সংক্রামক ব্যাধি থেকে মুক্তি পেতে যে দোয়া পড়তে হয়
· Prothom Alo

বর্তমান যুগে ভাইরাসজনিত নানা রোগ ছড়িয়ে পড়েছে। ইসলামি জীবনদর্শনে রোগব্যাধি বা প্রাদুর্ভাবকে শুধু এক দৈহিক যন্ত্রণা হিসেবে দেখা হয় না; বরং একে মানবজীবনের ভঙ্গুরতা, মহান আল্লাহর মুখাপেক্ষিতা এবং প্রাত্যহিক অসচেতনতা থেকে জাগ্রত হওয়ার এক আত্মিক স্মারক হিসেবে গণ্য করা হয়।
রোগব্যাধি ও মহামারির বিস্তার ঘটলে একদিকে যেমন চিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিরোধ গড়ে তোলার নির্দেশ রয়েছে, অন্যদিকে বিশ্বজাহানের মালিক প্রতিপালকের দরবারে আত্মিক সুরক্ষাকবচ বা দোয়ার মাধ্যমে আশ্রয় চাওয়ার বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
Visit newsbetting.club for more information.
মারাত্মক ব্যাধি থেকে সুরক্ষার দোয়া
মহানবী (সা.) তাঁর উম্মতকে শারীরিক অসুস্থতা, ছোঁয়াচে রোগ এবং জটিল ব্যাধি থেকে বেঁচে থাকার জন্য সর্বজনীন দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন। আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বলেন, নবীজি নিয়মিত এই বিশেষ দোয়াটি পাঠ করতেন:
দোয়া কি ভাগ্য পরিবর্তন করেউচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজু বিকা মিনাল বারাসি, ওয়াল জুনুনি, ওয়াল জুজামি, ওয়া মিন সায়্যিইল আসক্বাম।
অর্থ: “হে আল্লাহ, আমি আপনার কাছে শ্বেতরোগ, উন্মাদনা, কুষ্ঠরোগ এবং সব ধরনের কঠিন ও মারাত্মক ব্যাধি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।” (সুনান আবু দাউদ, হাদিস: ১৫৫৪)
‘সায়্যিইল আসক্বাম’ কী
নবীজির এই কালজয়ী দোয়ার অন্যতম অলৌকিক দিক হলো এর ভাষার ব্যাপকতা। দোয়ার শেষ অংশে ব্যবহৃত ‘সায়্যিইল আসক্বাম’ শব্দবন্ধের অর্থ হলো ‘যাবতীয় নিকৃষ্ট, কঠিন বা মারাত্মক ব্যাধি’।
ইসলামি পণ্ডিত ও হাদিসবিশারদদের মতে, এই একটি বাক্যের মাধ্যমে মহানবী (সা.) এমন সব ব্যাধি থেকে আশ্রয় চেয়েছেন, যা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে অচল করে দেয়, শরীরে দীর্ঘমেয়াদি যন্ত্রণা সৃষ্টি করে কিংবা মহামারির মতো ছড়িয়ে পড়ে।
এর মধ্যে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, ক্যানসার, পক্ষাঘাত বা যেকোনো নতুন নতুন সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ অন্তর্ভুক্ত।
সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য যে দোয়া শিখিয়েছে কোরআনইমাম নববি (রহ.) উল্লেখ করেছেন যে সাধারণ কোনো ছোটখাটো রোগ (যেমন সামান্য সর্দি-কাশি)—যা মানুষের পাপ মাফের কারণ হয়, তা থেকে ঢালাওভাবে আশ্রয় চাওয়া হয়নি; বরং যেসব রোগ মানুষের শরীরকে বিকল করে দেয়, অঙ্গহানি ঘটায় বা দীর্ঘমেয়াদে শয্যাশায়ী করে ফেলে (যেমন কুষ্ঠ, পক্ষাঘাত বা জটিল সংক্রামক ব্যাধি), সেগুলো থেকেই নবীজি মহান আল্লাহর কাছে সুরক্ষা চেয়েছেন। (ইমাম নববি, আল-মিনহাজ শারহু সহিহ মুসলিম, ১৭/৩৯, দারুল ইহইয়া আত-তুরাস আল-আরাবি, বৈরুত, ১৯৯৫)
আমলের নিয়ম
এই বিশেষ মাসনুন দোয়াটি পাঠ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে প্রাত্যহিক জীবনযাপনে এটিকে অভ্যাসে পরিণত করার কিছু উত্তম সময় রয়েছে:
সকাল-সন্ধ্যাকালের জিকির: প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় নিয়মিত দোয়াগুলোর সঙ্গে এই মাসনুন দোয়াটি অন্তত তিনবার পাঠ করা।
ফরজ নামাজ-পরবর্তী সময়: প্রতিদিনের পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ শেষে, বিশেষ করে যেকোনো মহামারি বা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের সময়ে আল্লাহর দরবারে হাত তুলে এই আশ্রয় প্রার্থনা করা।
অসুস্থ ব্যক্তির সেবা ও সচেতনতা: নিজে কিংবা পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে বা কোনো ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে পূর্ণ বিশ্বাসের সঙ্গে বারবার এই দোয়া পাঠ করা।
বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা ও সতর্কতার সঙ্গে নবীজির এই সুন্নতকে আঁকড়ে ধরাই হলো যেকোনো জটিল ব্যাধি ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার প্রকৃত ও শাশ্বত পথ।
দোয়া কি শুধু আরবিতেই করতে হবে