রাইভেট কারের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। দুর্ঘটনার পর প্রাইভেট কার নিয়ে চালক পালিয়ে যান।

আজ শুক্রবার সকাল নয়টায় দৌলতপুর গ্রামের ঈদগাহ মাঠে জানাজা শেষে গ্রামের সামাজিক কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।

ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর খবরে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে বাড়ি পৌঁছান বড় ভাই আহাদ হোসেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, শাহাদাত ২০১৯ সালে স্থানীয় পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। পরে লেখাপড়া বন্ধ করে দেন। তাঁর একমাত্র শখ ও নেশা ছিল মোটরসাইকেল এবং নিজের মোটরসাইকেল নিয়ে স্বজনদের বাড়িতে বেড়াতে যাওয়া।

আহাদ হোসেন বলেন, ছোট ভাইয়ের শখ মেটাতে ২৭ দিন আগে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় তিনি মোটরসাইকেলটি কিনে দিয়েছিলেন। সেই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তাঁর ছোট ভাই মারা গেল।

শাহাদাতের বাবা ইব্রাহিম খলিল লেবাননে আছেন। বৈধ কাগজপত্র না থাকায় তিনি দেশে ফিরতে পারছেন না। নিহত ছেলের মুখটা শেষবারের মতো দেখতে পারেননি তিনি।

দাউদকান্দি মডেল থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, তিনি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা এবং মোটরসাইকেলচালক মারা যাওয়ার কথা শুনেছেন। এ ব্যাপারে দাউদকান্দি মডেল থানায় কেউ অভিযোগ করেননি।

Read full story at source