একে তো জোকস বলছি, তাও আমি, সেটা তো অবশ্যই দামি: চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা

· Prothom Alo

প্রশ্ন: আপনার নাম পূর্ণিমা কেন?

পূর্ণিমা: আমি মেয়ে বলেই হয়তো পূর্ণি-মা রাখা হয়েছে। যদি ছেলে হতাম, আমার নাম পূর্ণি-বাবা হতো হয়তো।

Visit afsport.lat for more information.

প্রশ্ন: পূর্ণিমা কি বাস্তবেও কারও সাথে অভিনয় করেন?

পূর্ণিমা: বাস্তবে আমি সবার সাথে অভিনয় করি। সারাক্ষণই অভিনয় করা হয়। এই অভিনয়টা ইতিবাচক অর্থে করা হয়—যেন আমার সামনের মানুষটার মধ্যে ভালো লাগা তৈরি হয়। থাকে না, আমার মন খারাপ, সেই মন খারাপটা মানুষকে না দেখিয়ে হাসিমুখে কথা বলি। ধরেন আপনার এই ইন্টারভিউর প্যারাটা আমার অসহ্য লাগছে, তারপরও হাসিমুখে দিচ্ছি, এটা কিন্তু পুরোই অভিনয়।

প্রশ্ন: সৎ স্বীকারোক্তির জন্য ধনবাদ!

পূর্ণিমা: জি জি, আপনাকেও ধন্যবাদ। তবে ইন্টারভিউটা মজার হবে

মনে হচ্ছে।

প্রশ্ন: ধরুন, একটা জোক বলছেন। পাঞ্চ লাইন ডেলিভার করলেন। কিন্তু কেউ হাসল না। কী করবেন?

পূর্ণিমা: যেখানে কেউ হাসবে না, ওসব জায়গায় আমি জোকস বলিই না। আমি বুঝে যাই কোথায় সেন্স আছে, কোথায় নেই। যাদের সেন্স অব হিউমার একদম কম, সেখানে জোকস বলার তো প্রশ্নই আসে না।

প্রশ্ন: বিষয়টা কি এমন, ‘আমার জোকসেরও দাম আছে’?

পূর্ণিমা: তা তো অবশ্যই। একে তো জোকস বলছি, তাও আমি, সেটা তো অবশ্যই দামি!

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

প্রশ্ন: আমরা জানি, আপনি আর্জেন্টিনার ভক্ত। আর্জেন্টিনা করার

দুইটা কারণ বলুন।

পূর্ণিমা: ছোটবেলা থেকে যখন বিশ্বকাপ দেখি, এটা যে চার বছর পরপর আসে, এটাই বুঝতাম না। যখন বোঝা শুরু করলাম, দেখি আশপাশে সবাই ম্যারাডোনা, ম্যারাডোনা করত। ম্যারাডোনা কে, আর্জেন্টিনা দেশ কি না—সেটাও তখন আমি জানি না। কিন্তু মানুষ খুব খেলা দেখছে। ম্যারাডোনা হাত দিয়ে গোল করেছে, কী যেন রেকর্ডও ছিল—এসব আলোচনা হতো। তারপর আশপাশে বিল্ডিংগুলোতে দেখতাম যে রং করা নিয়ে কমপিটিশন লাগত। খেলার আগে বিল্ডিংগুলো আকাশি সাদা রং করত, কোনোটা আবার হলুদ আর সবুজের কম্বিনেশনে করত। খেলার সময় বাংলাদেশের পতাকার চেয়ে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনার পতাকাই বেশি টানাত। ওখান থেকেই আমার আর্জেন্টিনাকে চেনা। আর বাসায় যেহেতু সবাই সাপোর্ট করত, আব্বা-আম্মা ম্যারাডোনা ম্যারাডোনা বলত, সেটাও একটা কারণ।

প্রশ্ন: আর্জেন্টিনার মধ্যে এমন কী আছে, যা ব্রাজিলের নেই?

পূর্ণিমা: আর্জেন্টিনায় ম্যারাডোনা ছিল, মেসি আছে—যেটা ব্রাজিলে নেই!

প্রশ্ন: আপনার বর কোন দলের সমর্থক?

পূর্ণিমা: আমার বর আর্জেন্টিনার সমর্থক।

প্রশ্ন: আপনার বর আর্জেন্টিনা করে কি আপনার ভয়ে?

