সেই সব ঈদ, সেই সব আনন্দ
· Prothom Alo

শৈশবে কোরবানির ঈদের আগের দিন সন্ধ্যায় সবাই মিলে ছড়া কাটতাম। কেউ হাত দিয়ে বোতলে শব্দ করত, কেউবা কনডেন্সড মিল্কের টিনে ছিদ্র করে তাতে মোমবাতি জ্বালিয়ে মিছিল করত। লোডশেডিং যেন আমাদের ঈদ–আনন্দকে বাড়িয়ে দিত।
Visit saltysenoritaaz.org for more information.
মিছিল করতে করতে প্রতিবেশীদের বাড়ি গরু দেখতে যেতাম। কে কত দামে গরু কিনেছে, কার গরু সবচেয়ে বড়—এসব নিয়ে চলত আলোচনা। দুষ্টু ছেলেগুলো কেউ গরুর দড়ি ধরে টান দিত, কেউ লেজে টান দিত।
ঈদের কয়েক দিন আগে থেকেই স্কুল ছুটি হয়ে যেত। তখন আমাদের প্রধান কাজ ছিল বাড়ির সামনের রাস্তায় দাঁড়িয়ে গরু দেখা আর দাম জিজ্ঞেস করা। মেঘনা নদীর তীর ঘেঁষে যে বিশাল গরুর হাট বসত, সেখান থেকে সারি সারি গরু এনে রাখা হতো পাড়ার অলিগলিতে। গরুগুলো সাজানো থাকত নানা রঙে। গলায় মালা, মাথায় রঙিন টুপি, শিংগুলো লাল রঙে মোড়ানো, ষাঁড় গরুর কুঁজে থাকত বিশেষ মালা ও ফিতা। আমরা গরুগুলোর বিশেষ নাম দিতাম। এখনো মনে পড়ে বাবার সঙ্গে প্রথম হাটে যাওয়ার কথা।
গরু কেনার পর আমাদের ঘুম গায়েব হয়ে যেত। গরুকে খড় খাওয়ানো, ঘাস কেটে আনা, গরুর পিঠে হাত বুলিয়ে দেওয়া—অজান্তেই জন্ম নিত মায়া। ঈদের ভোরটাও ছিল অন্য রকম অনুভূতির। শীতে কাঁপতে কাঁপতে গোসল করার সময় আমরা দুই ভাই–বোন মুখ দিয়ে ধোঁয়া বের করতাম।
নামাজ শেষে ফিরে এসে সবাই গরুর চারপাশে জড়ো হতাম। বুকের মধ্যে কেমন যেন চাপা উত্তেজনা, ভয়, রোমাঞ্চ আর আনন্দ মিলেমিশে অজানা এক অনুভূতি হতো।
আজও ঈদ আসে, কিন্তু সেই ছেলেবেলার ঈদ, নির্ভেজাল আনন্দ, লোডশেডিংয়ে মোমবাতিমিছিল, ছড়া কাটা আনন্দের মিছিল আর ফিরে আসে না। আমার শৈশবকে খুঁজে ফিরি বর্তমানের শিশুদের আনন্দে, ওদের চোখের উচ্ছ্বাসে।
বন্ধু, ভৈরব বন্ধুসভা