রাজহাঁসটির বয়স ২৪ বছর, এখনো পরিবারের আয়ের ভরসা

· Prothom Alo

পরিবারটির দাবি রাজহাঁসটির বয়স ২৪ বছর তিন মাস। জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্ম হলেও হাঁসটি শুধু টিকে থাকেনি, বছরের পর বছর ডিম আর বাচ্চা দিয়ে যাচ্ছে। একটি পরিবারের আয়ের বড় ভরসা হয়ে আছে। এলাকায় ‘বুড়ি হাঁস’ নামে পরিচিতি পেয়েছে রাজহাঁসটি।

ওই রাজহাঁসের মালিকের নাম রবিউল ইসলাম (৫৪)। তাঁর বাড়ি রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার প্রসাদপাড়া গ্রামে। বাড়িতে এখন রবিউলের তিনটি হাঁস রয়েছে। এর মধ্যে একটি হাঁসের বয়স ২৪ বছর ৩ মাস বলে তিনি দাবি করেন।

Visit betsport.cv for more information.

জালাল উদ্দিন সরদার, অধ্যাপক, ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সাধারণত আমাদের আবহাওয়ার একটি রাজহাঁসের গড় আয়ু ১০ থেকে ১২ বছর হয়ে থাকে। এদের উর্বর প্রজননক্ষমতা পাঁচ থেকে ছয় বছর হয়ে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে ডিমের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। যদি এই হাঁসের বয়স ২৪ বছর হয়ে থাকে, এর ভেতরে কোনোভাবে অন্যকোনো জিন রয়েছে। এই হাঁসটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে।

রাজহাঁসটি দেখিয়ে রবিউল বলেন, প্রথমে তাঁর বাসায় ৯টি হাঁস ছিল। এর মধ্যে জন্মগতভাবেই এই হাঁসটির একটি পাখা ওলটানো। সেই থেকে সবার নজরে ছিল। হাঁসটির কোনো অসুখ-বিসুখ হয় না। এই জন্য বিক্রিও করেননি, জবাইও করেননি। এই ২৪ বছরের মধ্যে গত বছর শুধু জ্বর আর পাতলা পায়খানা হয়েছিল। ওষুধ খাওয়ানোর পরে ভালো হয়ে গেছে। আগে বছরে তিনবার করে ৯-১০টা করে ডিম দিত। গত বছর থেকে বছরে দুইবার করে ডিম দিচ্ছে। নিজে তা দিয়ে ডিম ফুটিয়ে বাচ্চা তোলে। ছয় মাস বয়সী একজোড়া হাঁসের বাচ্চার দাম এখন সাত হাজার টাকা।

শুক্রবার প্রসাদপাড়া গ্রামে রবিউল ইসলামের বাড়িতে দেখা যায়, রাস্তার পাশে আরেকজনের বাড়ির আঙিনায় তিনটি হাঁস চরে বেড়াচ্ছে। রবিউল ইসলাম দেখিয়ে দিলেন পাখা ওলটানো হাঁসটি দলের ‘বুড়ি’। এটির বয়স হয়েছে ২৪ বছর তিন মাস। দেখা গেল হাঁসটির পেট ঝুলে গেছে। রবিউল ইসলামের ধারণা দীর্ঘদিন ডিম দিতে দিতে হাঁসটির ওই অবস্থা হয়েছে।

রাজহাঁসটির মালিক কৃষক রবিউল ইসলাম

রবিউলের স্ত্রী পারভীন বেগম হাঁসটিকে কোলের কাছে নিয়ে বসলেন। আদর পেয়ে হাঁসটি চুপ করে রইল। তিনি বললেন, ‘হাঁসের খুব অসুখ। এই হাঁসের এবার ১৭টি বাচ্চা উঠেছিল, ১৭টিই মারা গেল। বাচ্চাগুলো ৩৪ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। ছয় মাসের বাচ্চা হলেই দুই হাজার টাকা দাম। এই জন্য তাঁরা এই হাঁসের ডিম বিক্রি না করে বাচ্চা উঠান। এই হাঁসটা বছরে কম করে হলেও ১৫টি বাচ্চা ফোটায়। সব ডিম ফুটে বাচ্চা হয়। একটাও নষ্ট হয় না। বাচ্চা ভালো দামে বিক্রি করা যায়।

বুড়ি রাজহাঁস প্রসঙ্গে পারভীন বলেন, ‘এটাই তো উন্নতির হাঁস আমার। অসুখ–বিসুখ হয় না। এই জন্য এই হাঁসটি বিক্রি করিনি বা জবাই করিনি।’

রবিউল ইসলামের ভাইয়ের মেয়ে মেহেনাজ খাতুন বাড়ির বড় মেয়ে। তিনি এবার এইচএসসি পরীক্ষা দিয়েছেন। তাঁর বয়স ১৯ বছরে পড়েছে। মেহেনাজের দাবি, তাঁর জন্মের পর থেকে তিনি বাড়িতে রাজহাঁসটিকে দেখে আসছেন। হাঁসটি তাঁর পাঁচ বছরের বড়। এই হাঁসের বয়স নিয়ে তিনি একটি টিকটক ভিডিও বানিয়েছিলেন।

রবিউল ইসলামের বড় ছেলে সামিউল ইসলাম বললেন, হাঁসটি যত দিন বাঁচবে তাঁরা রেখে দেবেন। বিক্রি বা জবাই করবেন না। হাঁসটিকে বাড়ির লক্ষ্মী উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষিকাজ করে বছরে যা আয় হয়, হাঁসটির বাচ্চা বিক্রি করেও সেই রকম আয় হয়।

রাজহাঁসটির বিষয় তুলে ধরা হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি ও অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক জালাল উদ্দিন সরদারের কাছে। তিনি বলেন, ‘সাধারণত আমাদের আবহাওয়ার একটি রাজহাঁসের গড় আয়ু ১০ থেকে ১২ বছর হয়ে থাকে। এদের উর্বর প্রজননক্ষমতা পাঁচ থেকে ছয় বছর হয়ে থাকে। তারপর আস্তে আস্তে ডিমের পরিমাণ কমে যেতে থাকে। যদি এই হাঁসের বয়স ২৪ বছর হয়ে থাকে, এর ভেতরে কোনোভাবে অন্যকোনো জিন (জীবদেহের বংশগতির একক) রয়েছে। এই হাঁসটি নিয়ে গবেষণা হতে পারে।’

Read full story at source