পূর্ণিমা: না না, ওর কারণে আমি আরও বেশি আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে মেতে থাকি। আমি এত বেশি খেলাপাগল ছিলাম না। ও দেখি যে—জার্সি কেনে, মানুষকে গিফট করে, আমাদেরও জন্য আনে, একাকার অবস্থা। এমনকি যারা আর্জেন্টিনা করে না, তাদের জোর করে হলেও আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে দেয়! ওর মধুর যন্ত্রণায় আমি জার্সি পরে খেলা দেখি, এর আগে কখনো এমনটা হয়নি। তখন মনে হয় যে খেলা দেখার সময় সবাই যেহেতু জার্সি পরছে, আমি কেন পরব না!

আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখার সময় পূর্ণিমা

প্রশ্ন: লিওনেল মেসিকে একবেলা রান্না করে খাওয়ানোর সুযোগ পেলে কী রাঁধবেন?

পূর্ণিমা: আগে দেখা হোক, একটু ব্যবস্থা করে দেন দেখা হওয়ার! তারপর দেখি কী খাওয়ানো যায়। মেসি কী পছন্দ করে, সেটাও তো একটা ব্যাপার। মেসিকে কি এখন আমি ঝাল খাওয়াব, শুঁটকিভর্তা খাওয়াব? তাঁর দেশে সে কী আইটেম পছন্দ করে—সেভাবেই আমি খাওয়াব। অবশ্য মেসি এলে আমি রান্না করে খাওয়াতে পারব কি না, তা–ও সন্দেহ। আমি তো তাঁকে দেখে দাঁড়িয়েই থাকব। আপনি আগে দেখা করার ব্যবস্থা করেন, রান্না পরেও দেখা যাবে।

প্রশ্ন: অভিনয়ের বাইরে সবাই তো পূর্ণিমার রসবোধের ভক্ত। পূর্ণিমা কার রসবোধের ভক্ত?

পূর্ণিমা: এ রকম অনেক আছে। আমি তো সবারটা দেখে দেখে অনুকরণ করে শিখেছি। সবচেয়ে বেশি রসবোধের কথা যদি বলি, বলব আমার বন্ধু ফেরদৌস ও শিবলী মুহাম্মদের কথা। দুজনেই আমার ভালো বন্ধু, যদিও তারা আমার সিনিয়র, বয়সের সঙ্গে একেবারেই যায় না। জোর করে বন্ধু ডাকতে হয়। আমাদের সবার একটা গ্রুপ আছে। এই যে জোকস বলা, তাদের দেখেই কিন্তু আমি শিখেছি।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

প্রশ্ন: না জানি সেই শিক্ষকদের কী অবস্থা!

পূর্ণিমা: আমি বলব, ওনাদের এখন আর সেন্সই নাই। আমি যা অ্যাডপ্ট করেছি, আমার সাথে এখন আর ওরা কেউ পারে না। গুরুমারা বিদ্যা বলে না—সেটা শিখে ফেলেছি। আমি এত বেশি রসবোধ শিখেছি, গ্রুপের সবার রসবোধ চলে গেছে। একটা জোকস বললে এখন তারা অনেক পরে বোঝে।

প্রশ্ন: অভিনেত্রী হিসেবে তো সফল। শুধু নেত্রী হতে ইচ্ছা করে?

পূর্ণিমা: নেত্রী হওয়ার ইচ্ছে নাই। মাশা আল্লাহ, মাথায় চুল যেটুকু আছে—এটুকু বাঁচিয়ে রাখতে চাই। কারণ, চুল আমি খুব পছন্দ করি।

প্রশ্ন: ফেসবুক পোস্টে নতুন একটা রিঅ্যাকশন যুক্ত করতে বললে কোনটা যুক্ত করবেন?

পূর্ণিমা: আরও যুক্ত করব! লাইক, ডিজলাইক, হাহাহা সবই তো আছে। সুযোগ থাকলে সব বন্ধের একটা অপশনই বেছে নিতাম। আমি দেখি, এমনও অনেক লোক আছে, যারা স্যাড পোস্টেও হাহাহা রিঅ্যাক্ট দিচ্ছে! আমার আসলে সেই সব মানুষদের খুঁজে বের করার ইচ্ছে, এরপর জিজ্ঞেস করতে চাই—কেন হাহাহা রিঅ্যাক্ট দিয়েছ! মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে বসতে পারলে আমার অনেক কথা আছে। জিজ্ঞেস করতাম, তোমার সমস্যা কী? এমনিতেই সব নষ্ট করে ফেলছ, এরপর রিঅ্যাকশন দিয়ে তো আরও জঘন্য বানিয়ে ফেলছ।

প্রশ্ন: নিজের সম্পর্কে কোন গুজব শুনে হো হো করে হেসেছেন?

আমার অনেক বয়স। যা না, তার থেকে একটু বেশি বা ডাবল—এসব শুনলে সব সময়ই হাসি!

[এই সাক্ষাৎকারটি কাল্পনিক নয়!]

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মনজুর কাদের

Read full story at source