নাসিরনগরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এ কেমন দশা!

· Prothom Alo

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২৪টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বাস্তবে কর্মরত মাত্র একজন—তিনি কোনো চিকিৎসক, নার্স বা ফার্মাসিস্ট নন; একজন নিরাপত্তা প্রহরী। সপ্তাহে মাত্র দুই দিন উপজেলা থেকে একজন চিকিৎসক এসে কিছু সময়ের জন্য রোগী দেখে যান, আর সেই রোগীদের হাতে সারিবদ্ধভাবে ওষুধ তুলে দেন সেই নৈশপ্রহরী! ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার গুনিয়াউক ১০ শয্যাবিশিষ্ট পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এই বাস্তবতা কেবল একটি নির্দিষ্ট এলাকার দুরবস্থা নয়; এটি আমাদের দেশের প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবা কাঠামোর চরম জরাজীর্ণ ও ভঙ্গুর রূপটিকেই প্রকাশ করে।

Visit tr-sport.click for more information.

১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং আশপাশের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রধান আশ্রয়স্থল ছিল এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। কিন্তু বর্তমানে ৪ একর জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা ১৯টি কক্ষের ১৭টিই অব্যবহৃত, পরিবেশ নোংরা এবং পুরো চিকিৎসাকেন্দ্র ধুঁকে ধুঁকে চলছে। সপ্তাহের পাঁচ দিনই দূরদূরান্ত থেকে আসা অসুস্থ সাধারণ মানুষকে চিকিৎসা না পেয়ে শূন্য হাতে ফিরে যেতে হয়। সংবিধানে স্বীকৃত মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বাস্থ্যসেবার এমন দশা কোনো দায়িত্বশীল ব্যবস্থার পরিচয় হতে পারে না।

গুনিয়াউক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল মালেকের বক্তব্য, আড়াই থেকে তিন বছর আগে এখানে চিকিৎসক থাকতেন। তখন প্রতিদিন ২০০ থেকে ৩০০ রোগী হতো। কিন্তু স্বাস্থ্যসেবার করুণ দশার কারণে আগের মতো রোগীর ভিড় নেই। মানুষকে বাধ্য হয়ে বেসরকারিভাবে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, অনেকে ফার্মেসির পরামর্শে ওষুধ কিনে খাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন রোগীর খরচ বেড়ে যাচ্ছে, অন্যদিকে অপচিকিৎসার শিকারও হতে হচ্ছে তাঁদের। অনেকে ছোটখাটো রোগের চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয়ে দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।

স্বাস্থ্যকেন্দ্রে জনবলসংকটের প্রশ্নে স্থানীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বাঁধাধরা উত্তর, ‘প্রতি মাসেই মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হচ্ছে।’ কিন্তু বছরের পর বছর ধরে চলা সরকারি আমলাতন্ত্রের এই চিঠি–চালাচালি আর দাপ্তরিক দীর্ঘসূত্রতার বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব বা জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতির ওপর নির্ভর করে কোনো হাসপাতাল সচল বা অচল থাকার যে চিত্র এখানে দেখা গেছে, তা প্রশাসনিক সদিচ্ছা ও কাঠামোগত জবাবদিহির চরম অভাবকেই নির্দেশ করে।

চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র ঘাটতি মেটাতে কেবল আমলাতান্ত্রিক চিঠিপত্র আদান-প্রদানে আটকে থাকলে চলবে না। জরুরি ভিত্তিতে পদায়নের মাধ্যমে গুনিয়াউক পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। প্রান্তিক মানুষের মৌলিক স্বাস্থ্য অধিকার সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অবিলম্বে মাঠপর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন; অন্যথায় নিরাপত্তা প্রহরী দিয়ে হাসপাতাল চালানোর এই অদ্ভুত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম বন্ধ করা সম্ভব হবে না।

Read full story at source