যৌনদৃশ্যসহ ৩৮ সেকেন্ড বাদ দিল সেন্সর বোর্ড, ভারতজুড়ে সমালোচনার ঝড়
· Prothom Alo

মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে আলোচনায় হরর সিনেমা ‘অবসেশন’। ২৯ মে ভারতেও মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। তবে কিছু দৃশ্যে কাটছাঁটের পর সিনেমাটি পেয়েছেন ‘এ’ বা অ্যাডাল্ট সনদ, যা নিয়ে অন্তর্জালে তৈরি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক।
দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন, প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্ধারিত একটি সিনেমা যদি শেষ পর্যন্ত কাটছাঁট করেই মুক্তি দিতে হয়, তাহলে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার অর্থ কী?
Visit esporist.com for more information.
কী কী বাদ দেওয়া হয়েছে?
ভারতের সেন্টাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ছবিটির চূড়ান্ত অনুমোদিত দৈর্ঘ্য প্রায় ১ ঘণ্টা ৫০ মিনিট। বোর্ড ছবিটি থেকে মোট ৩৮ সেকেন্ডের ফুটেজ বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে রয়েছে ২৪ সেকেন্ডের ‘চরম সহিংসতা’র দৃশ্য সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। ১৪ সেকেন্ডের যৌনদৃশ্য পুরোপুরি বাদ দেওয়া হয়েছে। একটি নগ্নতার দৃশ্যও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ধূমপান ও মদ্যপানের দৃশ্যে বাধ্যতামূলক সতর্কবার্তা যুক্ত করা হয়েছে।
ক্ষুব্ধ হররপ্রেমীরা
সিনেমাটি মুক্তির পরপরই এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রামসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে দর্শকদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। একজন দর্শক লিখেছেন, ‘এ সার্টিফিকেট দিয়ে আবার দৃশ্য কেটে দেওয়ার মানে কী? প্রথমে “সুপারম্যান”, এরপর “ধুরন্ধর”, আর এখন “অবসেশন”। সিবিএফসি কি মনে করে প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখার মতো পরিপক্ব নয়?’
আরেকজনের মন্তব্য, ‘ছবির ক্লাইম্যাক্সে এমন একটি কাট দেওয়া হয়েছে, যেখানে চরিত্রগুলোর অবস্থাই বদলে যায়। দর্শক বুঝতেই পারে না, আসলে কী ঘটল।’
কেউ কেউ আবার প্রশ্ন তুলেছেন, ‘যদি প্রাপ্তবয়স্করাও এসব দৃশ্য দেখতে না পারেন, তাহলে কারা দেখতে পারবেন, ভিনগ্রহবাসী?’
অনেক দর্শকের দাবি, বাদ দেওয়া অংশগুলো শুধু সহিংস বা যৌনদৃশ্যই ছিল না; বরং সেগুলো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মোড় বোঝার জন্যও প্রয়োজনীয় ছিল।
‘অবসেশন’ আসলে কী নিয়ে?
পরিচালক কারি বারকারের এই অতিপ্রাকৃত মনস্তাত্ত্বিক হরর ছবিতে অভিনয় করেছেন ইন্ডে নাভারেতে, কুপার টমলিনসন ও মাইকেল জন্সটন।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন এক সামাজিকভাবে অস্বস্তিকর স্বভাবের মিউজিক স্টোরের কর্মী। বহুদিনের ভালোবাসার মানুষকে পাওয়ার মরিয়া চেষ্টায় তিনি এমন এক অন্ধকার পথে হাঁটেন, যা ধীরে ধীরে ভয়ংকর ও অতিপ্রাকৃত রূপ নিতে শুরু করে।
সমালোচকদের প্রশংসা
সেন্সর বিতর্কের মধ্যেও ছবিটি সমালোচকদের কাছ থেকে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পেয়েছে। অনেকের মতে, এটি কেবল একটি ভূতের গল্প নয়; বরং ভালোবাসা, আসক্তি ও অধিকারবোধের সীমারেখা নিয়ে নির্মিত এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ।
সমালোচকদের ভাষায়, ছবিটির মূল প্রশ্ন হলো—ভালোবাসা আর আসক্তির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? যখন কাউকে নিজের করে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই প্রধান হয়ে ওঠে, তখন সেই অনুভূতি কি আর ভালোবাসা থাকে, নাকি তা ভয়ংকর এক আবেশে পরিণত হয়?
সেই কারণেই মুক্তির পর সিনেমার গল্পের চেয়ে এখন বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে ভারতের সার্টিফিকেশন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। দর্শকদের একাংশের মতে, যেসব দৃশ্য কাটা হয়েছে, সেগুলোই হয়তো ছবির মনস্তাত্ত্বিক অভিঘাতকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারত।
ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে