প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা ২০২৬। প্রাথমিক বিজ্ঞান (অধ্যায়–৬): শক্তির প্রধান উৎস হলো সূর্য
· Prothom Alo

প্রাথমিক বিজ্ঞান: বিস্তৃত প্রশ্ন
∎ অধ্যায়-৬
Visit sport-newz.biz for more information.
প্রশ্ন: ‘সূর্য শক্তির প্রধান উৎস’—এ কথাটি ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: পৃথিবীতে আমরা যত প্রকার শক্তি দেখি, তার প্রায় সব কটিরই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ উৎস হলো সূর্য। উদ্ভিদ সূর্যের আলোকশক্তি ব্যবহার করে সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় নিজের খাদ্য তৈরি করে এবং এই শক্তিকে রাসায়নিক শক্তি হিসেবে জমা রাখে। মানুষ বা অন্যান্য প্রাণী যখন সেই উদ্ভিদ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তখন সেই রাসায়নিক শক্তি তাদের দেহে স্থানান্তরিত হয়, যা ব্যবহার করে তারা শারীরিক কাজ বা গতিশক্তি অর্জন করে। এ ছাড়া বর্তমানে আমরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে সূর্যের আলোকশক্তিকে সরাসরি বিদ্যুৎশক্তিতে রূপান্তর করে সৌর প্যানেল চালাচ্ছি। এমনকি কয়লা বা পেট্রোলিয়ামের মতো জীবাশ্ম জ্বালানিও মূলত প্রাচীনকালের উদ্ভিদের সঞ্চিত সৌরশক্তি। তাই বলা যায়, খাদ্যের রাসায়নিক শক্তি থেকে শুরু করে আধুনিক বিদ্যুৎশক্তি—সবকিছুর পেছনেই সূর্যের ভূমিকা রয়েছে, যা সূর্যকে শক্তির প্রধান উৎস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
প্রশ্ন: ‘আলো সোজা পথে চলে’—বিষয়টি পরীক্ষণের আলোকে ব্যাখ্যা করো।
উত্তর: আলোর গতির একটি প্রধান ধর্ম হলো এটি সব সময় সোজা পথে চলে, যা একটি সহজ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা যায়। পরীক্ষায় তিনটি সমান উচ্চতার শক্ত কাগজের মাঝখানে ছিদ্র করে সেগুলোকে একটি মোমবাতির সামনে এমনভাবে রাখা হয়, যেন ছিদ্রগুলো একই সরলরেখায় থাকে। এই অবস্থায় মোমবাতিটি জ্বালালে আমরা কাগজের অপর প্রান্ত থেকে মোমবাতির আলো পরিষ্কার দেখতে পাই। কিন্তু যখনই মাঝখানের যেকোনো একটি কাগজকে কিছুটা সরিয়ে দেওয়া হয়, অর্থাৎ ছিদ্রগুলো আর একই সরলরেখায় থাকে না, তখন আলো আর দেখা যায় না। এর কারণ হলো, কাগজটি আলোর পথে বাধা সৃষ্টি করে এবং আলো বক্রপথে ছিদ্রটি খুঁজে নিতে পারে না। পরীক্ষাটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে আলো সরলরেখায় বা সোজা পথে চলাচল করে।
প্রশ্ন: বাড়িতে আমরা কোন কাজে কোন শক্তি ব্যবহার করে থাকি, তা ছকে উপস্থাপন করো।
উত্তর: আমরা আমাদের দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ সম্পন্ন করতে বিভিন্ন প্রকার শক্তির ওপর নির্ভর করি। নিচে তার একটি ছক দেওয়া হলো:
অন্ধকার ঘরকে আলোকিত করা (আলোকশক্তি)—বৈদ্যুতিক বাল্ব বা মোমবাতি জ্বালিয়ে আমরা এই শক্তি পাই।
টেলিভিশন দেখা বা কম্পিউটার চালানো (বিদ্যুৎশক্তি—তারের মাধ্যমে আসা বিদ্যুৎ আমাদের বিনোদন ও কাজের সরঞ্জাম চালায়।
রান্না করা বা কাপড় ইস্ত্রি করা (তাপশক্তি)—চুলা বা ইস্ত্রি থেকে পাওয়া তাপ দিয়ে রান্না ও পোশাক পরিপাটি করি।
শরীর গঠন ও চলাফেরা করা (রাসায়নিক শক্তি)—খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে শক্তি সঞ্চয় করি, যা পরবর্তী সময়ে যান্ত্রিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
রেডিও বা স্পিকারে গান শোনা (শব্দশক্তি বিদ্যুৎশক্তি) —স্পিকারের মাধ্যমে শব্দশক্তিতে পরিণত হয়।
মো. আবু সুফিয়ান, শিক্ষক
আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ঢাকা