বাবার দাফন শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন, পথে পেলেন মেয়ের মৃত্যুর খবর

· Prothom Alo

বীর মুক্তিযোদ্ধা বাবার দাফন শেষ করে বাড়ি ফিরছিলেন তুজাম উদ্দিন। ফেরার পথেই মুঠোফোনে খবর পেলেন মেয়ে মুন্নি খাতুন আর নেই। ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে বাবা ও মেয়েকে হারিয়ে পাগলপ্রায় তুজাম। একই দিনে পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে দাদা–নাতনিকে। একই পরিবারের দুই সদস্যের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পূর্বপাড়া গ্রামে।

Visit syntagm.co.za for more information.

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদসংলগ্ন পূর্বপাড়া গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা ফুলবাস আলী (৭৪) বার্ধক্যজনিত কারণে শুক্রবার বিকেলে মারা যান। শনিবার সকাল ১০টায় মানিকদিয়ার গোরস্তানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসের উপস্থিতিতে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।

সাইদুল ইসলাম, শোকার্ত পরিবারটির স্বজনচাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।

বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে সামাজিক কবরস্থানে বাবা ফুলবাস আলীকে দাফন করে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন তুজাম উদ্দিন। এর মধ্যে খবর আসে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা গেছেন তাঁর মেয়ে মুন্নি খাতুন (২০)। তিনি দাদার আদরের নাতনি ছিলেন। প্রায় এক বছর আগে দৌলতপুর থানাপাড়া গ্রামের মোস্তাকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, দাদাকে হারিয়ে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত মরদেহের পাশে বসে নিদ্রাহীন বিলাপ করছিলেন মুন্নি। বিলাপের একপর্যায়ে অসুস্থ হয়ে অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে আজ সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি চলে যান না–ফেরার দেশে।

মুন্নির বাবা তুজাম উদ্দিন জানান, তাঁর মেয়ের ডায়াবেটিস ছিল। কয়েক দিন আগে টাইফয়েড জ্বরও হয়েছিল। এর মধ্যে দাদার মৃত্যুতে খুব ভেঙে পড়েছিল মুন্নি। দুপুরের দিকে দাদার পাশে তাঁকে দাফন করা হয়েছে।

পরিবারটির স্বজন সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘চাচা ফুলবাস আলীর দাফনের পর বাড়ি ফিরতেই ভাতিজি মুন্নির মৃত্যুর খবর পেলাম। এমন শোকের ভার যেন কোনো পরিবারকে কখনো বহন করতে না হয়।’

Read full story at source