দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে সাতক্ষীরার চারটি আসনে বিএনপিকে হারানো হয়েছে: আইনমন্ত্রী

· Prothom Alo

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে দলের কিছু নেতা-কর্মীর ভূমিকা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করে বিএনপির প্রার্থীদের হারানো হয়েছিল।

আজ রোববার বিকেল পাঁচটায় সাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমির হলরুমে জেলা বিএনপি আয়োজিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

Visit esporist.org for more information.

বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা পরাজিত হন। চারটি আসনেই জয়ী হন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

এ প্রসঙ্গ টেনে সভায় আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি আপনাদের সাতক্ষীরার জন্য যে দায়িত্ব পেয়েছি, (সে বিষয়ে) সারা দিন বিভিন্ন স্তরে মিটিং করেছি। আপনাদের এখানে মিটিং করতে আসার আগে কিছু হোমওয়ার্ক করে এসেছি। চারজন এমপিকে (সংসদ সদস্য) হারানোর পেছনে আপনারা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। চারজন এমপিকে হারানোর জন্য আপনারা ষড়যন্ত্র করেছেন।’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘চারজন এমপিকে হারানোর জন্য দিনে বিএনপি, রাতে গুপ্ত ষড়যন্ত্র করেছেন। আমার কাছে সবার আমলনামা আছে। যদি জানতে চান, নিশ্চয়ই এই আমলনামা নিয়ে সবার সঙ্গে “ওয়ান টু ওয়ান” (একান্তে) আমি কথা বলতে পারি। দিনে এসে বিএনপি করে গেছেন, রাতের অন্ধকারে গুপ্তদের সঙ্গে মিটিং করেছেন।’

দলের মধ্যে এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিএনপি ও তারেক রহমানের বিএনপি করতে হলে দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলতে হবে। নির্বাচনের সময় দল একজনকে মনোনয়ন দিলে তাঁর পক্ষে সবাইকে কাজ করতে হবে।

‘রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা’

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের দল যখন একজনকে নমিনেশন (মনোনয়ন) দেয়, দল যদি আপনি করেন, তাহলে তাঁর পেছনেই আপনাকে থাকতে হবে। আর যদি সেটা না করেন, আপনার সারা জীবনের অর্জন ওইখানেই ধ্বংস হয়ে যাবে। রাজনীতি খুব নিষ্ঠুর জায়গা।’

দলের প্রার্থীদের হারাতে কিছু নেতা বিভিন্ন আসন থেকে লোকজন ডেকে রাতে বৈঠক করেছিলেন বলেও অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধ করে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যাঁরা এটা করেছেন, আমি তাঁদের সঙ্গে ওয়ান টু ওয়ান রেকর্ডসহ বলব। দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা করলে দল কিন্তু আপনার সঙ্গে থাকবে না, আপনাকে বর্জন করবে।’

মতবিনিময় সভায় দলের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য নিয়েও কথা বলেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সভায় বক্তব্য দেওয়া অধিকাংশ নেতা ‘আমি’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। ‘আমি সব করেছি, আমিই ত্যাগ করেছি, আমি নির্যাতিত হয়েছি’, এভাবে বক্তব্য দিয়েছেন।

আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অথচ আমাদের দলের মৌলিক আদর্শের জায়গা হলো “আমরা”। আমাদের শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলে গেছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়। আমরা যদি “আমরা” শব্দটা ব্যবহার করতে না পারি বক্তৃতায়, তাহলে সাতক্ষীরা বিএনপি, জেলা বিএনপি কখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না।’

দলের নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের ‘আমিত্বকে আমরাতে রূপান্তরিত’ করার আহ্বান জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি করতে পারলে দলের মধ্যে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা উত্তরণে সমস্যা হবে না।

চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়—এমন কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও কঠোর অবস্থানের কথা জানান আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, কোনো নেতা-কর্মী যত ত্যাগী বা দলের প্রতি যতটা নিবেদিতই হোন না কেন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি কিংবা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার মতো কাজে জড়ালে তাঁকে আইনের হাতে সোপর্দ করা হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, সদস্যসচিব আবু হাসান ডাবলুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় দেশের অন্যতম ‘প্রশ্নবোধক ডিপার্টমেন্ট’: আইনমন্ত্রী

Read full story at source