উৎসবের দিনে সাইরেনের শব্দে আতঙ্কে ছুটছেন ইসরায়েলিরা

· Prothom Alo

অন্য যেকোনো বছর ইহুদিদের পুরিম উৎসবের সময় তেল আবিবের ডিজেনগফ চত্বর দিয়ে চলাচল করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। নানা রঙের পোশাক পরে, রাজা-রানি বা ধর্মগ্রন্থে উল্লেখিত কোনো চরিত্রের মতো সেজে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্করা চত্বর ঘিরে সড়কগুলোতে জড়ো হন। প্রায় প্রতিটি বাড়ির ছাদে পার্টি চলে, উচ্চ শব্দে গান বাজে, বাসিন্দারা ভোর পর্যন্ত উৎসব উদ্‌যাপন চালিয়ে যান।

Visit albergomalica.it for more information.

এটি এমন একটি উৎসব, যা তেল আবিবকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

তবে এ বছর ছুটি শুরু হওয়ার দিন সোমবার সন্ধ্যায়ও চত্বরটি ছিল নীরব। শনিবার ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরুর পর থেকে তেল আবিবের রাস্তাঘাট বেশির ভাগই ফাঁকা হয়ে গেছে।

গত সোমবার শুধু অল্প কয়েকজন মানুষকে খোলা আকাশের নিচে ক্যাফেগুলোতে বসে থাকতে দেখে গেছে। কেউ কেউ খানিকটা সেজে এসেছেন বটে, তবে বন্ধ দোকানপাট আর ফাঁকা ফুটপাতের মাঝে তাঁদের বেশ বেমানান লাগছিল। যাঁরা ঘর থেকে বের হয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই কেবল বিমান হামলার সাইরেনের ফাঁকে ফাঁকে সামান্য রোদ উপভোগ করছিলেন।

চল্লিশোর্ধ্ব লেখক ড্যাফনা লুস্টিগ বলেন, ‘এটি যদি স্বাভাবিক একটি পুরিম হতো, তাহলে এখানে আপনি এমনকি নড়াচড়া করারও জায়গা পেতেন না।’ লুস্টিগের বাড়ি ডিজেনগফ চত্বরের দিকে মুখ করা।

শনিবার থেকে ইরানও ইসরায়েলি হামলার জবাব দিতে শুরু করে। ইরান বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, যার ফলে ইসরায়েলের সাধারণ মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্র ও নিরাপদ কক্ষের দিকে ছুটতে হয়েছে। কেউ কেউ ভূগর্ভস্থ আশ্রয়কেন্দ্রগুলো অচেনা মানুষদের সঙ্গে ভাগ করে নিচ্ছেন।

ইরানের হামলা শুরু হলে তেল আবিবের একটি বম্ব শেল্টারে আশ্রয় নিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা

লুস্টিগ বলেন, ‘আগেরবারের মতো আতঙ্কের ভাব নেই। এবার মানুষ জানে, সময় আছে। তারা ভয়ে সঙ্গে সঙ্গে লাফ দিচ্ছে না। একধরনের রুটিন করে সব চলছে, যদিও এটিকে “রুটিন” বলতে খুব মন খারাপ লাগে।’

ইসরায়েলিদের জন্য এটি পরিচিত এক প্রক্রিয়া। প্রায় দুই বছর ছয় মাস ধরে চলমান সংঘাত তাদের সাইরেনের শব্দের সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলেছে।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে গাজা থেকে ইসরায়েলে আক্রমণের পর তারা এর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে।

ইসরায়েলকে গাজা থেকে রকেট হামলা, লেবানন থেকে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইরান ও ইয়েমেনের হুতি বাহিনীর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

তাই তেল আবিবের মানুষের জন্য সাইরেনের শব্দ আর আশ্রয়কেন্দ্রে ছোটাছুটি এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে গেছে।

ঠিক এই সময়ে কেন ইরানে হামলা, কী চায় ইসরায়েল

Read full story at source