‘অনেকবার গুলি করে, আমার ছেলে মা মা করে কাঁদতে থাকে’

· Prothom Alo

‘আমার ছেলে (ইমাম হাসান তাইম) দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে এবং এসআই সাজ্জাদ গুলি করে। আমার ছেলে মা মা করে মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তার বন্ধু রাহাত তাইমকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখনই ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে অনেকবার গুলি করে। আমার ছেলে মা মা করে কাঁদতে থাকে।’

Visit casino-promo.biz for more information.

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কাজলায় শহীদ ইমাম হাসান তাইমকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সপ্তম সাক্ষী হিসেবে বুধবার জবানবন্দিতে এ কথা বলেন তাঁর বাবা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়া। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–২–এ জবানবন্দি দেওয়ার সময় ছেলের মৃত্যুর বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তিনি কর্মরত আছেন।

ছেলের বন্ধুদের কাছ থেকে তাকে হত্যার বর্ণনা শুনেছেন উল্লেখ করে জবানবন্দিতে ময়নাল হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত কারফিউ শিথিল ছিল। সে সময় তাইম ও তার বন্ধু শাহরিয়ার, রাহাত যাত্রাবাড়ীর কাজলা ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় লিটনের চায়ের দোকানের সামনে আন্দোলনের জন্য অবস্থান করছিল। ২০–২৫ জন পুলিশ তাঁর ছেলে ও তার বন্ধুদের চতুর্দিক দিয়ে ধাওয়া করে। কোনো দিকে যেতে না পেরে তাঁর ছেলে ও তার বন্ধুরা লিটনের চায়ের দোকানে প্রবেশ করে এবং দোকানের শাটার টেনে নিচে নামায়। পুলিশ সদস্যরা দোকানের শাটার খুলে তাঁর ছেলে ও তার বন্ধুদের বের করে লাঠি, রাইফেলের বাঁট দিয়ে অনেক মারতে থাকে।

পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁর ছেলে ও তার বন্ধুদের দৌড় দিয়ে চলে যেতে বলে উল্লেখ করে ময়নাল হোসেন বলেন, তাঁর ছেলে দৌড় দিলে ইন্সপেক্টর (অপারেশন) মামুন পিস্তল দিয়ে গুলি করে এবং এসআই সাজ্জাদ গুলি করে। তাঁর ছেলে মা মা করে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার বন্ধু রাহাত তাকে পেছনের দিকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করে। তখন ইন্সপেক্টর জাকির খুব কাছ থেকে অনেকবার গুলি করে। তাঁর ছেলে মা মা করে কাঁদতে থাকে। একটি গুলি রাহাতের পায়ে লাগে এবং জীবন বাঁচাতে তাঁর ছেলেকে ফেলে চলে যায়।

খবর পেয়ে সেদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যান উল্লেখ করে ময়নাল হোসেন বলেন, হাসপাতালের নতুন বিল্ডিংয়ের ইমার্জেন্সি মর্গে প্রবেশ করে তিনি তাঁর ছেলের লাশ পড়ে থাকতে দেখতে পান। ছেলের লাশের ওপরের দিকে, বুকে, পেটে এবং পায়ে অসংখ্য গুলির চিহ্ন দেখতে পান তিনি। তখন তিনি উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, ‘একটা মানুষ মারতে কয়টি গুলি লাগে?’
পরে ছেলের লাশ রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে গোসল করানো হয় উল্লেখ করে জবানবন্দিতে ময়নাল হোসেন বলেন, গোসলের সময় ছেলের লাশের কোমরের বাঁ পাশে বড় একটি গর্তের দাগ দেখা যায়। তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা এই দাগ দেখে বুঝতে পারেন, এটা পিস্তলের গুলির দাগ।

এই মামলায় মোট ১১ জন আসামি। তাঁদের মধ্যে ৯ জন পলাতক। তাঁরা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান, সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মো. ইকবাল হোসাইন, ডেমরা অঞ্চলের সাবেক উপকমিশনার মো. মাসুদুর রহমান, ওয়ারী অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার এস এম শামীম, সাবেক সহকারী কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, সাবেক পরিদর্শক (তদন্ত) মো. জাকির হোসাইন, সাবেক পরিদর্শক (অপারেশন) মো. ওহিদুল হক ও সাবেক এসআই সাজ্জাদ উজ জামান।

কারাগারে থাকা দুই আসামি হলেন যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান ও সাবেক এসআই মো. শাহদাত আলী। বুধবার তাঁদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

Read full story at source