বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু নিয়ে ব্রাজিল–ফ্রান্সের অসন্তোষ, ফিফা কী বলছে

· Prothom Alo

২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির ইস্ট রাদারফোর্ডে অবস্থিত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে। বিশ্বকাপের জন্য যার নাম রাখা হয়েছে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়াম। কিন্তু বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ভেন্যুটি এখন প্রশ্নের মুখে। মাঠের মান নিয়ে প্রকাশ্যেই অসন্তোষ জানিয়েছেন ব্রাজিল ও ফ্রান্সের খেলোয়াড়–কোচরা। তবে সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা।

Visit newssport.cv for more information.

এবারের বিশ্বকাপে নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ হয়েছে। ১৩ জুন ব্রাজিল–মরক্কো (১–১) এবং তিন দিন পর ফ্রান্স–সেনেগাল (৩–১) খেলেছে এ মাঠে। দুটি ম্যাচের পরই মাঠের অবস্থা নিয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেন দুই দলের প্রতিনিধিরা।

মরক্কোর বিপক্ষে গোল করা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র সরাসরিই মাঠ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন, ‘আবহাওয়া ও গরমের কারণে ঘাস খুব দ্রুত শুকিয়ে যায়। ফলে খেলার গতি অনেক ধীর হয়ে পড়ে। আমরা ছন্দ তৈরি করতে পারিনি।’

ফ্রান্স কোচ দিদিয়ের দেশম অবশ্য কূটনৈতিক ভাষাতেই নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। মুখে হাসি রেখে তিনি নিউ জার্সির মাঠকে ‘বিশেষ ধরনের’ এবং ‘ভিন্ন’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে। ঘাসের নিচে হয়তো সিমেন্ট রয়েছে। ঘাসও খুব ছোট। তবে আমরা মানিয়ে নিচ্ছি। এসব কারণে অবশ্যই কিছু পরিবর্তন আসে এবং আমরা সেগুলো মাথায় রাখি।’

ফ্রান্সের মিডফিল্ডার আদ্রিয়াঁ রাবিও অবশ্য দেশমের মতো সংযত ছিলেন না। মাঠের মান নিয়ে তাঁর মন্তব্য ছিল সোজাসাপটা, ‘ওটাকে মাঠ বলা যায় কি না, সেটাই জানি না। বরং কৃত্রিম মাঠের মতো মনে হয়েছে। খুব শক্ত ও অনমনীয় ছিল। অবশ্য দুই দলের জন্যই পরিস্থিতি একই ছিল।’

নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচ খেলেছিল ব্রাজিল–মরক্কো

বিশ্বকাপে এখনো ৬টি ম্যাচ বাকি আছে এ মাঠে। এর মধ্যে গ্রুপ পর্বে খেলবে নরওয়ে–সেনেগাল, জার্মানি–ইকুয়েডর ও ইংল্যান্ড–পানামা। শেষ বত্রিশ ও শেষ ষোলোতেও একটি করে ম্যাচ হবে। এরপর ১৯ জুলাই হবে শিরোপা নির্ধারণী ফাইনাল।

তবে ব্রাজিল ও ফ্রান্স দল থেকে মাঠের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও ফিফা বলছে, উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। সংস্থাটির দাবি, বিশ্বকাপের সব ভেন্যুর মতো নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠও খেলোয়াড়দের জন্য নিরাপদ এবং উচ্চমানের।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ক্রীড়া ওয়েবসাইট দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের জন্য সর্বোত্তম মাঠ নিশ্চিত করতে তারা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে গবেষণা, পরীক্ষা ও উদ্ভাবনী কাজ করেছে। এ জন্য ঘাস বিশেষজ্ঞ, স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ও ফুটবল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করা হয়েছে।

ফিফার ভাষ্য, ‘২০২৬ বিশ্বকাপের ১৬টি স্টেডিয়ামের সব মাঠই খেলার উপযোগিতা ও খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার দিক থেকে চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। নিউইয়র্ক–নিউ জার্সি স্টেডিয়ামের মাঠের কিছু অংশের দৃশ্যমান চেহারা নিয়ে মন্তব্য করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের টার্ফ ব্যবস্থাপনা দলের মূল্যায়ন হলো, মাঠ পুরোপুরি ঠিক আছে এবং বড় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার জন্য যেভাবে কাজ করার কথা, সেভাবেই করছে।’

বিশ্বকাপের ম্যাচে ‘হাইড্রেশন ব্রেক’ আসলে কাদের জন্য

Read full story at source