বিএসএফের হাতে বাংলাদেশি আটক, ভারতের নাগরিককে ধরে আনলেন স্থানীয়রা
· Prothom Alo

পঞ্চগড়ের বিরাজোত সীমান্ত থেকে তমিজ উদ্দিন (৭৮) নামের এক বাংলাদেশিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা আটক করে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। এর প্রতিবাদে একই সীমান্ত এলাকা থেকে দীপঙ্কর গোপ (৩৫) নামের ভারতের এক নাগরিককে আটক করে গ্রামে নিয়ে এসেছেন স্থানীয় লোকজন।
আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকায় ৭৪২ নম্বর মেইন পিলারের ১২ নম্বর সাব পিলারের কাছ থেকে দীপঙ্করকে ধরে আনা হয়। তিনি বাংলাদেশি এক কৃষকের আখখেতে আখ খেতে এসেছিলেন বলে স্থানীয় লোকজনের দাবি।
Visit bettingx.bond for more information.
এর আগে গত বুধবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে বিরাজোত সীমান্ত এলাকায় নিজেদের দলছুট একটি গরু খুঁজতে গিয়ে তমিজ উদ্দিনকে বিএসএফ আটক করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করে তাঁর পরিবার।
এ ঘটনায় আজ বিকেলে মাগুরমারী সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মাগুরমারী বিওপি ও বিএসএফের চাউলহাটি ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। তবে বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি।
তমিজ উদ্দিন সাতমেরা ইউনিয়নের বিরাজোত এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক দীপঙ্কর গোপ ভারতের জলপাইগুড়ির চাউলহাটি-তসরপাড়া এলাকার মিশ্রিলাল গোপের ছেলে। তিনি চা-বাগানের শ্রমিক বলে জানা গেছে।
গরু খুঁজতে গিয়ে আটক
বিজিবি ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত বুধবার সকালে তমিজ উদ্দিন গরুর পাল নিয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় ঘাস খাওয়াতে যান। এ সময় একটি গরু সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে চলে যায়। গরুটিকে ফেরত আনতে পিছু নিয়ে তমিজ উদ্দিনও ভারতের ভূখণ্ডে ঢুকে পড়েন। তখন বিএসএফের সদস্যরা তাঁকে আটক করে নিয়ে যান বলে স্থানীয় লোকজনের দাবি।
তমিজ উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার পর তাঁরা বিষয়টি বিজিবির অমরখানা বিওপির সদস্যদের জানান। এরপর তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তমিজ উদ্দিনকে ফেরত আনা সম্ভব হয়নি।
বাবাকে এখনো ফেরত পাননি উল্লেখ করে তমিজ উদ্দিনের ছেলে আজাহার আলী বলেন, ‘আমার বাবা বয়স্ক মানুষ। ভালোভাবে হাঁটতে পারেন না, কানেও ভালো শোনেন না। আমাদের গরু ওই পাশে চলে গিয়েছিল। ওই গরু ফেরত আনতে গেলে বিএসএফ তাঁকে ধরে নিয়ে গেছে। আজকে ভারতের লোক বাংলাদেশে পেয়ে আমরা আটক করে নিয়ে এসেছি। বিজিবি আমাদের বলছে, বাবাকে নাকি ভারতে চালান করে দেওয়া হয়েছে। আমার বাবাকে আগে ফেরত দেবে, তাহলে আমরাও ভারতের লোককে ফেরত দেব।’
আটক দীপঙ্কর গোপকে দেখতে ভিড় করছেন স্থানীয় লোকজন। আজ শনিবার বিকেলে পঞ্চগড় সদর উপজেলার বিরাজোত এলাকায়আখখেতে ভারতের নাগরিক
আজ শনিবার সকালে বিরাজোত সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় কৃষক ফয়জুল ইসলামের আখখেতে আখ খেতে আসেন দীপঙ্কর গোপ। স্থানীয় লোকজন তাঁকে আটক করে গ্রামের ভেতরে নিয়ে আসেন। পরে বিষয়টি বিজিবির অমরখানা বিওপির সদস্যদের জানানো হয়।
খবর পেয়ে বিজিবি ও পঞ্চগড় সদর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। শনিবার রাত সোয়া আটটা পর্যন্ত দীপঙ্করকে বিরাজোত এলাকায় রাখা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ ও বিজিবির সদস্যরাও অবস্থান করছিলেন।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, তমিজ উদ্দিনকে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা দীপঙ্করকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করবেন না।
বিজিবির বক্তব্য
নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশি কোনো ব্যক্তিকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় লোকজন বিজিবিকে জানাননি। তবে শনিবার সকালে বাংলাদেশি একটি আখখেতে আখ খাওয়ার সময় স্থানীয় লোকজন ভারতের এক নাগরিককে আটক করেন। বিষয়টি বিএসএফের পক্ষ থেকেও বিজিবিকে জানানো হয়েছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল তাইফুর হাসান মাহমুদ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের নাগরিককে আটকের বিষয়ে বিএসএফের কাছে জানতে চাওয়া হয়। বিএসএফ জানিয়েছে, তাঁরা এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন, তবে তিনি নাকি চোরাকারবারিদের মধ্যে একজন। এমনকি ওই ব্যক্তিকে তাঁরা ইতিমধ্যে ভারতীয় পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন। বিষয়টি আমরা গভীরভাবে মনিটরিং করছি। এ ছাড়া স্থানীয়দের আটক করা ভারতের নাগরিকের বিষয়ে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।’