যে কারণে নারী পেইন্টারদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে এখন
· Prothom Alo
যুগ যুগ ধরে ঘর রং করার কাজে পুরুষ পেইন্টার দেখে আমরা অভ্যস্ত। দেশে প্রথমবারের মতো এই দৃশ্য বদলে দিয়েছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ। ২০২৩ সালে নারী পেইন্টারদের নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করে আলাদা একটি প্রকল্প ‘এক্সপ্রেস পেইন্টিং সার্ভিস বাই ফিমেল’। ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাফল্যের সঙ্গে এই সেবা দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির নারী কর্মীরা। ভবিষ্যতে এ সেবা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কীভাবে শুরু হয়েছিল এ যাত্রা? দিন দিন কেন বাড়ছে এই সেবার জনপ্রিয়তা?
একটি বাড়ি তৈরির পর রঙের কাজ শেষ করে তবেই সেখানে ওঠা হয়; কিন্তু যে বাড়িতে কেউ থাকেন, সেই বাড়ির অন্দরে যখন নতুন করে রং করাতে হয়, তখন পুরো পরিস্থিতিই থাকে আলাদা। সাধারণত এ রকম সময় অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাড়িতে থাকেন পরিবারের কোনো না কোনো নারী সদস্য। দিনের লম্বা একটা সময় অন্দরে অচেনা পুরুষ পেইন্টাররা কাজ করেন। অনেক পরিবারই অস্বস্তিতে পড়ে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
অন্দরে থাক স্বস্তি
বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং ক্যাটাগরির প্রধান সাইদ শরীফ রাসেল জানান, তাঁদের বেশ কিছু গ্রাহক নিজেদের ঘর রং করানোর জন্য মূল্য পরিশোধের পরও কাজ শুরু করাতে দেরি করছিলেন। কেবল পুরুষ পেইন্টারদের দিয়ে রং করানোর অস্বস্তির কারণেই এই বিলম্ব। অনেকেই চান, কোনো পুরুষ সদস্য যখন বাসায় থাকেন, তখন রং করাবেন। গ্রাহকদের এই অস্বস্তি কাটাতেই রং করানোর কাজে নারী পেইন্টার নিয়োগের কথা ভেবেছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার কথাও তারা ভেবেছে।
রঙের কাজটা তাঁরা করেনও যত্নের সঙ্গেসেখান থেকেই প্রতিষ্ঠানটি হাতে নিয়েছিল ভিন্নধর্মী এই প্রকল্প। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা কিংবা ধর্মীয় বিধিনিষেধের কারণে যেসব নারী বাড়ির অন্দরে পুরুষদের দিয়ে কাজ করাতে অস্বস্তিতে পড়েন, তাঁদের জন্য স্বস্তি এনে দিয়েছেন নারী পেইন্টাররা। রঙের কাজটা তাঁরা করেনও যত্নের সঙ্গে। দিন দিন তাই এই প্রকল্পে গ্রাহকের চাহিদা বাড়ছে। আর বেশ কয়েক বছর ধরে কাজ করতে গিয়ে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠা নারী পেইন্টাররা এখন নিজেদের দলকে নেতৃত্বও দিচ্ছেন। পদোন্নতি পেয়ে তাঁরা হয়েছেন মাস্টার পেইন্ট কন্ট্রাক্টর।
অফিস ইন্টেরিয়রে যে বিষয়গুলো থাকতে হয়, জানালেন স্থপতি ও অন্দরসজ্জাবিদ মোহাম্মদ ফয়েজ উল্লাহযেভাবে গড়ে উঠেছে কর্মী দল
নারী গ্রাহক ও নারী কর্মী—সবার জন্যই স্বস্তি ও নিরাপত্তার এক দারুণ আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছে এই প্রকল্পকাজটা তো আর কেবল ‘এলাম, রং করলাম, চলে গেলাম’ গোছের নয়; বরং এখানে প্রায়োগিক বিজ্ঞানের মতো নানা বিষয় জড়িত। আগ্রহী নারীদের প্রথমে তাই প্রশিক্ষণ দিয়েছে বার্জার ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। তারপর নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতার প্রমাণ দিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে প্রত্যয়ন নিতে হয়েছে। সব ধাপ পেরিয়েই এখন সাহসিকতা আর পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজটা করে চলেছেন তাঁরা। নারীর ক্ষমতায়নে একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পুরস্কারে দুটি আলাদা বিভাগে জয়ীও হয়েছে তাদের এই প্রকল্প।
কাপ্তাই লেকে হাউসবোটে থাকতে চান? জেনে নিন খরচসহ বিস্তারিতবদলে যাওয়া জীবন
স্বামীকে হারানোর পর ঊর্মি ইসলামের সাজানো সংসারটা এলোমেলো হয়ে যায়। তখন রাজধানীর নামকরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ছিল তাঁর দুই সন্তান। বাবার অনুপস্থিতিতে সন্তানদের জীবনের স্বাভাবিক ছন্দ হারিয়ে যেতে বসেছিল। মা হিসেবে এটা মেনে নিতে পারেননি ঊর্মি। চেয়েছিলেন, সন্তানদের জীবন আগের ছন্দেই চলুক। কিন্তু শিক্ষাগত যোগ্যতায় পিছিয়ে থাকা মায়ের জন্য কাজটা সহজ ছিল না। বার্জারের এক্সপ্রেস পেইন্টিং সার্ভিস বাই ফিমেলে যোগ দিয়ে সেই কঠিন পরিস্থিতি সামলে নিতে সক্ষম হন ঊর্মি। এখানে কাজ করেই সন্তানদের সব খরচ চালিয়ে গেছেন। এক সন্তান এখন প্রতিষ্ঠিত। অন্যজনের পড়ালেখা এখনো চলছে।
ঈদের ছুটিতে ঢাকায় থাকলে আপনার সেরা গন্তব্য হতে পারে উদয়পুরআরেক লড়াকু নারী সীমা আক্তার। পরিবারের বড় মেয়ে। আর্থিক অনটনের মধ্যে বড় হয়েছেন। যুক্ত ছিলেন পোশাকশিল্পে। তবে সেখানে নারীবান্ধব পরিবেশ পাননি। রাত জেগে কাজ করতে হতো। তবে প্রতিকূল কর্মপরিবেশও তাঁর মন ভেঙে দিতে পারেনি। নিজ উদ্যোগে কলেজে ভর্তি হয়েছেন। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। পাস করার পর প্রশিক্ষণ নিয়ে যোগ দিয়েছেন এক্সপ্রেস পেইন্টিং সার্ভিস বাই ফিমেলে।
সব ধাপ পেরিয়েই এখন সাহসিকতা আর পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজটা করে চলেছেন তাঁরানারী গ্রাহক ও নারী কর্মী—সবার জন্যই স্বস্তি ও নিরাপত্তার এক দারুণ আবহ সৃষ্টি করতে পেরেছে এই প্রকল্প। বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোনে গিয়ে কিংবা হটলাইন নম্বর ১৬৮০৪ থেকে সহজেই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এই সেবা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। দ্রুত সারা দেশে সেবাটি ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ হাতে নিচ্ছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ।
কী আছে ইউনাইটেড টার্মিনালে