সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স গঠন করলেন ট্রাম্প, কী কাজ করবে এই ফোর্স
· Prothom Alo

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির এই যুগে বৈশ্বিক নেতৃত্ব ধরে রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স নামের এই টাস্কফোর্স দেশের নিরাপত্তা রক্ষার পাশাপাশি এআই খাতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কাজ সমন্বয় করবে। চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র যেন পিছিয়ে না পড়ে, তা নিশ্চিত করাই সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের প্রধান লক্ষ্য।
Visit iwanktv.club for more information.
ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্স গঠনের ঘোষণা দিয়ে জানান, যুক্তরাষ্ট্র যেন সুপার ইন্টেলিজেন্স খাতে বিশ্বজুড়ে তার শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখে, তা নিশ্চিত করতে এই বাহিনী কাজ করবে। জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জয় ক্লেটন এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেবেন। প্রশাসনের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাসহ তিনি এই টাস্কফোর্সের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ট্রাম্প এর আগে জানিয়েছিলেন, শুধু উচ্চ বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ব্যক্তিরাই এই পদের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এআই–নিরাপত্তা নিয়ে চলা বিতর্ককে পাত্তা না দিলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের গুরুত্ব তিনি ঠিকই অনুধাবন করেছেন।
হোয়াইট হাউসে প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ নির্বাহীরা সম্প্রতি একটি বিশেষ নিরাপত্তাচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এই বৈঠকের পর ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে নতুনভাবে সুপার ইন্টেলিজেন্স হিসেবে ব্র্যান্ডিং করার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জয় ক্লেটন এই সুপার ইন্টেলিজেন্স ফোর্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। এর ফলে তিনি কার্যত নতুন এআই বা এসআই জারের ভূমিকা পালন করবেন। এ ছাড়া ফেডারেল ট্রেড কমিশনের চেয়ারম্যান অ্যান্ড্রু ফার্গুসন, গবেষণা ও প্রকৌশলবিষয়ক যুদ্ধবিষয়ক আন্ডারসেক্রেটারি এমিল মাইকেল এবং পার্সোনাল ম্যানেজমেন্ট অফিসের ডিরেক্টর স্কট কুপার এই টাস্কফোর্সের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন এই টাস্কফোর্স ১২০ দিনের মধ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ঝুঁকি ও সম্ভাবনার দিকগুলো খতিয়ে দেখে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করবে। জয় ক্লেটন অতীতে একাধিকবার মন্তব্য করেছিলেন যে চীন যখন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের এই খাত থেকে পিছু হটে যাওয়া হবে সম্পূর্ণ দায়িত্বজ্ঞানহীন কাজ। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি জানান, এই প্রতিযোগিতায় সবার আগে থাকতে না পারাই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হতে পারে।
টাস্কফোর্সের নীতিমালায় বলা হয়েছে যে তারা সমাজ গঠনে এআই-সংশ্লিষ্ট হুমকির বিরুদ্ধে জবাবদিহিমূলক পরিকল্পনা তৈরি করবে। একই সঙ্গে তারা অতিরিক্ত নিয়মকানুন বা এমন কোনো আমলাতান্ত্রিক জটিলতা তৈরি হতে দেবে না, যা প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতাকে দমিয়ে রাখে। মার্কিন প্রশাসন মনে করে, প্রযুক্তি খাতের গতিশীলতা বজায় রাখতে অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে চলা জরুরি। নতুন এই টাস্কফোর্স গঠনের মাধ্যমে প্রযুক্তিদুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও সুসংহত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সূত্র: টেকক্রাঞ্চ