গোলাপি এখন ঢাকার রাজপথে

· Prothom Alo

মুখবন্ধ

Visit syntagm.co.za for more information.

গোলাপি বাসে পারভিন আপার প্রথম দিনের যাত্রার গল্পটি প্রথম শুনেছিলাম তাঁর মুখেই। অফিসে যাওয়ার পথে কী দেখলেন, বাসের নারী চালককে ঘিরে যাত্রীদের কৌতূহল, বালতি-মগ হাতে এক সহযাত্রী, আর ঢাকার রাজপথে গোলাপি বাসের সেই বিচিত্র অভিজ্ঞতা, সবই তিনি বেশ রসিয়ে বলেছিলেন। তাঁর সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে কল্পনার খানিকটা রং মিশিয়ে, ঢাকার চিরচেনা নাগরিক জীবন ও আমাদের সামাজিক মানসিকতাকে একটু হাসির আয়নায় দেখার চেষ্টা করেছি।

পারভিন আপার অভিজ্ঞতাটুকু ছিল সত্যি; বাকিটুকু রম্যের স্বাধীনতা। পাঠক যা সত্যি মনে করবেন, তার দায় পারভিন আপার নয়!

সেদিন সকাল থেকেই ঢাকার আকাশে একটা অদ্ভুত ভাব। বৃষ্টি নেই, রোদ নেই, যানজট আছে। অর্থাৎ ঢাকা তার স্বাভাবিক মেজাজেই আছে। কিন্তু আমাদের পাড়ায় অস্বাভাবিক উত্তেজনা। কারণ, সেদিন প্রথমবারের মতো গোলাপি বাস আমাদের রাস্তা দিয়ে চলবে। আর সেই বাসে অফিসে যাবেন পাশের বাসার পারভিন আপা।

পারভিন আপা এমনিতে বেশ আধুনিক। মোবাইল ফোন হাতে থাকলে তিনি একসঙ্গে তিনটি কাজ করতে পারেন। ফোনে কথা বলা, ফেসবুক দেখা এবং পাশের বাসার জানালা দিয়ে কে কখন বাজারে গেল তা পর্যবেক্ষণ করা। কিন্তু গোলাপি বাসের খবর শুনে তাঁর আধুনিকতার সঙ্গে একটু নার্ভাসনেসও যোগ হয়েছিল।

সকালে তিনি জানিয়ে দিয়েছিলেন, ‘আজ আমি গোলাপি বাসে অফিসে যাব।’

কথাটা শুনে পাশের একজন বলেছিল, ‘বাহ! যান।’

পারভিন আপা তখন বলেছিলেন, ‘শুধু যাব না, ভালো করে দেখব।’

‘কী দেখবেন?’

‘মহিলা কীভাবে বাস চালায়।’

প্রশ্নটা শুনে মনে হতে পারে, তিনি বুঝি কোনো নতুন প্রজাতির প্রাণী দেখতে যাচ্ছেন। কিন্তু পারভিন আপার কৌতূহল ছিল একেবারে স্বাভাবিক। নারী চালকের চালানো বাসে তাঁরও এটাই প্রথম যাত্রা।

সাড়ে আটটার দিকে গোলাপি বাসটি এসে দাঁড়াল।

দূর থেকে মনে হলো, ঢাকার ধূসর রাস্তায় কেউ যেন হঠাৎ একটা বিশাল গোলাপি ফিতা ফেলে দিয়েছে।

বাস থামতেই আশপাশের মানুষ মোবাইল বের করল। কেউ ছবি তুলছে। কেউ ভিডিও করছে। সেলফি…! কেউ লাইভে গিয়ে বলছে, ‘বন্ধুরা, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, বাংলাদেশের রাস্তায় ইতিহাস সৃষ্টি হচ্ছে…’

একজন আবার এত কাছে গিয়ে ছবি তুলছিল যে মনে হচ্ছিল, বাসের নম্বরের চেয়ে নিজের নাকটাই আগে বাসের গায়ে লাগবে।

পারভিন আপা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে দৃশ্যটি দেখলেন। তারপর ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাসে উঠলেন।

আর ঠিক তখনই…

হ্যাঁচকা টান!

বাস এমনভাবে সামনে ছুটল যে পারভিন আপার ব্যাগ একদিকে, ওড়না আরেক দিকে, আর শরীর মাঝখানে থেকে গেল।

তিনি কোনোভাবে রড ধরে বললেন, ‘আস্তে আপা! যাত্রী উঠছে!’

চালক আয়নায় তাকিয়ে মৃদু হেসে বললেন, ‘সরি আপা।’

পারভিন আপা নিজের ভারসাম্য ফিরে পেয়ে বললেন, ‘না না, ঠিক আছে। প্রথম দিন তো!’

কথাটা বললেও তাঁর মুখের ভাব দেখে মনে হচ্ছিল প্রথম দিন বলেই ক্ষমা করা হলো।

বাস ফার্মগেটের দিকে এগোতে লাগল।

চালক আপাকে দেখে প্রথমেই যে বিষয়টি চোখে পড়ল, তিনি বেশ চিকন-পাতলা গড়নের। শরীর দেখে মনে হয়, এক হাতে স্টিয়ারিং ধরলে আরেক হাতে হয়তো বাজারের ব্যাগও ধরে রাখতে পারবেন। কিন্তু সামনে যে স্টিয়ারিং, সেটি বেশ বড়সড়।

চালক দুই হাতে সেটি ধরে ঘোরাচ্ছেন।

একবার ডানে।

একবার বাঁয়ে।

আবার একটু ডানে।

তারপর বাঁয়ে।

দেখে মনে হচ্ছিল, তিনি বাস চালাচ্ছেন না; স্টিয়ারিংয়ের সঙ্গে বোঝাপড়া করার চেষ্টা করছেন।

বাসের একজন যাত্রী ফিসফিস করে বললেন, ‘পাওয়ার স্টিয়ারিং না?’

পাশ থেকে আরেকজন বললেন, ‘পাওয়ার স্টিয়ারিং আছে, কিন্তু আজ মনে হচ্ছে স্টিয়ারিংও নিজের পাওয়ার দেখাচ্ছে।’

চালক আপা অবশ্য এসব শুনছেন না। তাঁর চোখ সোজা সামনে।

আমার চিন্তা— রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো! মিশা সওদাগরতড়িৎ উক্তিউত্তপ্ত কাঁচাবাজারলোডশেডিং

আজ তাঁর প্রথম দিন।

এত দিন প্রশিক্ষণকেন্দ্রে বাস চালিয়েছেন। সেখানে রাস্তা ছিল, গাড়ি ছিল, সিগন্যাল ছিল; কিন্তু ঢাকার রাস্তায় প্রশিক্ষণের বইয়ের বাইরেও অনেক কিছু আছে।

এখানে রিকশা আছে।

সিএনজি আছে।

মোটরসাইকেল আছে।

হঠাৎ রাস্তা পার হওয়া মানুষ আছে।

হঠাৎ দাঁড়িয়ে যাওয়া মানুষও আছে।

হঠাৎ ঘুরে যাওয়া টেসলা আছে। উল্টো দিক থেকে হনহন করে টেসলার আগমন ইত্যাদি…!

আর সবচেয়ে বড় কথা, সবাই মনে করে অন্য সবাই তার রাস্তা ছেড়ে দেবে।

ঢাকার রাস্তায় গাড়ি চালানো তাই শুধু ড্রাইভিং নয়, এটি একধরনের কূটনীতি।

ফার্মগেট পার হওয়ার আগেই বাসে আরও কয়েকজন যাত্রী উঠলেন। তাঁদের মধ্যে একজন মহিলার হাতে ছিল একটি বালতি এবং একটি মগ। পারভিন আপাও বিষয়টি লক্ষ করলেন। মহিলা অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে এসে বসে পড়লেন।

পারভিন আপা জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপা, বালতি-মগ নিয়ে অফিসে যাচ্ছেন?’

মহিলা বললেন, ‘জি।’

‘অফিসে এগুলো লাগে?’

‘পানি লাগে না?’

‘লাগে।’

‘তাহলে বালতি-মগও লাগে।’

যুক্তিটা এত সরল যে তার বিরুদ্ধে কোনো যুক্তি দাঁড় করানো গেল না। মহিলা বললেন, ‘ঢাকায় কখন পানি থাকে, কখন থাকে না, এইটা আলাদা কথা। আমি নিজের ব্যবস্থা নিজের সঙ্গে রাখি।’ পারভিন আপা বললেন, ‘আপনি তো দেখি বেশ প্রস্তুত!’ মহিলা বললেন, ‘ঢাকায় থাকলে প্রস্তুত থাকতে হয়। বাস ধরতে, অফিস করতে, সংসার করতে, পানি তুলতে। সবকিছুর জন্য।’ বালতি-মগের মধ্যেও যে এত গভীর জীবনদর্শন লুকিয়ে থাকতে পারে, সেটা বাসের কেউ আগে জানতেন না। তাঁর পরনে বোরকা। কিন্তু চোখেমুখে প্রবল কৌতূহল। তিনি বারবার সামনের দিকে তাকাচ্ছিলেন। কী দেখছিলেন? চালককে। চালক তখন স্টিয়ারিং সামলাচ্ছেন, আয়নায় তাকাচ্ছেন, রাস্তা দেখছেন, গিয়ার বদলাচ্ছেন। বোরকা পরা মহিলা কিছুক্ষণ পর পারভিন আপাকে নিচু গলায় বললেন, ‘আপা…’ ‘জি।’ ‘উনি কি আগে বাস চালাইছেন?’ ‘জানি না।’ ‘দেখেন না, হুইলটা কী সুন্দর ঘুরাইতেছেন!’

এটা প্রশংসা নাকি উদ্বেগ—বুঝতে একটু সময় লাগল।

বাস ফার্মগেট পার হলো। যানজট শুরু। একটি গাড়ি ডানে ঢুকছে। একটি বাঁয়ে। একটি সামনে। আরেকটি এমন জায়গায় ঢোকার চেষ্টা করছে, যেখানে ঢোকার কোনো বাস্তবিক সম্ভাবনাই নেই।

চালক ধৈর্য ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। একসময় পেছন থেকে কেউ বললেন, ‘আপা, একটু হর্ন দেন।’

চালক হর্ন দিলেন। সামনের গাড়ি নড়ল না। আবার হর্ন। নড়ল না। আরও একটু জোরে হর্ন। তবু নড়ল না।

পেছন থেকে একজন যাত্রী বললেন, ‘ঢাকার গাড়ি হর্নে চলে না আপা। ওদের আত্মসম্মান আছে।’

চালক হেসে ফেললেন। পারভিন আপা জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন, ‘ঢাকার ট্রাফিকের একটা জিনিস ভালো।’

একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী?’

‘সবাই সমান।’

‘কীভাবে?’

‘পুরুষ আটকে আছে, নারীও আটকে আছে। ধনী আটকে আছে, গরিবও আটকে আছে। প্রাইভেট কার আটকে আছে, বাসও আটকে আছে। গণতন্ত্র যদি কোথাও সত্যি থাকে, তাহলে সেটা ঢাকার যানজটে।’

একজন বললেন, ‘তাহলে যানজটই আমাদের সবচেয়ে সফল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান!’

পারভিন আপা বললেন, ‘হ্যাঁ। শুধু সময়ের ব্যাপারে খুব স্বৈরাচারী।’

বাস এগিয়ে চলল।

ফার্মগেট থেকে ইস্কাটন গার্ডেনের দিকে আসতে আসতে চালকের মুখের টেনশন একটু কমল। প্রথম দিনের ভয় হয়তো ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসে বদলাচ্ছিল। কিন্তু ঢাকার রাস্তা কাউকে বেশি সময় আত্মবিশ্বাসী থাকতে দেয় না। বাংলামোটরের ফ্লাইওভারের দিকে উঠতে গিয়ে চালক গাড়ির গতি একটু কমালেন। সঙ্গে সঙ্গে বোরকা পরা সেই মহিলা সামনের দিকে ঝুঁকে বললেন, ‘আপা…’

চালক বললেন, ‘জি?’

