শিল্পের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার: মাহদী আমিন
· Prothom Alo

শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিতে সরকার জ্বালানি নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মুখপাত্র মাহদী আমিন।
Visit raccoongame.org for more information.
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা এখন জ্বালানি নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এখনো অনেক শিল্পকারখানায় গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা রয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কাজ করছি এবং একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমার মধ্যে এসব সমস্যার সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
রাজধানীর র্যাডিসন হোটেলে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ অ্যাপারেল ইয়ুথ লিডার্স অ্যাসোসিয়েশন (বায়লা) আয়োজিত ‘বায়লা ফিউচার সামিট–২০২৬’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধি ও রপ্তানি সম্প্রসারণের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অপরিহার্য।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ আকর্ষণের তিনটি বড় শক্তি হলো বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠী, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার এবং একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার, যা নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে সক্ষম। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বন্দরব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসার ব্যয় কমানো জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, সরকার নতুন শিল্পপার্ক স্থাপন, বন্ডেড ওয়্যারহাউস–সুবিধা সহজীকরণ, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন জোরদারে কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের বিনিয়োগ শুধু অবকাঠামোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা মানুষের ওপর বিনিয়োগ করতে চাই।’
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার উদ্যোক্তাদের, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও বস্ত্রশিল্পের মালিকদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংকঋণের পাশাপাশি পুঁজিবাজার ব্যবহারের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের করপোরেট অর্থায়নের মাত্র ১ শতাংশ পুঁজিবাজার থেকে আসে, যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
অ্যাংকরলিস বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা অংশীদার রাহাত আহমেদ পারিবারিক ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলোকে পেশাদার ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত ‘ফ্যামিলি অফিস’ বা বিনিয়োগ ইউনিট গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্টার্টআপ, প্রাইভেট ইকুইটি ও সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে বৈচিত্র্যময় বিনিয়োগ করা যায়।
বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) এম মাসরুর রিয়াজ দেশের তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি ১০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে ছয় দফার রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় সাফল্যের গল্প হলেও সীমিত পণ্য ও বাজারের ওপর অতিনির্ভরতা নতুন ঝুঁকি তৈরি করছে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সভাপতি ফজলে শামীম এহসান ও পিউব্লিউসি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজিং পার্টনার শামস জামান।
এ ছাড়া সম্মেলনে নীতিনির্ধারক, শিল্প উদ্যোক্তা ও নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়িক নেতারা বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ, প্রতিযোগিতা সক্ষমতা, প্রযুক্তি, বিনিয়োগ, পুঁজিবাজার, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও টেকসই প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রথমবারের মতো বায়লা বাস্তবধর্মী ব্যবসায়িক সমস্যা সমাধান প্রতিযোগিতা বায়লা ফিউচার লিডারস আয়োজন করেছে। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০টির বেশি দল অংশ নেয়। চূড়ান্ত পর্বে বিজয়ী হয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ (আইইউবি) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) দল।
বায়লা ফিউচার লিডারসের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান।