পরিবারের প্রবীণ সদস্যের সঠিক পুষ্টি কীভাবে নিশ্চিত করবেন 

· Prothom Alo

বয়সের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের গঠন, বিপাকক্রিয়া, কর্মক্ষমতা, ক্ষুধা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আসে। বয়স বাড়ার সঙ্গে শারীরিক কার্যক্রম কমে যায় এবং বিপাকীয় হারও কিছুটা কমতে পারে। ফলে ক্যালরির প্রয়োজন কমলেও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের গুরুত্ব কমে না; বরং অপর্যাপ্ত খাবারের কারণে বয়স্কদের অপুষ্টি, পেশিক্ষয় ও দুর্বলতার ঝুঁকি বেশি। 

এ ছাড়া দাঁতের সমস্যা, খাবার চিবাতে বা গিলতে অসুবিধা, স্বাদ-গন্ধের পরিবর্তন, ক্ষুধামান্দ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগে বয়স্ক ব্যক্তিদের খাদ্যগ্রহণ আরও কমে যেতে পারে।

Visit casino-promo.biz for more information.

খাদ্য নিয়ে করণীয় 

প্রোটিন: বয়োজ্যেষ্ঠদের খাদ্যতালিকায়ও মাছ, ডিম, দুধ ও দই, ডাল, ছোলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মাংস রাখুন। তবে কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রোটিনের পরিমাণ চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শে নির্ধারণ করা উচিত।

ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি: বয়স বাড়লে হাড় দুর্বল হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। ক্যালসিয়াম হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ এবং ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। তাই ছোট মাছ, শাকসবজি ও অন্যান্য ক্যালসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। ভিটামিন ডি-এর জন্য সূর্যালোক এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। 

কোষ্ঠকাঠিন্য: এ সমস্যা প্রতিরোধে শাকসবজি, ফল, ডাল, পূর্ণ শস্য ও অন্যান্য আঁশসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খাওয়া উচিত। পাশাপাশি হাঁটাচলা ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ।

পানিশূন্যতা: বয়স বাড়ার সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যেতে পারে। বিশেষ করে ডিমেনশিয়া রোগীদের এমন হয়। ফলে পানির ঘাটতি তৈরি হতে পারে। এ কারণে দিনের বিভিন্ন সময়ে পানি পান করার অভ্যাস করাতে হবে। কিডনি, হৃদ্​যন্ত্রের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির তরল গ্রহণের পরিমাণ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে হবে।

ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ: বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদ্​রোগের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগের প্রবণতা বেশি। এসব রোগ থাকলে খাদ্যতালিকায় অতিরিক্ত লবণ, চিনি, মিষ্টি পানীয়, ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার সীমিত করা প্রয়োজন।

ক্ষুধা বা রুচি কমে গেলে: একবারে বেশি খাবার দেওয়ার পরিবর্তে দিনে কয়েকবার অল্প পরিমাণে পুষ্টিকর খাবার দেওয়া যেতে পারে। দাঁতের সমস্যা থাকলে নরম মাছ, ডিম, ডাল, নরম খিচুড়ি, দই ও নরম সবজি দেওয়া যায়। 

অপুষ্টির লক্ষণ চিনুন

বয়স্ক ব্যক্তিদের অপুষ্টি অনেক সময় পরিবার সদস্যদের চোখ এড়িয়ে যায়। ওজন হ্রাস, ক্ষুধা কমে যাওয়া, দুর্বলতা, পেশিশক্তি কমে যাওয়া, দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হওয়া বা বারবার অসুস্থ হওয়া—এসব লক্ষণ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা দরকার।

ফারজানা ওয়াহাব, পুষ্টিবিদ, আলোক হাসপাতাল লিমিটেড

মুরগি কাটার সময় পেটে পাওয়া ডিম কি খাওয়া উচিত

Read full story at source