মহিলা বললেন, ‘গাড়ির হুইলটা কি একটু আমি ঘুরাইয়া দিমু?’

বাসের ভেতর যেন মুহূর্তের জন্য সময় থেমে গেল।

পারভিন আপা একদিকে তাকালেন।

চালক আয়নায় তাকালেন।

বাকি যাত্রীরা মুখ চাওয়াচাওয়ি করলেন।

মহিলা আবার বললেন, ‘আপনার কষ্ট হচ্ছে মনে হয়।’

চালক হেসে বললেন, ‘না আপা, আমি পারব।’

‘নিশ্চিত?’

‘জি।’

‘আমি কিন্তু সাহায্য করতে চাইলাম।’

পেছন থেকে একজন যাত্রী বললেন, ‘আপা, আপনি আগে কখনো বাস চালাইছেন?’

মহিলা বললেন, ‘না।’

‘তাহলে হুইল ঘোরাবেন কীভাবে?’

মহিলা একেবারে গম্ভীর মুখে বললেন, ‘ঘরে কত কিছু ঘুরাইছি!’

‘যেমন?’

তিনি বললেন, ‘পানির কল, গ্যাসের চুলার নব, প্রেশার কুকারের ঢাকনা…দরকার হলে স্বামীর মাথাও।’

বাসে এমন হাসি উঠল যে চালক নিজেও হাসতে হাসতে স্টিয়ারিং ধরলেন।

পারভিন আপা বললেন, ‘আপা, আপনার বালতি-মগের পাশাপাশি রসিকতাও আছে দেখছি!’

মহিলা বললেন, ‘ঢাকায় থাকলে দুইটাই লাগে।’

বাস এবার ফ্লাইওভারে উঠল। চালক এবার বেশ সাবলীলভাবে স্টিয়ারিং ঘোরালেন।

বড় স্টিয়ারিং।

চিকন চালক।

গোলাপি বাস।

আর সামনে ঢাকা শহর।

দৃশ্যটা দেখে মনে হলো, শহরটা যেন একটু একটু করে নিজের পুরোনো ধারণাগুলোও ঘুরিয়ে দেখছে।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের চোখে তখনো কৌতূহল।

কেউ বাসের দিকে তাকিয়ে।

কেউ চালকের দিকে।

কেউ মোবাইল তুলে ছবি তুলছেন।

একজন বললেন, মহিলা চালক!

আরেকজন বললেন, হ্যাঁ, দেখছি।

তৃতীয়জন বললেন, বাসও ভালোই চালাচ্ছে!

এই শেষ কথাটিই আসলে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

কারণ, আমরা যখন কোনো পুরুষকে গাড়ি চালাতে দেখি, তখন সাধারণত বলি, গাড়ি চালাচ্ছে।

আর নারী গাড়ি চালালে প্রথমে বলি, মহিলা গাড়ি চালাচ্ছে।

তারপর যদি ভালো চালায়, বলি, মহিলা হয়েও ভালো চালাচ্ছে।

এই ‘হয়েও’ শব্দটির মধ্যেই আমাদের সমাজের অনেক পুরোনো গল্প লুকিয়ে আছে।

বাসের ভেতরে বসে থাকা এক বৃদ্ধা হঠাৎ বললেন, ‘এই যে তোমরা সবাই এত অবাক হচ্ছ, একটা কথা বলি।’

সবাই তাঁর দিকে তাকাল।

তিনি বললেন, ‘গাড়ি চালানোর সময় মানুষটা নারী না পুরুষ, সেটা স্টিয়ারিং দেখে বোঝা যায় না। রাস্তা দেখে বোঝা যায়, সে চালাতে পারে কি না।’

পারভিন আপা বললেন, ‘খালা, ঠিক বলেছেন।’

বৃদ্ধা বললেন, ‘আর একটা কথা। একদিন যদি মহিলা ড্রাইভারকে দেখে কারও মাথায় আর “মহিলা ড্রাইভার” কথাটা না আসে, শুধু “ড্রাইভার” মনে হয়, তাহলেই বুঝব আমরা একটু এগিয়েছি।’

বালতি-মগ হাতে মহিলা বললেন, ‘খালা, সেদিন কিন্তু আমার বালতি-মগও থাকবে না।’

বৃদ্ধা বললেন, ‘কেন?’

