‘সালমানের শ্বশুর’ পরিচয়ে আপত্তি শেখ নূর ইসলামের, বললেন টসবন্ডের মালিক নন
· Prothom Alo

কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত সংবাদে নিজেকে ‘সালমানের শ্বশুর’ পরিচয়ে উপস্থাপন করায় আপত্তি জানিয়েছেন ব্যবসায়ী শেখ নূর ইসলাম। তাঁর পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সালমানের সঙ্গে তাঁর মেয়ের বিয়ে তিনি বা তাঁর পরিবার মেনে নেননি। একই সঙ্গে সম্প্রতি সিলগালা হওয়া ‘টসবন্ড’ নামের ওয়্যারহাউসটির মালিকানা অস্বীকার করে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো সম্পর্ক নেই।
Visit sport-tr.bet for more information.
আজ শনিবার এই লিখিত প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা পাঠানো হয়। ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেডের পক্ষে এতে স্বাক্ষর করেছেন প্রতিষ্ঠানটির হেড অব অপারেশন মোহাম্মদ ফয়জুল করিম।
প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ে শেখ নূর ইসলাম বা তাঁর পরিবার মেনে নেয়নি। ওই বিয়ের পর থেকেই সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তাঁদের সব ধরনের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে সালমান মুক্তাদিরের ব্যক্তিগত, সামাজিক, ব্যবসায়িক বা অন্য কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শেখ নূর ইসলামের নাম জড়িয়ে তাঁকে ‘সালমানের শ্বশুর’ পরিচয়ে সংবাদ, শিরোনাম, ভিডিও, থাম্বনেইল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে উপস্থাপন করাকে ‘অনভিপ্রেত, অসত্য এবং অত্যন্ত অশোভন’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবাদপত্রে।
টসবন্ড ওয়্যারহাউস সিলগালা প্রসঙ্গে প্রতিবাদপত্রে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটিকে শেখ নূর ইসলামের প্রতিষ্ঠান হিসেবে উপস্থাপন করা ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট’। এর সঙ্গে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই। প্রতিষ্ঠানটির কোনো ঘটনা, কার্যক্রম বা অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের সম্পৃক্ত করাও প্রকৃত তথ্যের পরিপন্থী বলে দাবি করা হয়েছে।
শেখ নূর ইসলামের ব্যবসা সম্পর্কে ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ফু-ওয়াং বোলিং অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড ছাড়া তাঁর অন্য কোনো মদের বার, ওয়্যারহাউস কিংবা ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড হাউস নেই। এর বাইরে দেশে তাঁর রেস্তোরাঁ ও কৃষিভিত্তিক ব্যবসা রয়েছে।
প্রতিবাদপত্রে আরও বলা হয়, শেখ নূর ইসলাম ৪৬ বছর ধরে কানাডায় বসবাস করছেন এবং তিনি সে দেশের নাগরিক। তাঁর দুই মেয়ে দিশা ইসলাম ও বর্ষা ইসলাম জন্মসূত্রে কানাডার নাগরিক। কানাডায় নিজের বৈধ ব্যবসার আয় থেকে নিয়ম মেনে বাংলাদেশে প্রবাসী আয় পাঠিয়ে তিনি এ দেশে ব্যবসা পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করছেন বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদকের বক্তব্য:
গত বৃহস্পতিবার রাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) নেতৃত্বে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সমন্বয়ে গঠিত একটি দল গুলশানের টসবন্ড প্রাইভেট লিমিটেড নামের একটি বন্ডেড ওয়্যারহাউসে অভিযান চালায়। অভিযানে ওয়্যারহাউসটি সিলগালা করা হয়।
পরদিন শুক্রবার ডিএনসির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে প্রথম আলোতে এ-সংক্রান্ত খবর প্রকাশিত হয়। ওই দিন ডিএনসির মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ প্রথম আলোকে বলেছিলেন, ওয়্যারহাউসটির মালিক নূর ইসলাম। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনে মালিক হিসেবে নূর ইসলামের নাম উল্লেখ করা হয়। এখন শেখ নূর ইসলামের পক্ষ থেকে সেই মালিকানার তথ্য অস্বীকার করা হয়েছে।
সালমান মুক্তাদিরের সঙ্গে নিজের মেয়ে দিশা ইসলামের বিয়ের বিষয়টি প্রতিবাদপত্রেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে শেখ নূর ইসলামের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিয়ে তিনি বা তাঁর পরিবার মেনে নেননি এবং বিয়ের পর থেকে তাঁদের সামাজিক ও পারিবারিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন রয়েছে। সালমানের কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত সংবাদে ‘সালমানের শ্বশুর’ পরিচয়ে তাঁকে উপস্থাপন করায় আপত্তি জানিয়েছেন তিনি।