বকশীবাজার মোড় থেকে ব্যারিকেড সরিয়ে নিল পুলিশ

· Prothom Alo

রাজধানীর বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়ার আল্লামা কাশগরী (রহ.) হলে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা–কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে বকশীবাজার মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে তাঁরা প্রবেশ করতে পারেননি।

Visit catcross.org for more information.

ব্যারিকেড দিয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্যই এই ব্যবস্থা। এ কারণে আপাতত ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।

আজ বুধবার বেলা ১১টার দিকে পুলিশ এই ব্যারিকেড দেয়। শিবিরের নেতা–কর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা সরে গেলে দুপুর ১টার দিকে পুলিশ ব্যারিকেড তুলে নেয়।

ব্যারিকেড থাকাকালে মাদ্রাসাটির অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাওহিদুল ইসলাম বলেছিলেন, ‘আমি একজন সাধারণ শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে হলে খাবার খাচ্ছিলাম। এমন সময় দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। তখন তাড়াতাড়ি হল থেকে বের হয়ে আসি। এরপর থেকে আর হলে প্রবেশ করতে পারিনি। আগামীকাল আমার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের হাদিস বিভাগের ফাইনাল পরীক্ষা। এখন হলে যেতে চাচ্ছি, পুলিশ বাধা দিচ্ছে। ভেতরে যেতে দিচ্ছে না।’

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আলিয়া মাদ্রাসার সামনে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, গতকাল দুপুরে হলের রুম নিয়ে ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বিকেল ৫টার দিকে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার হলে প্রবেশ করে ছাত্রদল। এরপর তারা শিবিরের নেতা–কর্মীদের দখলে থাকা হলের কক্ষগুলো ভাঙচুর করে। পরে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বের করে দিয়ে তারা হলের ফটকগুলোতে তালা লাগিয়ে দেয়।

বকশীবাজার মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেডের কারণে ভেতরে যেতে না পেরে বসে পড়েন দুজন

আলিয়া মাদ্রাসার শিবিরের সভাপতি আবদুল আলিম প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল হলের একটি বিষয় নিয়ে ছাত্রদলের সঙ্গে তাঁদের বেশ কয়েকবার পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাঁরা (শিবির) পিছু হটেন। পরে যুবদল নেতা রবিউল ইসলাম নয়নের নেতৃত্বে হল দখল করা হয়। হলের বিভিন্ন রুম ভাঙচুর করা হয়। এর পর থেকে তাঁরা আর হলে প্রবেশ করতে পারেননি।

ছাত্রদলের অভিযোগ, শিবিরের নেতা–কর্মীরা হল ভাঙচুর করেছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে আবদুল আলিম বলেন, ‘আমরা হল থেকে বের হয়ে আসার পর তারাই তো ঢুকেছে, ভাঙচুর করেছে। আমরা আমাদের রুমগুলো কেন ভাঙচুর করব?’

আজ দুপুর পর্যন্ত হলটির ফটক তালাবদ্ধ অবস্থায় দেখা যায়। তবে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হলের কক্ষের ভাঙা জানালা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে বইপত্র নিয়ে যেতে দেখা যায়।

রাজধানীতে এক দিনে তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষ

জানালা দিয়ে বইপত্র বের করে নিতে আসেন ২৩৯ কক্ষের এক শিক্ষার্থী। নাম না প্রকাশ না করার শর্তে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, গতকালের ঝামেলার পর থেকে হলে প্রবেশ করতে পারছেন না। হল তালাবদ্ধ অবস্থায় আছে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না। আগামীকাল যেহেতু পরীক্ষা, সে জন্য জরুরি বই-খাতা, জিনিসপত্র নিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

ব্যরিকেড দেওয়ার বিষয়ে দুপুরে ঢাকা মহানগর পুলিশের লালবাগ জোনের ডিসি তালেবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেছিলেন, সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় এই ব্যবস্থা।এখানে শিক্ষার্থীদের বাইরে আরও অনেকে রয়েছে। এ কারণে তাদের ভেতরে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।

মাদ্রাসার হলের জানালা থেকে বইপত্র নিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা

শিক্ষার্থীদের দাবি, তাঁদের আগামীকাল ফাইনাল পরীক্ষা রয়েছে। বিষয়টি জানিয়ে অনুরোধ করার পরও তাঁদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে তালিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ দেখবে। তারা যদি বলে, তাহলে প্রবেশের অনুমতি দিতে পুলিশের কোনো সমস্যা নেই।

আলিয়া মাদ্রাসা: সংঘর্ষের পর সরে গেছে ছাত্রশিবির, হলে ছাত্রদল

Read full story at source