‘সেদিন ঢাকায় পানি নিয়মিত আসবে।’

আবার হাসির ঢেউ উঠল।

গোলাপি বাস তখন বাংলামোটর পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিল।

পারভিন আপা জানালার বাইরে তাকিয়ে বললেন, ‘জানো, প্রথমে একটু ভয় লাগছিল।’

একজন জিজ্ঞেস করলেন, ‘এখন?’

‘এখন ভালোই লাগছে।’

‘চালককে দেখে?’

‘হ্যাঁ।’

তারপর একটু থেমে বললেন, ‘আসলে ভয়টা চালককে নিয়ে ছিল না। ভয়টা ছিল আমাদের নিজেদের চোখ নিয়ে। আমরা নতুন কিছু দেখলে প্রথমে সন্দেহ করি।’

কেউ বললেন, ‘তারপর?’

পারভিন আপা বললেন, ‘তারপর ছবি তুলি।’

‘তারপর?’

‘ফেসবুকে দিই।’

‘তারপর?’

পারভিন আপা বললেন, ‘তারপর কমেন্ট করি—দেশ কোথায় যাচ্ছে!’

বাসের ভেতর আবার হাসির রোল উঠল।

গোলাপি বাস এগিয়ে চলল।

সামনে অফিসপাড়া।

পেছনে বালতি-মগ।

মাঝখানে পারভিন আপা।

আর স্টিয়ারিংয়ে সেই চিকন চালক আপা, যিনি প্রথম দিন হয়তো একটু নার্ভাস; তবু ঢাকার রাজপথে নিজের জায়গাটা করে নিচ্ছেন।

বাসটা দেখতে গোলাপি।

কিন্তু তার ভেতরের গল্প শুধু গোলাপি নয়।

এখানে আছে নারীকে নিয়ে আমাদের কৌতূহল, সন্দেহ, হাসি, মজা, সাহস এবং ধীরে ধীরে বদলে যাওয়ার গল্প।

আর আছে ঢাকা।

যে ঢাকা সবাইকে পরীক্ষা নেয়।

বাসকে।

চালককে।

যাত্রীকে।

এমনকি বালতি-মগকেও।

শেষ পর্যন্ত পারভিন আপা অফিসে নেমে গেলেন।

বাস ছাড়ার আগে তিনি চালককে বললেন, ‘আপা, কালও আসবেন তো?’

চালক হেসে বললেন, ‘জি আপা।’

পারভিন আপা বললেন, ‘তাহলে কাল থেকে আমি আর ভয় পাব না।’

পাশ থেকে বালতি-মগওয়ালা মহিলা বললেন, ‘ভয় পাবেন না। তবে ফ্লাইওভারে উঠলে হুইলটা আমার হাতে দেবেন না!’

গোলাপি বাস হর্ন দিয়ে আবার চলে গেল।

ঢাকার ধুলোয় তার গোলাপি রং একটু মলিন হলো।

কিন্তু রাজপথে তার উপস্থিতিটা মলিন হলো না।

কারণ, সেদিন ঢাকার রাস্তায় শুধু একটি নতুন বাস চলেনি, একটি পুরোনো ধারণার স্টিয়ারিংও একটু ঘুরেছিল।
রস+আলোর পক্ষ থেকে একটি জরুরি (এবং সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয়) বিজ্ঞপ্তিহাট+রস: মুউউউউউরিকা!রস ও চার চরণগাড়ির ছাদে আস্ত গোলপোস্টবাংলাদেশের খনিজ সম্পদউগান্ডার রাষ্ট্রপতি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিরোনালদোর বিয়েসবজান্তা সমীপেষুরসচিঠি

Read full story at source