সহপাঠীদের ‘আপত্তিকর’ ছবি তুলে প্রেমিককে পাঠাতেন ছাত্রী, হল থেকে বহিষ্কার
· Prothom Alo

কুষ্টিয়ায় অবস্থিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর বিরুদ্ধে গোপনে সহপাঠী ও আবাসিক হলে থাকা শিক্ষার্থীদের আপত্তিকর ছবি তুলে প্রেমিকের কাছে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রী হলে এ ঘটনা ঘটেছে।
Visit casino-promo.biz for more information.
অভিযুক্ত ছাত্রীকে ইতিমধ্যে ওই হল থেকে বহিষ্কার করেছে কর্তৃপক্ষ। হলের প্রাধ্যক্ষ প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। ওই ছাত্রীকে হল থেকে বহিষ্কার করে তাঁর বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনা তদন্ত করে সুপারিশ করতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত ছাত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক আছে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে হলের ভেতরে কক্ষে থাকা অন্য ছাত্রীদের বিভিন্ন সময়ে তোলা আপত্তিকর ছবি প্রেমিকের কাছে পাঠাতেন ওই ছাত্রী। সম্প্রতি যুবকের সঙ্গে ছাত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের অবনতি হলে ছবিগুলোর কিছু অংশ ভুক্তভোগীদের কাছে পাঠান ওই যুবক। এরপর হলে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে বিষয়টি হলের প্রাধ্যক্ষ ও প্রক্টরিয়াল বডি জানতে পারে।
হল প্রাধ্যক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ নিয়ে আজ শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে জরুরি সভা করে হল কর্তৃপক্ষ। সভায় ভুক্তভোগী ৭ জন ছাত্রী লিখিত অভিযোগ দেন। এর মধ্যে কয়েকজন মুঠোফোনে থাকা আপত্তিকর ছবি এক নারী শিক্ষককে দেখান, যেগুলো ওই যুবককে পাঠানো হয়েছিল। এরপর অভিযুক্ত ছাত্রীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে হল থেকে বহিষ্কার করে তাঁর বাবার জিম্মায় দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রী ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকদের কাছে একটি ভিডিও বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁর বান্ধবী ও সহপাঠীরাও ছেলেটিকে চিনতেন। তাঁর সঙ্গে তাঁদের কথাও হয়েছে। ছেলটির সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি কোথায় আছেন, কী করছেন বোঝাতে গিয়ে সামনে যে ছিল, তাঁর ছবি তুলে দিয়ে জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে আছেন। এটা যে অনুচিত ও বেআইনি হবে, তিনি বুঝতে পারেননি।
এ ঘটনায় অধ্যাপক আরিফা আক্তারকে আহ্বায়ক, অধ্যাপক মুহা. কামরুজ্জামানকে সদস্যসচিব এবং সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক মোহা. খাইরুল ইসলামকে সদস্য করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তাঁদের প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। হলের প্রাধ্যক্ষ প্রথম আলোকে বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রীর দুটি মুঠোফোন জব্দ করে তদন্ত কমিটির আহ্বায়কের কাছে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ভুক্তভোগী আরও কেউ আছেন কি না, খতিয়ে দেখতে আগামী রোববার পর্যন্ত অভিযোগ জমা দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর হলের ভেতরে কক্ষে ভিডিও কলে কথা বলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কেউ কথা বলতে চাইলে বাইরে গিয়ে কথা বলতে বলা হয়েছে। বিষয়টি মাইকে প্রচার করা হয়েছে।