শিকারের পর জবাই করা হলো ৪০০ বক-শালিক
· Prothom Alo

নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার একটি গ্রামে বক ও শালিক পাখি শিকারের পর জবাই করার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, ঘটনাটি ঘটেছে সপ্তাহখানেক আগে; জবাই করা পাখির সংখ্যা অন্তত ৪০০।
Visit esporist.com for more information.
এ ঘটনার ভিডিও আজ শনিবার সকাল থেকে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। ২০ সেকেন্ড ও ২৭ সেকেন্ডের দুটি ভিডিওতে দেখা যায়, চারজন লোক একটি বিল এলাকায় ফাঁদ দিয়ে বক ও শালিক ধরে তা জবাই করে একটি তালগাছের নিচে জড়ো করে রেখেছেন। এ সময় ঘটনাস্থলে আরও কিছু লোককে দেখা গেলেও কেউ শিকারিদের বাধা দেননি।
মহির উদ্দিন, স্থানীয় বাসিন্দাভিডিওটি গত রোববার হাটবিলা বিল থেকে ধারণ করা। তবে ভিডিওটি আজই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে ৪০০টি পাখি মারলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফাঁস জাল দিয়ে মারা পাখিগুলো জড়িত ব্যক্তিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।ফেসবুকের বিভিন্ন পেজে পাখি হত্যার ভিডিওগুলো দেখার পর মন্তব্যের ঘরে ক্ষোভ ও নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি চেয়েছেন নেটিজেনরা। কেউ কেউ পাখি শিখারিদের দেশের শত্রু বলে উল্লেখ করেছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, পাখি হত্যার ঘটনাটি ঘটেছে ১৯ জুলাই উপজেলার খাজুরা ইউনিয়নের হাটবিলা গ্রামের একটি বিলে। পাখি শিকারের জায়গায় হাটবিলা গ্রামের বিপ্লব তালুকদার, আশিক হোসেন, ইসলাম হোসেন এবং সজিব হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জবাই করা পাখির সংখ্যা ছিল ৪০০ থেকে ৫০০। জবাইয়ের পর পাখিগুলো বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে ফেলা হয়।
এ বিষয়ে জানতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বিপ্লব তালুকদার ও আশিক হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁদের মন্তব্য জানা যায়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে জড়িতর ব্যক্তিরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
হাটবিলা গ্রামের বাসিন্দা মহির উদ্দিন বলেন, ভিডিওটি গত রোববার হাটবিলা বিল থেকে ধারণ করা। তবে ভিডিওটি আজই প্রথম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সংঘবদ্ধ একটি চক্র প্রকাশ্যে ৪০০টি পাখি মারলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফাঁস জাল দিয়ে মারা পাখিগুলো জড়িত ব্যক্তিরা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন।
পাখি শিকারের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার তথ্য শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আল এমরান খাঁন জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
রাজশাহীর বন্য প্রাণী পরিদর্শক, বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের জাহাঙ্গীর কবির জানান, শালিক-বক প্রকৃতির বন্ধু। এসব পাখি হত্যা করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।