স্ক্রিনে ভাসছে প্রশ্ন, উত্তর দিচ্ছেন একা: কেমন হচ্ছে চাকরির এআই ভাইভা?

· Prothom Alo

ইন্টারভিউ বোর্ডে মানুষের উপস্থিতি নেই। কম্পিউটারের স্ক্রিনে একে একে ভেসে উঠছে আগে থেকে রেকর্ড করা কিছু প্রশ্ন। চাকরিপ্রার্থীকে পরখ করার মানবিক কোনো চোখ নেই, নেই কথা শুনে মুচকি হাসার মানুষও। নিস্তব্ধ ঘরে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে একা একাই নিজের উত্তর রেকর্ড করে জমা দিতে হচ্ছে।

Visit tr-sport.click for more information.

বিশ্বজুড়ে এখন এভাবেই চলছে চাকরির ইন্টারভিউ। একে বলা হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইভিত্তিক নিয়োগ পরীক্ষা। তবে নতুন এ ব্যবস্থার মুখোমুখি হয়ে চরম বিভ্রান্তি আর হতাশায় ভুগছেন তরুণ চাকরিপ্রার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বিনা মূল্যে জেমিনাই প্রো ও ৪০০ জিবি স্টোরেজ দিচ্ছে গুগল, যেভাবে পাবেন

যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই যান্ত্রিক অভিজ্ঞতার কথা। তথ্যমতে, দেশটির প্রায় অর্ধেক চাকরিপ্রার্থী এখন কোনো না কোনো এআই অ্যাসিস্ট্যান্টের কাছে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। একের পর এক এমন রোবোটিক ভাইভা দিয়ে এবং মানুষের সংস্পর্শ না পেয়ে অনেকেই কাজের আশা ছেড়ে দিচ্ছেন।

এক চাকরিপ্রার্থী তাঁর অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, পুরো ব্যবস্থাটি এখন এতটাই যান্ত্রিক হয়ে গেছে যে সত্যি যোগ্য ব্যক্তিরা চাকরি পাচ্ছেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থেকে যায়। যাঁরা শুধু সিস্টেমের ফাঁকফোকর বোঝেন, হয়তো তাঁরাই পার পেয়ে যাচ্ছেন।

এমন অনলাইন ও এআইভিত্তিক সাক্ষাৎকার ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। বর্তমান নিয়োগ ব্যবস্থাকে তরুণদের জন্য অত্যন্ত ‘কঠোর’ আখ্যা দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন—এক ঘণ্টার স্ক্রিন দেখে কি কোনো মানুষের আসল গুণ চেনা সম্ভব?

অবশ্য অনলাইন ভাইভার কিছু ভালো দিকও আছে। যেমন প্রার্থীর যাতায়াত ও থাকার খরচ বেঁচে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই ঘরে মুখোমুখি বসে কথা বলার যে নিজস্ব শক্তি আছে, এআই প্রযুক্তি সেটিকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিচ্ছে।

সবচেয়ে ক্ষতিকর দিক হলো এআইয়ের অদৃশ্য বৈষম্য। অনেকে ভেবেছিলেন এআই হয়তো নিরপেক্ষ হবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এক ঘটনায় দেখা যায়, এক নারী প্রার্থী নিজের সব তথ্য ঠিক রেখে শুধু বয়স কমিয়ে পুনরায় আবেদন করতেই এআই তাঁকে পরবর্তী ধাপের জন্য নির্বাচন করে ফেলে।

যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠান ‘ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক পলিসি রিসার্চ’ এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে জানিয়েছে, মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ না পেয়ে নতুন প্রজন্মের তরুণেরা নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলছেন।

যুক্তরাজ্যের এই ধাক্কা হয়তো এখন পৌঁছে যাবে বাংলাদেশেও। দেশের বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি খাত এবং বড় বড় করপোরেট গ্রুপ এখন অনলাইন ভাইভা ও এআই স্ক্রিনিংয়ের দিকে ঝুঁকে পড়বে।

আমাদের দেশের তরুণেরাও এখন চাকরির আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো মানুষ নয়, বরং রোবটের কাছ থেকে পাচ্ছেন অটো-জেনারেটেড ‘রিজেকশন মেইল’। সরাসরি কোনো পরামর্শ না পেয়ে তরুণদের মনে তৈরি হচ্ছে তীব্র মানসিক চাপ।

নিয়োগের কাজে প্রযুক্তির ব্যবহার সময় বাঁচাতে পারে ঠিকই। তবে মেধাবী ও যোগ্য মানুষ খুঁজে নিতে সামনাসামনি কথা বলা এবং মানবিক মূল্যায়নের কোনো বিকল্প নেই। তথ্যসূত্র: দ্যা গার্ডিয়ান

Read full story at source