ভিডিও গেম খেলুন, নয়তো বোকা থাকুন: ইলন মাস্ক
· Prothom Alo

ভিডিও গেম খেললে সময়ের অপচয় হয় বলে মনে করেন অনেকেই। আর তাই শিশুরা দীর্ঘ সময় ভিডিও গেম খেললে অভিভাবকেরা প্রায়ই তাদের নিরুৎসাহিত করেন। তবে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের মত কিছুটা ভিন্ন। অনলাইনে পরিচালিত ‘ক্যারেক্টারাইজিং দ্য কগনিটিভ অ্যান্ড মেন্টাল হেলথ বেনিফিটস অব এক্সারসাইজ অ্যান্ড ভিডিও গেম প্লেয়িং’ শীর্ষক এক গবেষণায় বলা হয়েছে, নিয়মিত ভিডিও গেম খেলা ব্যক্তিরা বিভিন্ন জ্ঞানীয় পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছেন। এই গবেষণার ফলাফল নিয়ে সম্প্রতি মন্তব্য করতে গিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) ইলন মাস্ক লেখেন, ‘ভিডিও গেম খেলুন, নয়তো বোকা থাকুন! আপনাদের সামনে এই দুটি পথই আছে।’
Visit sportbet.reviews for more information.
মাস্কের এই মন্তব্যের পর এক্সে ভিডিও গেমপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে ভিডিও গেম খেলার উপকারিতা নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার তথ্য ও মিমও শেয়ার করছেন। তবে মাস্কের মন্তব্যের সঙ্গে গবেষণার ফলাফল পুরোপুরি এক করে দেখার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন অনেকে। কারণ, শুধু ভিডিও গেম খেললেই মানুষের বুদ্ধিমত্তা বাড়ে এমন কোনো তথ্য জানাননি গবেষকেরা। গবেষণায় মূলত ভিডিও গেম খেলা, শারীরিক কর্মকাণ্ড, জ্ঞানীয় সক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের গড় বয়স ছিল ৫৫ বছর। তাঁদের মূলত শারীরিক কর্মকাণ্ড ও ভিডিও গেম খেলার অভ্যাস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। এরপর তাঁরা বিভিন্ন জ্ঞানীয় পরীক্ষায় অংশ নেন। এসব পরীক্ষায় স্মৃতিশক্তি, যুক্তি প্রয়োগ, মনোযোগ, সমস্যা সমাধান, ভাষাগত দক্ষতা এবং স্থানিক ধারণার মতো বিভিন্ন সক্ষমতা যাচাই করা হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, যাঁরা বেশি সময় ভিডিও গেম খেলেছেন, তাঁরা সাধারণত জ্ঞানীয় পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো করেছেন। বিশেষ করে স্মৃতিশক্তি ও যুক্তি প্রয়োগের পরীক্ষায় তাঁদের ফলাফল ভালো ছিল।
গবেষণার ফলাফলকে ভিডিও গেম খেলার সরাসরি সুফল হিসেবে বিবেচনা না করার পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। কারণ, এটি ছিল ‘ক্রস-সেকশনাল’ গবেষণা। এ ধরনের গবেষণায় নির্দিষ্ট একটি সময়ে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অভ্যাস ও সক্ষমতার মধ্যে সম্পর্ক বিশ্লেষণ করা হয়। একই ব্যক্তিকে দীর্ঘ সময় ধরে অনুসরণ করে পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয় না। ফলে গবেষণার ফলাফল থেকে ভিডিও গেম খেলাই যে মানুষের জ্ঞানীয় সক্ষমতা বাড়িয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে