ঈদের তৃতীয় দিনেও ভিড় আহসান মঞ্জিলে, ইতিহাস-ঐতিহ্য ঘুরে দেখেন দর্শনার্থীরা
· Prothom Alo
‘বর্তমান প্রজন্মের অনেক শিশু মুক্তভাবে ইতিহাস জানার সুযোগ পায় না। তাই সন্তানদের নিয়ে এখানে এসেছি। ওরা খুব আগ্রহ নিয়ে বিভিন্ন কক্ষ ও পুরোনো জিনিসপত্র দেখেছে। ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে সময় কাটানোর পাশাপাশি ইতিহাস সম্পর্কে জানারও সুযোগ হয়েছে। এমন জায়গায় এলে শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়ে।’
কথাগুলো বলছিলেন ইভা আক্তার। থাকেন রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে। দুই সন্তান লিমন ও আয়ানকে সঙ্গে নিয়ে শনিবার তিনি পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক আহসান মঞ্জিলে ঘুরতে এসেছিলেন। সেখানেই কথা হলো ইভার সঙ্গে। কথার ফাঁকেই দুই সন্তানকে পুরো আহসান মঞ্জিল ঘুরিয়ে দেখান তিনি।
পবিত্র ঈদুল আজহার তৃতীয় দিন ছিল শনিবার। আগের দুই দিনের মতো এদিনও রাজধানীর বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনা আর দর্শনীয় স্থানগুলোয় দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল। বিকেলে আহসান মঞ্জিলে গিয়েও একই চিত্র দেখা গেল। দর্শনার্থীদের পদচারণে মুখর ছিল পুরো প্রাঙ্গণ। কেউ ছবি তুলছেন, কেউবা পরিবার নিয়ে এসেছেন। ঘুরে ঘুরে দেখছেন।
Visit biznow.biz for more information.
দক্ষিণ বনশ্রী থেকে এসেছিল রিদওয়ান হোসেন সাবিত। দশম শ্রেণিতে পড়ে সে। সঙ্গে এসেছে বাবা সানোয়ার হোসেন, মা তাসলিমা খাতুন ও ছোট বোন সাদিয়া হোসেন।
সাবিত বলল, আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে পাঠ্যবইয়ে পড়ে জেনেছে সে। এরপর থেকে দেখার ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।
চিড়িয়াখানায় বড় আকর্ষণ মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’, দেখতে এসেছেন ফিলিপাইনপ্রবাসী বাবা–ছেলেওকী কী দেখলে—জানতে চাইলে সাবিতের জবাব, ‘অনেক পুরোনো আর ঐতিহাসিক জিনিস দেখেছি। পাঠ্যবইয়ে যেটুকু পড়েছি, তার চেয়েও বেশি তথ্য জানতে পেরেছি। ইতিহাসকে কাছ থেকে অনুভব করতে পেরেছি।’
দশম শ্রেণির আরেকজন শিক্ষার্থী জীবন ইসলাম। পরিবারের সঙ্গে এসেছে কেরানীগঞ্জের কামরাঙ্গীরচর থেকে। সঙ্গে ছিলেন বাবা সোনাই মুনসী, মা আঁখি বেগম আর দুই বোন সোনালী ও মরিয়ম।
বাসা থেকে আসতে কিছুটা দেরি হওয়ায় পুরোটা ঘুরে দেখা সম্ভব হয়নি এ পরিবারের। বিকেল পাঁচটায় দর্শনার্থীদের জন্য আহসান মঞ্জিলে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাই তাড়াহুড়ো করে ঘুরে দেখে তাঁরা। এরপরও বেশ ভালো লেগেছে বলে জানায় জীবন।
জীবনের বাবা সোনাই মুনসী বলেন, ‘পরিবার নিয়ে ঈদের ছুটিতে একটু ঘুরতে বের হয়েছি। সন্তানদের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য এখানে নিয়ে এসেছি। সময় কম থাকায় সবকিছু ভালোভাবে দেখতে পারিনি। আবার আসার ইচ্ছা আছে।’
রাজধানীর ব্যস্ত জীবনের বাইরে পরিবার নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর জন্য এটি একটি উপযুক্ত জায়গা। একই সঙ্গে দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগও মেলে এখানে, বলছিলেন ঘুরতে আসা আশরাফুল আলম।
ঈদের তৃতীয় দিনে ভিড় বেড়েছে সাফারি পার্কে, বাসে ঘুরে প্রাণী দেখছেন দর্শনার্থীরা