থাইরয়েড ক্যানসার কি নিরাময়যোগ্য?

· Prothom Alo

থাইরয়েড ক্যানসার নিরাময়যোগ্য রোগ। গলার সামনের দিকে অবস্থিত প্রজাপতি আকৃতির থাইরয়েড গ্রন্থিতে ক্যানসার হলে একটি ব্যথাহীন পিণ্ড, স্বরভঙ্গ বা খাবার গিলতে অসুবিধা হয়। প্রাথমিকভাবে গলার আলট্রাসাউন্ড এবং বায়োপসির মাধ্যমে রোগটি নির্ণয় করা হয়। এর প্রধান চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার। সময়মতো চিকিৎসা করা গেলে এটি সম্পূর্ণ নিরাময় করা সম্ভব।

প্রাথমিক লক্ষণ

Visit mchezo.life for more information.

থাইরয়েড ক্যানসার গুরুতর পর্যায়ে না পৌঁছানো পর্যন্ত প্রায়ই কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে এর সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

l গলার সামনের অংশে অবস্থিত একটি ব্যথাহীন, শক্ত পিণ্ড।

l স্বরভঙ্গ বা কণ্ঠস্বরের পরিবর্তন, যা দীর্ঘস্থায়ী অর্থাৎ ভালো হচ্ছে না।

l শ্বাস নিতে বা গিলতে অসুবিধা।

l ঘাড়ের বা গলার লসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া।

l কানের আশপাশে ব্যথা।

প্রকারভেদ

প্যাপিলারি কার্সিনোমা: এটি সবচেয়ে সাধারণ ধরন। এটি ৮০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে দেখা যায়; যা সাধারণত ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। এটি নিরাময়যোগ্য।

ফলিকুলার কার্সিনোমা: দ্বিতীয় সর্বাধিক প্রচলিত প্রকার, যা সাধারণত দ্রুত শনাক্ত করা গেলে নিরাময়যোগ্য।

মেডুলারি থাইরয়েড ক্যানসার: এটি বিভিন্ন কোষ থেকে উদ্ভূত হয় এবং জিনগত সিনড্রোমের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

অ্যানাপ্লাস্টিক থাইরয়েড ক্যানসার: এটি বিরল, আক্রমণাত্মক এবং চিকিৎসা করা কঠিন—এমন এক প্রকার রোগ, যা সাধারণত বয়স্কদের হয়ে থাকে।

রোগনির্ণয়

গলার আলট্রাসাউন্ড: ভালো আলট্রাসাউন্ড একটি পিণ্ড কতটা ক্যানসারপ্রবণ, তা জানাতে পারে।

ফাইন নিডল অ্যাসপিরেশন বায়োপসি: ক্যানসার পরীক্ষার জন্য নডিউল (পিণ্ড) থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় ও বায়োপসি করে দেখা হয়।

রক্ত পরীক্ষা: সাধারণত থাইরয়েড হরমোন পরীক্ষার ফলাফল স্বাভাবিক আসে। তাই ক্যালসিটোনিনের মতো নির্দিষ্ট পরীক্ষা করা যেতে পারে।

চিকিৎসা 

সার্জারি: এটি সবচেয়ে প্রচলিত চিকিৎসা। থাইরয়েড গ্রন্থির সম্পূর্ণ অংশ (থাইরয়েডেক্টমি) বা আংশিক অপসারণ করা হয়।

তেজস্ক্রিয় আয়োডিন থেরাপি: অস্ত্রোপচারের পর অবশিষ্ট থাইরয়েড কোষ ধ্বংস করতে ব্যবহৃত হয়।

থাইরয়েড হরমোন থেরাপি: গ্রন্থি ফেলে দেওয়ার পর হরমোন প্রতিস্থাপন এবং টিএসএইচ দমন করার জন্য উচ্চমাত্রায় থাইরক্সিন ওষুধ ব্যবহার করা হয়। টিএসএইচ বেড়ে গেলে ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ঘটাতে পারে।

টার্গেটেড থেরাপি: উন্নত বা অ্যানাপ্লাস্টিক ক্ষেত্রে বিশেষভাবে ব্যবহৃত ওষুধ (যেমন বিআরএএফ ইনহিবিটর)।

এক্সটার্নাল বিম রেডিয়েশন/কেমোথেরাপি: সাধারণত আরও গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়।

ডা. রতন লাল সাহা, কনসালট্যান্ট, জেনারেল ও ল্যাপারোস্কপিক সার্জারি; চেম্বার: আলোক হাসপাতাল, মিরপুর-৬

Read full story at source