মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বিস্ফোরণে নিহত ৫৫: বিবিসি
· Prothom Alo

মিয়ানমারের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত একটি অঞ্চলের গ্রামে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন। স্থানীয় একটি সূত্র বিবিসিকে এমন তথ্য দিয়েছে।
Visit palladian.co.za for more information.
চীন সীমান্তের কাছে শান রাজ্যের নামখাম শহরতলির কাউং তাত গ্রামে হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র বলেছে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২৫ জন নারী ও ৩০ জন পুরুষ। তবে অন্য কিছু প্রতিবেদনে নিহত মানুষের সংখ্যা সামান্য ভিন্নভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
গতকাল রোববার বিস্ফোরণের কিছুক্ষণ পরই গ্রামটিতে বিশাল ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা যায়।
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণে থাকা এবং মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সশস্ত্র গোষ্ঠী তাআং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) বলেছে, খনি ও পাথর উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত বিস্ফোরক থেকে এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
টিএনএলএর বিবৃতিতে উদ্ধৃত করে এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, স্থানীয় সময় রোববার দুপুর ১২টা (গ্রিনিচ মান সময় ০৫:৩০) নাগাদ এই ‘বিস্ফোরণ’ ঘটে। একে দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ বলে উল্লেখ করেছে টিএনএলএ। গোষ্ঠীটি আরও বলেছে, ‘এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামবাসী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন; পাশাপাশি তাঁদের বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, সে বিষয়ে টিএনএলএ বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণে বিশাল একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। আশপাশের বহু ভবন বিধ্বস্ত হয়েছে। পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ এবং দুমড়েমুচড়ে যাওয়া গাছপালা থেকে তখনো ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে।
বিস্ফোরণের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ ও চরম বিভ্রান্তির কথা বর্ণনা করেছেন।
এক বাসিন্দা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, প্রথম দিকে অনেকেই ধারণা করেছিলেন যে এটি কোনো বিমান হামলা। তাঁর পোস্ট অনুযায়ী, নিহত মানুষের মধ্যে শিশুরাও আছে। এ ছাড়া শত শত বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে প্রায় পুরো একটি মহল্লাই বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও লিখেছেন, ‘নিছক ভাগ্যের জোরেই আমার মুঠোফোন আমার জীবন বাঁচিয়েছে। আমি তখন নিজের শোবার ঘরে বসে নুডলস খাচ্ছিলাম এবং ফোন দেখছিলাম। যদি রান্নাঘরে বসে খেতাম, তাহলে সম্ভবত আজ আমি বেঁচে থাকতাম না।’
ওই বাসিন্দা বলেন, বিস্ফোরণে তাঁর পায়ে সামান্য আঘাত লেগেছে। তাঁর নিজের বাড়িটিও পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
ওই বাসিন্দা লিখেছেন, ‘মানুষ কান্নাকাটি করছিল, নিজেদের মা–বাবাকে খুঁজে ফিরছিল। মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবীর শেষ দিন এসে গেছে।’
কীভাবে আবাসিক এলাকার এত কাছে বিস্ফোরক সংরক্ষণের এমন একটি স্থাপনা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর মতে, কর্তৃপক্ষ ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা না দেওয়া পর্যন্ত নিহত ব্যক্তিদের পরিবার শান্তি পাবে না।
মিয়ানমারে সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে লড়াইরত সবচেয়ে শক্তিশালী জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একটি হলো টিএনএলএ।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের অনেক বিদ্রোহী গোষ্ঠী তাদের সামরিক কার্যক্রমের অর্থ জোগাতে মূল্যবান খনিজ উত্তোলনের ওপর নির্ভর করে। তবে এসব খনিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সেখানে খনিধস অনেকটা নিয়মিত ঘটনার মতো হয়ে উঠেছে।