আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়, জানাজায় বাবা
· Prothom Alo
‘আমার একটাই ছেলে ছিল। কুমিল্লার আবহাওয়ায়, কুমিল্লার আকাশের নিচে, আপনাদের ভালোবাসায়, আপনাদের স্নেহে ও বড় হয়েছিল। ওর বয়স ১৩ বছর।’ আজ রোববার সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে ছেলের প্রথম জানাজার আগে কথাগুলো বলেন ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
Visit chickenroad-game.rodeo for more information.
অপ্রতিমকে হারিয়ে স্তব্ধ দেশতখন শত শত মানুষের সামনে স্ট্রেচারে শায়িত ছিল অপ্রতিমের নিথর দেহ। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ অনেকে অংশ নেন। প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে। বেলা ১১টায় সেখানে দ্বিতীয় জানাজা হয়। জানাজায় অপ্রতিমের সহপাঠী, শিক্ষক, স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দ্বিতীয় জানাজা শেষে গন্ধমতি এলাকার স্থানীয় কবরস্থানে অপ্রতিমের দাফন সম্পন্ন হয়।
‘এইরকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম’প্রথম জানাজা শেষে সাংবাদিকদের মাধ্যমে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের হত্যার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার চাই। বর্তমান বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। এই আস্থাটা যেন ব্রেক না হয়। আমার বিশ্বাস, ব্রেক হবে না এবং সুষ্ঠু বিচার হবে।’
‘আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি’
কোটবাড়ির গন্ধমতি ঈদগাহ মাঠে দ্বিতীয় জানাজার সময় কথা বলেন অপ্রতিমের বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। তিনি বলেন, ‘আমার ছেলের বয়স যখন দুই বছর, তখন সে এই এলাকায় এসেছে। আমার স্ত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। অপ্রতিম আপনাদের কাছেই বড় হয়েছে। আপনাদের আদর-স্নেহ পেয়েছে, আপনাদের বাসায় খেয়েছে। তাই আপনাদের কাছেই অপ্রতিমকে সমাহিত করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আর কাউকে যেন আমার মতো সন্তান হারাতে না হয়। বাবার কাঁধে সন্তানের লাশ কতটা কষ্টের, সেটা আজ বুঝতে পারছি।’
অপ্রতিমের প্রথম জানাজার নামাজ। আজ রোববার সকালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠেগত শুক্রবার দুপুরে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। নিখোঁজের প্রায় ২২ ঘণ্টা পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য অনেকটাই উন্মোচিত, দাবি পুলিশের, দুপুরে সংবাদ সম্মেলনঅপ্রতিম হত্যার ঘটনায় মামলা, শেষবারের মতো বাসায় আনা হয়েছিল তার মরদেহ