নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ সন্দেহে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দ, মারধরের অভিযোগ
· Prothom Alo

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক শিক্ষার্থীকে হাটহাজারী থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আজ সোমবার বেলা তিনটার দিকে এ এফ রহমান হল থেকে তাঁকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে হাটহাজারী থানায় সোপর্দ করে।
থানায় সোপর্দ করা শিক্ষার্থী হলেন রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনতাছির মারজু (২৩)। তিনি এ এফ রহমান হলের ৩৩৩ নম্বর কক্ষের আবাসিক শিক্ষার্থী। তাঁর বাবার নাম মো. মোস্তফা কামাল। তাঁর বাড়ি চাঁদপুর সদর থানার মোমিনপাড়ায়।
Visit afnews.co.za for more information.
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, আজ ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি আবরার শাহরিয়ারের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে মুনতাছিরকে সন্দেহ করা হয়। ওই পোস্টে চাকসু ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাদের মোটরসাইকেলে টহল দেওয়ার ছবি ছিল। পোস্টটিতে মুনতাছিরের একটি প্রতিক্রিয়াও দেখা যায়।
পরে তাঁকে এ এফ রহমান হল সংসদের কক্ষে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো প্রতিনিধি ছিলেন না। হল সংসদ ও আবাসিক শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে তাঁর মুঠোফোন নিয়ে বিভিন্ন কথোপকথন দেখা হয়। এতে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে মুনতাছিরের দীর্ঘদিনের হোয়াটসঅ্যাপ যোগাযোগ এবং ভোরে মেসেঞ্জারে পাঠানো একটি বার্তা পাওয়া যায়।
পরে চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের ছাত্র অধিকার সম্পাদক মোনায়েম শরীফ সেখানে উপস্থিত হন। মোনায়েম শরীফ উপস্থিত হলে মুনতাছিরকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়ার সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। সেখানে তাঁর ফোনে পাওয়া কথোপকথন ও অন্যান্য তথ্য প্রশাসনকে দেখানো হয়। পরে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাঁকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন এ এফ রহমান হল সংসদের যোগাযোগ ও আবাসনবিষয়ক সম্পাদক এবং ইসলামী ছাত্রশিবিরের হল শাখার সেক্রেটারি মো. মাইন উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘সকালে ফেসবুকের একটি পোস্ট দেখে মুনতাছিরকে সন্দেহ করা হয়। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়। তিনি নিজে থেকে আমাদের সঙ্গে আসেন। হল সংসদের কক্ষে প্রাথমিকভাবে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁর ফোন দেখা হয়। পরে মোনায়েম শরীফ এলে তাঁকে রিকশায় করে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হয়।’
চাকসুর মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, মুনতাছিরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও তাঁর ফোনে আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে কথোপকথন পাওয়া গেছে। সেখানে ‘ষড়যন্ত্রমূলক’ বিভিন্ন তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরে তাঁকে প্রক্টর কার্যালয়ে নেওয়া হলে প্রক্টর এসব তথ্য–প্রমাণ দেখে পুলিশকে জানান।
তবে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মুনতাছির মারজু। তিনি বলেন, ‘ছাত্রলীগের কোনো কমিটিতে আমার নাম নেই এবং আমি কখনো ছাত্রলীগ করিনি। জুলাইয়ের আগে থেকেই আবরার শাহরিয়ারের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। বিভিন্ন অনুষ্ঠান সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার জন্য আমাদের মধ্যে কথা হতো। ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। তবে ছাত্রলীগের কোনো রাজনৈতিক মিছিল-মিটিংয়ে আমি অংশ নিইনি।’
মারধরের অভিযোগও করেন মুনতাছির। তিনি বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে কয়েকজন রাগের মাথায় আমাকে মারধর করেন। আমার পিঠে মারা হয় এবং দু-তিনটি থাপ্পড় দেওয়া হয়।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কামরুল হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীরা মুনতাছিরকে আটক করে তাঁর ফোন ঘেঁটে দেখেন। পরে বিভিন্ন কথোপকথনের বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়। প্রশাসনও বিষয়টি দেখেছে। যেহেতু বিষয়টি ফৌজদারি ও আইনগত, তাই পুলিশকে জানানো হয়েছে। পুলিশ তাঁকে আইনগত কার্যক্রমের জন্য নিয়ে গেছে। মামলা হবে কি না বা বিশ্ববিদ্যালয় বাদী হবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
মুনতাছিরকে মারধরের বিষয়ে প্রক্টর বলেন, তাঁর সামনে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে প্রক্টর কার্যালয়ে আনার আগে বাইরে কী হয়েছে, তা তাঁর জানা নেই।
হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, ‘কিছুক্ষণ আগে ওই শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে। আমরা বিষয়টি পর্যালোচনা করে পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় দেখব। তবে এখন অবধি কোনো মামলা করা হয়নি।’