রিকশা ছাড়াতে থানায়, ‘ঘুষ না পেয়ে’ উল্টো চুরির মামলায় বাবা-ছেলে গ্রেপ্তার

· Prothom Alo

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী থানা থেকে রিকশা ছাড়াতে যান বাবা ও ছেলে। পুলিশের এক কর্মকর্তা তাঁদের কাছে দাবি করেন পাঁচ লাখ টাকা। টাকা চাওয়ার ঘটনা মুঠোফোনে গোপনে ধারণ করেন ছেলে। এসব ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে সেদিন চোরাই মালামাল কেনার মামলায় ফাঁসানো হয়েছে ওই দুজনকে।

Visit afnews.co.za for more information.

আজ রোববার দুপুরে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সফিউদ্দিন আহমেদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন সায়মা আক্তার নামের এক তরুণী। তিনি ভুক্তভোগী মো. শাহজাহান শেখের মেয়ে।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্ত, জব্দ করা সাইকেল ফেরত এবং পুলিশের নেওয়া মুঠোফোন ও সিসিটিভির হার্ডডিস্ক উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সায়মা আক্তার। তবে এসব অভিযোগ পুলিশ অস্বীকার করেছে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর টঙ্গিবাড়ী থানার সামনে পুলিশের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হয়, চোরাই বাইসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. শাহজাহান শেখ ওরফে শাহজাহান মুন্সী (৬৫) এবং তাঁর বড় ছেলে শামীম শেখকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁরা দুজনই টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আড়িয়ল ইউনিয়নের বিলের পাড় সানবাড়ী এলাকার বাসিন্দা। সেদিন শাহজাহান মুন্সীর গুদাম থেকে ৪২টি বাইসাইকেল ও দুটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সায়মা আক্তার বলেন, গত ১৯ অক্টোবর বালিগাঁও বাজারের ভ্যানচালক শাহীনের কাছ থেকে দুটি রিকশা কেনেন তাঁরা বাবা। রিকশার দাম ৩০ হাজার টাকা। ১৯ অক্টোবর ২৫ হাজার এবং ২২ অক্টোবর আরও ৫ হাজার টাকা পরিশোধ করেন তাঁর বাবা।

সায়মার অভিযোগ, ২২ অক্টোবর দুপুরে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাঁর বাবার গ্যারেজে গিয়ে তালা খুলতে চাপ দেন। একপর্যায়ে গ্যারেজ খুলে দুটি রিকশা নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় তাঁর ভাইকে মারধর করা হয়। গ্যারেজের সিসিটিভি ক্যামেরায় পুরো ঘটনার দৃশ্য ধারণ হয়েছিল। পরে পুলিশ সদস্যরা ক্যামেরা ভেঙে হার্ডডিস্ক নিয়ে যান। সেদিন সন্ধ্যায় রিকশা দুটি ছাড়িয়ে আনতে থানায় থেকে পুলিশ ফোন দেয়। তাঁর বাবা ও ভাই টঙ্গিবাড়ী থানায় যান। সেখানে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান আলীসহ আরও দুজন পুলিশ সদস্য তাঁর বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে রিকশা দুটি আটকে রাখা এবং তাঁদের দুজনকে চুরির মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর হুমকি দেওয়া হয়।

সায়মা বলেন, একপর্যায়ে তাঁর বাবা ৫০ হাজার টাকা দিতে রাজি হন। এ সময় তাঁর ভাই গোপনে নিজের মুঠোফোনে পুলিশের এক কর্মকর্তার সঙ্গে কথোপকথনের কিছু অংশ রেকর্ড করেন। বিষয়টি বুঝতে পেরে পুলিশ সদস্যরা ক্ষুব্ধ হন। তাঁরা ৫০ হাজার টাকা না নিয়ে তাঁর ভাইয়ের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন নিয়ে নেন। তাঁর বাবা ও ভাইকে থানায় আটকে রাখা হয়। বাবার গ্যারেজ থেকে ৪২টি সাইকেল নিয়ে যায় পুলিশ।

সায়মা জানান, সাইকেলগুলো তাঁর বাবা বিভিন্ন সময়ে মানুষের কাছ থেকে কিনে মেরামতের জন্য রেখেছিলেন। কিছু সাইকেল নিজেও কিনেছিলেন। মেরামতের পর সেগুলো ভাড়ায় চালানোর জন্য দেওয়া হতো। এগুলো তাঁর বাবার বৈধ ব্যবসার অংশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গিবাড়ী থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুর রহিম মোল্লার বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সায়মা বলেন, তাঁর ভাইয়ের মুঠোফোন ফেরত চাইলে তদন্ত কর্মকর্তা নানা টালবাহানা করছেন। তাঁর ভাইকে রিমান্ডে নেওয়ার ভয় দেখানো হচ্ছে। রিমান্ড থেকে রক্ষা করতে বালিগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসেন খানের মাধ্যমে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে সায়মা বলেন, তাঁর বাবা ও ভাইয়ের কাছ থেকে নেওয়া তিনটি মুঠোফোন এবং সিসিটিভির হার্ডডিস্ক উদ্ধার করতে হবে। হার্ডডিস্কের কোনো ভিডিও যেন মুছে ফেলা না হয়। ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করলেই তাঁদের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা টাকা দাবির অভিযোগ তদন্ত, মামলার প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁদের ব্যবসার সাইকেলগুলো ফেরত দেওয়ার দাবি জানান।

ওসমান আলী, টঙ্গিবাড়ী থানার এসআইটাকা কে চেয়েছে, এমন বিষয় আমি জানি না। তবে ভালো কাজ করলে বদনাম হয়। আমাকে জড়ানো হচ্ছে।

টাকা চাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বালিগাঁও ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কামাল হোসেন খান।

টাকা চাওয়া ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার বিষয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) ওসমান আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘টাকা কে চেয়েছে, এমন বিষয় আমি জানি না। তবে ভালো কাজ করলে বদনাম হয়। আমাকে জড়ানো হচ্ছে।’

মুন্সিগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরান হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘মামলার বিষয়টি তদন্তাধীন। যেহেতু গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের পক্ষ থেকে গুরুতর অভিযোগ এসেছে, সেটিও আমরা আমলে নিচ্ছি। তদন্তে যদি পুলিশের কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাঁদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Read full story at source